রাখাইনে দমন অভিযান : টেকনাফ স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি

Y.jpg

নুরুল করিম রাসেল:মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নিধনে চলমান সহিংসতার কারণে টেকনাফ স্থল বন্দরে সেপ্টেম্বর মাসে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। গত সেপ্টম্বর মাসে ৬ কোটি ৮২ লাখ টাকার রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা রাজস্ব কম আদায় হয়েছে। মিয়ানমার থেকে পণ্য আমদানি কম হওয়ায় রাজস্ব আদায়ও কম হয়েছে বলে জানা গেছে।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, সেপ্টেম্বর মাসে ১৪১টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ৫ কোটি ৬৭ লাখ ১৬১ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। যার বিপরীতে মিয়ানমার থেকে ২৮ কোটি ৪৭ লাখ ২২ হাজার ৬৬২ টাকার পণ্য আমদানি হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক এই বন্দরে ৬ কোটি ৮২ লাখ টাকা মাসিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। মাসিক লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ কোটি ১৪ লাখ ৯৯ হাজার ৮৩৯ টাকা কম আদায় হয়েছে। অপরদিকে ১৬টি বিল অব এক্সপোর্টের মাধ্যমে মিয়ানমারে ৩৭ লাখ ৯১ হাজার ৮৯২ টাকার পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে। গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার কারণে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের সীমান্ত বাণিজ্যের আমদানি-রপ্তানিদের ধ্বস দেখা দেয়। এর ফলে সীমান্ত বাণিজ্যে মন্দাভাব বিরাজ করে। দুদেশের সীমান্ত বাণিজ্য টেকনাফ-মংডু এলাকা দিয়ে পরিচালিত হতো। সেদেশে সমস্যার কারণে বাণিজ্য অনেকটা বন্ধ থাকে। এই সহিংসতায় মংডু থেকে বাণিজ্যিক পণ্য নিয়ে ট্রলারে আসা ৪৪ মিয়ানমার নাগরিক এখনও যেতে না পেরে টেকনাফে আটকা রয়েছে।
এদিকে চলতি অর্থবছরের গত জুলাই মাসে ৮ কোটি ৮৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছিল। একইভাবে আগস্ট মাসে ১০ কোটি ৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হয়। এই দুইমাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা বেশি রাজস্ব আয় হয়েছিল।
কিন্তু রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার পর থেকেই সীমান্ত বাণিজ্যের আমদানি রপ্তানিতে ধ্বস নামে। পরে কিছু দিন পর অল্প কিছু চাল, আচার ও আদা আমদানি হয়েছে। তারপরও চলতি সেপ্টেম্বর মাসের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়নি।
টেকনাফ স্থল বন্দর শুল্ক কর্মকর্তা এএসএম মোশাররফ হোসেন জানান, মিয়ানমারে সমস্যার কারণে বাণিজ্যে ধ্বর নেমে আসে। যার ফলে রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হয়নি। তারপরও হিমায়িত মাছ, গবাদি পশু ও আচার আমদানীর ফলে ৫ কোটি ৬৭ লাখ ১৬১ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। সেদেশে অবস্থা ভালো হলে রাজস্ব আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা এই শুল্ক কর্মকর্তার।