প্রায় ১লাখ রোহিঙ্গা নাইক্ষ্যংদ্বীয়ায় জড়ো

TEKNAF-PIC-09.09.17.jpg

টেকনাফে অনুপ্রবেশকারী ২ রোহিঙ্গা আরাকানের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে ব্যস্ত
মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য (আরাকান) এর বুসিডং থানার রাসিদং পাড়ার মৃত আব্দুল মজিদের পুত্র খারুল আমিন (৩২) ও দক্ষিণ শীলখালী পাড়ার মৃত আলী হোসনের পুত্র আবদুস সালাম (৫০) গত ৮ সেপ্টম্বর মিয়ানমারের নাইক্ষ্যংদ্বীয়া থেকে ট্রলার যোগে দুই পরিবারসহ ৩৯ জন রোহিঙ্গা মুসলিম পরিবার সাগর পথ দিয়ে টেকনাফের জিরোপয়েন্ট শাহপরীরদ্বীপে উঠেন। ৯ সেপ্টম্বর বিকাল ৫টায় টেকনাফ স্টেশানস্থ ছিদ্দিক মার্কেটে অবস্থান নেয়ওরা ঐ দুই পরিবার। নয়াপাড়া ও লেদা শরনার্থী শিবিরে যাত্রা প্রাককালে মিয়ানমারের মাতৃভূমি আরাকানের রাসিদং ও দক্ষিণ শীলখালীর সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের ব্যবহ্নত মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে ওপাড়ের ঘনিষ্ঠ আতœীয় স্বজনেরা বলেন, হালত বা অবস্থা অত্যান্ত নাজক। বেশ কয়েকটি পাড়া জনশুণ্য হয়ে পড়েছে। মিয়ানমারের সামরিক জান্তা, সীমান্ত রক্ষী বিজিপি ও উগ্রপন্থী রাখাইনের দমন নিপীড়ন, গণহত্যা অব্যাহত রেখেছে। সেই সাথে জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে, ঘর বাড়ী। প্রান বাচাতে অনেকেই এলাকা ছেড়ে পাহাড়ে আশ্রয় নিয়েছে। সে দেশের দক্ষিণ শীলখালীতে আটকে পড়া রশিদ আহমদ মোবাইল ফোনে এ পাড়ের আবদুস সালামকে জানায়, শীলখালী, ধুমছেপাড়া, কোয়াসং ও আদং এ চারটি পাড়া রাখাইন মিলিটারীরা জালিয়ে দেয় এবং ১০ হাজার মানুষের মধ্যে ৭ হাজার মানুষকে গণহত্যা করার পর জালিেেয় ফেলে। অপর ৩ হাজার মানুষ পাহাড়ে আতœগোপনে রয়েছে। বর্তমানে এ চারটি পাড়া জনমানবশূণ্য পড়ে। এমতাবস্থায় প্রান বাঁচাতে রোহিঙ্গারা নাইক্ষংদ্বীয়ায় বাংলাদেশের টেকনাফে আসতে অধীর আগ্রহের মধ্যে কালাতিপাত করছে। প্রায় ১লাখ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করার উদ্দেশ্যে নাইক্ষংদ্বীয়া রোধ বৃষ্টি উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অপেক্ষা করছে। অপরদিকে রাসিদং পাড়ার অধিবাসী খায়রুল আমীন তিনিও একই মোবাইল ফোনে সে দেশের অর্থাৎ আরাকানের সর্বশেষ হালত বা অবস্থা সম্পর্কে ওপাড়ের তার নিকট আতœীয় সোলতান আহমদ মোবাইল ফোনের জবাবে বলেন, অভাই এখানকার অবস্থা অন্যান্ত ভয়াবহ এবং যেন এখানে দোজখে রয়েছি। পাড়ায় পাড়ায় স্থল মাইল বা বোম পুতে রেখেছে। রোহিঙ্গাদের দেখা মাত্রই গুলি করে এবং এ ভয়ে আমরা ৫০ হাজার রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু কল্লোল পাহাড়ের গভীর অরন্যে লতাপাতা খেয়ে কোন রকম জীবনে বেঁচে আছি। জানিনা ভবিষ্যতে আমাদের অবস্থা কেমন হবে। তাহা একমাত্র আল্লাহই জানে। অনেকেই অর্থভাবে আসতে পাচ্ছেনা। প্রায় ১লাখের চেয়ে বেশী নির্যাতিত রোহিঙ্গা নাইক্ষ্যংদ্বীয়া সাগর পাড়ি জমাতে বাংলাদেশে আসতে অপেক্ষা করছে। খারুল আমিন সে দেশের বেসরকারী সাহায্য সংস্থা সলিডারিটি অগ্রনাইজেশনের ১জন কর্মচারী। ভবিষ্যতে স্বদেশে চলে যাবার ইচ্ছা আছে কিনা? জানতে চাইলে বলেন, জ্বলন্ত অগ্নি কোন্ডল থেকে বেঁচে প্রাণভয়ে এপাড়ে চলে এসেছি। আগুন নিবে গেলে এবং পরিস্থিতি ভাল হলে চলে যাব, ইনশে আল্লাহ।