চকরিয়ায় স্কুল শিক্ষার্থী শ্যালিকা অপহরণ করেছে প্রবাসী দুলাভাই!

.jpg

প্রতিকী ছবি

এম.জিয়াবুল হক.চকরিয়া:চকরিয়ায় স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদেরকে বেদড়ক পিঠিয়ে জখমের পর এবার ৬ষ্ট শ্রেণীতে পড়–য়া অপ্রাপ্ত বয়স্ক শ্যালিকাকে অপহরণ করেছে বিদেশ ফেরত দুলাভাই। গত ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে সহযোগিদের নিয়ে শাশুড় বাড়িতে ঢুকে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি অস্ত্রের মুখে পরিবারের সকলকে জিন্মি করে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে গেছে শ্যালিকাকে। উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বমাইজপাড়া গ্রামে ঘটেছে এ ঘটনা।
এ ঘটনায় অপহৃতের বাবা আবুল কাশেম বাদী ৪জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ২ জনকে আসামী দেখিয়ে ওইদিন রাতেই চকরিয়া থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।
থানায় দায়ের করা এজাহারে বাদি আবুল কাশেম অভিযোগে জানান, চকরিয়া পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের ভেন্ডীবাজার বড়পাড়া গ্রামের মৃত নুরুল আলমের ছেলে জমির উদ্দিনের সাথে বিয়ে হয় তাঁর বড় মেয়ে রোকসানা আক্তারের। দূর্ভাগ্যবশত স্বামী জমির উদ্দিন মারা গেলে তার ছোট ভাই ( স্বামীর ভাই) আবদুল মন্নান বিয়ে করেন ভাবি রোকসানাকে। বিয়ের পর থেকে মান্নান স্ত্রীর উপর চালায় যৌতুকের জন্য নির্যাতন মারধর। এক পর্যায়ে বিদেশ থেকে এসে নির্যাতন করে রোকসানাকে তাড়িয়ে দেয় পিতৃালয়ে।
ইতোপুর্বে নির্যাতনের ঘটনায় স্ত্রী রোকসানা আক্তার বাদী হয়ে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্বামী আবদুল মন্নানের বিরুদ্ধে সিপি মামলা নং ৮৭৩ দায়ের করেন। বিদেশ ফেরত প্রতারক স্বামী মামলা তুলে নিতে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের। এমনকি বাড়িতে থাকা স্ত্রীর ছোটবোন অপ্রাপ্ত বয়স্ক স্কুল ছাত্রীকে অপহরণ করে ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে ধর্ষণ করারও হুমকি দেয়।
সর্বশেষ গত ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬ টায় আবদুল মন্নান, তার অপর বড় ভাই হেলার উদ্দিনের ইন্ধনে একটি হাইয়েস মাইক্রো গাড়ী নিয়ে স্ত্রী রোকসানার অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছোট বোন স্কুল ছাত্রী মনিকা জন্নাতকে (১৪) অস্ত্রের মুখে জোর পূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়।
ওইসময় বাধা দিতে গেলে অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা পিঠিয়ে আহত করে রোকসানা আক্তার (২০), তার অপর ছোট বোন মোবারকা জন্নাতকে (১৭)।
এ ঘটনায় রোকসানা আক্তারের বাবা আবুল কাশে বাদি হয়ে চকরিয়া থানায় দায়েরকৃত এজাহারে অভিযুক্ত করা হয়েছে বিদেশ ফেরত বড় মেয়ের স্বামী আবদুল মন্নান, তার ভাই হেলাল উদ্দিন, মৃত ধলা মিয়ার পুত্র আবুল কাসেম ও মোঃ হোসেনের পুত্র খলিলুর রহমানসহ অজ্ঞাত ২ জনকে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর থানার উপপরিদর্শক অপু বড়ুয়াকে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিয়ে অপহৃতকে উদ্ধারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। থানার এসআই অপু বড়ুয়া জানান, অপহরণকারী আবদুল মন্নানসহ অপরাপর অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।#