বিদ্রোহী সংগঠন ”আরসা” প্রেস বার্তা পাঠালেন মিয়ানমার সরকারের কাছে

55.jpg

শামীম ইকবাল চৌধুরী,নাইক্ষ্যংছড়ি:মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত ২৫ আগস্ট ভোর রাতে লাগাতার ৯টি চেক পোষ্টে হামলা চালায় বিদ্রোহীরা । এরপরই রোহিঙ্গা অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় নিপীড়ণ-নির্যাতন। আর প্রাণে বাঁচতে সীমান্ত পেরিয়ে দলে দলে বাংলাদেশে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গারা। তবে অন্যান্য বারের চাইতে এবার শরণার্থীদের ঢল একেবারে পরিবর্তন দেখা দিয়েছে।অন্যান্য সময় রোহিঙ্গারা পুরো পরিবারসহ পালিয়ে আসলেও এবার শরণার্থীদের দলে যুবকদের সংখ্যা একেবারেই কম দেখা গেছে। এতে রোহিঙ্গাদের কেহ কেহ বলছে যুবকেরা বিদ্রোহী সংগঠনে যোগ দেওয়াতে তারা আমাদের সাথে আসেনি।আর এদিকে মিয়ানমারের নবগঠিত বিদ্রোহী সংগঠন আরকান রেহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসার) পক্ষ থেকে মিয়ানমার সরকারকে গত ৭ (অক্টোবর) শনিবার এক প্রেস বার্তার পাঠিয়ে জানানো হয়েছে, তারা মিয়ানমার সরকারের যে কোন শান্তির প্রস্তাবে সাড়া দিতে রাজি আছে।
এই বাস্তবতায় মিয়ানমারের প্রতি শান্তির আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্রোহী সংগঠন আরকান রেহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসার)।বিবৃতিতে আরও জানিয়েছে,যদি বার্মিজ সরকারের পক্ষ থেকে শান্তির জন্য কোনও আগ্রহ প্রকাশ করা হয় তবে এ,আর,এস,এ মিয়ানমার সরকারকে স্বাগত জানাবে এবং সে অনুযায়ী উদ্যোগও গ্রহণ করবে। মানব হত্যা ও জ্বালাও-পুড়া বন্ধ করার দাবীও জানান প্রেস বার্তার মাধ্যমে। এই প্রেক্ষিতে মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে এ,আর,এস,এ প্রস্তাবের বিষয়ে এখনও কোন রখম বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এর আগেও একটি প্রেস বার্তা পাঠিয়ে আরকান রেহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসার) যখন যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিল তখন সরকারের এক মূখপাত্র বলেছিল, সন্ত্রাসীদের সাথে আলোচনা করার জন্য কোনও নীতি নেই।
উল্লেখ্য, আগষ্ট নিরাপত্তা বাহিনীর চেক পোষ্টে আরসার দাবীকৃত হামলার পর ক্লিয়ারেন্স অপারেশন জোরদার করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তখন থেকেই মিলতে থাকে বেসামারিক নিধনযজ্ঞের আলামত। পাহাড় বেয়ে ভেসে আসতে শুরু করে বিস্ফোরণ আর গুলির শব্দ। পুড়িয়ে দেওয়া গ্রামগুলো থেকে আগুণের ধোঁয়া এসে মিশতে শুরু করে মৌসুমী বাতাসে।মায়ের কোল থেকে শিশুকে কেড়ে নিয়ে শূন্যে ছেড়ে দেয় সেনারা। কখনো কখনো কেটে ফেলা হয় তাদের গলা। জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয় মানুষকে।এই রাখাইন সহিংসতায় এ পর্যন্ত ৫লাখ ১৫হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনু প্রবেশ করেছে। এখনও রোহিঙ্গাদেরকে জোড় করে তাড়িয়ে দিতে নতুন করে দ্বিগুণ শক্তিতে অভিযান শুরু করেছে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। এতে আরও ৩ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের সিমান্তের দিয়ে প্রবেশ করার আশঙ্ক তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতায় রাখাইন প্রদেশে অবাধ প্রবেশাধিকার চাইছে জাতিসংঘ।