নৌকাডুবির ঘটনায় অর্ধ শতাধিক রোহিঙ্গা এখনও নিখোঁজ

ukhiya-pic-28-9-17-4_59227_1506703102.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক |

কক্সবাজারে উপকূলীয় জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইনানী পাটুয়ারটেক এলাকায় রোহিঙ্গাবোঝাই নৌকাডুবির ঘটনায় এখনও অর্ধ শতাধিক রোহিঙ্গা নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে শুক্রবার সকালে আরও চারজনের লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয় গ্রামবাসী। এদের মধ্যে ৩ জন শিশু ও একজন নারী। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত স্থানীয়রা নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ১৭ জন রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার করেন।

উদ্ধার করা ২১ জন রোহিঙ্গার লাশ ইনানী কবরস্থানে স্থানীয় চেয়ারম্যান এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জালিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরী।

এদিকে ট্রলারডুবির ঘটনায় সাগর থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের উখিয়া ও কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন আরও অর্ধ শতাধিক রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু নিখোঁজ রয়েছে।

উখিয়া সদর হাসপাতালে শুক্রবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডুবে যাওয়া ট্রলার থেকে উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গা মিয়ানমারের বুচিডং থানার মুইদং এলাকার আবুল কালাম (৪৫) জানান, আমীর সাহেব নামে একজন লোক মালয়েশিয়া থেকে ফোন করে আমাদের বোটে উঠে বাংলাদেশে চলে আসার কথা বলেন। তিনি টাকা-পয়সা সব বোট মালিককে দিয়ে দিয়েছেন বলে জানান। তার কথা মতো আমরা বুধবার রাত ৮টার দিকে শতাধিক রোহিঙ্গা ওই বোটে করে মিয়ানমারের নাইক্ষ্যংদিয়া থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করি।

বোটে স্ত্রী, ছেলেমেয়েসহ আমার পরিবারের ৭ জন ছিল। আমি এবং আমার দুই মেয়ে জীবিত উদ্ধার হতে পারলেও স্ত্রী ফিরোজা খাতুন (৪০), মেয়ে শাহেদা (১৪) মারা যায়।

তাদের লাশ পাওয়া গেলেও আরেক মেয়ে ছেনুয়ারা বেগম (৯) এখনও নিখোঁজ রয়েছে।
এছাড়া আমার শ্যালক মো. কাছিমকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও তার স্ত্রী শাহজান খাতুন (৩৫) এবং তাদের আড়াই ও এক বছরের শিশু রুকেয়া এবং জান্নাত সাগরে ডুবে মারা যায়।

মিয়ানমারের বুচিদংয়ের মুইদং এলাকার জামাল হোসেনের স্ত্রী রাশেদা বেগম (২৩) জানান, তিনি কোনোরকম কূলে আসতে সক্ষম হলেও তার ৭ মাসের মোহাম্মদ হোসাইন নামে এক ছেলে সাগরে নিখোঁজ হয়ে যায়।

তার এ সন্তান বেঁচে আছে কিনা জানেন না তিনি। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে পুরো হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী মোস্তাক মিয়া বলেন, বৃহস্পতিবার বিকালে সাগরে মাছ শিকার করতে গেলে একটি ট্রলার উপকূলের দিকে ভেসে আসতে দেখি। পরে সেখানে গিয়ে কোনো লোকজন দেখতে না পেয়ে ভয় পেয়ে যাই।

কিন্তু সাগরে কয়েকজনকে জীবিত ভাসতে দেখে আমি পাটুয়ারটেক এলাকার স্থানীয় লোকদের খরব দেই। ততক্ষণে সাগরে ঢেউয়ের সঙ্গে উপকূলে ভেসে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গাদের লাশ।

উদ্ধারকর্মী স্থানীয় রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবক ও পল্লী চিকিৎসক ডা. আব্দুল আজিজ বলেন, বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সাগর থেকে ২১ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছি।
এ সময় প্রশাসনের সহযোগিতায় মুমূর্ষু অবস্থায় আনোয়ার সাদেক, তার ভাই মোহাম্মদ সাদেক, তসলিমা বেগম, শাহেদ, আব্দুস সালাম তার ভাই আব্দুল গফুর, আব্দুর রশিদ, আবুল কালামসহ ১৮ জনকে উদ্ধার করি।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, উদ্ধার হওয়া লাশগুলো স্থানীয় গ্রামবাসীর সহযোগিতায় উপকূলের ইনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। আর জীবিত উদ্ধারকৃতদের উখিয়া ও কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।