নাফ-নদী ও সাগর পথে ঝাঁকে ঝাঁকে রোহিঙ্গারা টেকনাফে অনুপ্রবেশ ঘঠছে

Teknaf-pic-05.09.17.jpg

মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
মিয়ানমারের সামরিক জান্তার কর্তৃক আরাকানে অব্যাহত দমন, নিপিড়ন, নির্যাতন ও ধর্ষন আইয়ামে জাহেলিয়াতকে পর্যন্ত হার মানিয়েছে। জীবনের মায়ামমতা এবং মাতৃভূমি ত্যাগ করে আরাকানের সংখ্যালগু রোহিঙ্গা মুসলমান নারী, পুরুষ ও শিশু জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে নাফ-নদী ও সাগর পাড়ি দিয়ে টেকনাফ সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটছে। টেকনাফের হারাংখালী, মিনাবাজার, কাঞ্জরপাড়া, উলূবনিয়া, ওয়াব্রাং, উনচিপ্রাংসহ সীমান্তের নাফ নদীর পয়েন্ট ছাড়াও সাবরাং, কাটাবনিয়া, খুরের মূখ, বাহারছড়া, মুন্ডার ডেইল, টেকনাফের মহেশখালীয়াপাড়া, লেঙ্গুরবিল, হাবিরছড়া, বাজারছড়া ও বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালীপাড়া, শীলখালী ও শামলাপুর সাগর উপকূল দিয়ে ট্রলারযোগে জাঁকে জাঁকে রোহিঙ্গা মুসলমানেরা অনুপ্রবেশ ঘটছে। গত ৪ ফেব্রুয়ারী সাগর পথে প্রায় ৩শতাধিক মাছধরা ট্রলার বোঝাই প্রায় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার রোহিঙ্গা নাগরিক গভীর রাত্রে এসব পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ ঘঠছে। মংডু শহর থেকে দক্ষিণে উধং এলাকার আমানুল্লাহ জানায়, তাদের ১৫ জন পরিবার পরিজনসহ ৪০জন রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু একটি ট্রলার যোগে নাইক্যংদ্বীয়া থেকে টেকনাফের লেঙ্গুরবিল ঘাট দিয়ে চলে আসে। তিনি এ প্রতিবেদককে কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ও রাখাইন অগ্রপন্থি মিলে উধংপাড়াসহ বিভিন্ন রোহিঙ্গাদের বসতি এলাকা জালিয়ে দেয় এবং নির্বিচারে পুলিবর্ষন ও হত্যা, দমন নিপীড়ন ও নির্যাতন চালালে অবশেষে আমরা কৌশলে পালিয়ে এসেছি। অপর দিকে নাফ-নদীদিয়ে অনুপ্রবেশকারী আরাকানের সুজাপাড়া কলিমুল্লাহ বলেন, সুজাপাড়া হচ্ছে, ব্যবসায়ীদের এলাকা, এখানে ও অনুরূপ ভাবে জালাও পোড়াও শুরু করে দিয়েছে। আরাকানের দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকায় সে দেশের সামরিক জান্তার বর্বর নির্যাতন, মাত্রা অন্যান্য এলাকার চেয়ে বেশী বলে জানায় আবুল বশর । নির্যাতনের মাত্রা সহ্ন্য করতে না পেরে হাজার হাজার পরিবার নাফ-নদী অত্রিক্রম করে মিনাবাজার কাঞ্জারপাড়া, উলুবনিয়া ও উনচি প্রাং সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গারা টেকনাফ কক্সবাজার সড়কের উভয় পাশে জড়ো হবার পর মোছনি, লেদা ও উখিয়া কুতুপালং ক্যাম্পে আশ্রয় নিচ্ছে। এদিকে শাহপরীরদ্বীপ ও সাগর উপকূল দিয়ে আসা রোহিঙ্গারা টেকনাফ ষ্টেশানে এসে জড়ো হচ্ছে। পরে তারা ঐসব রোহিঙ্গা ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে গাড়ীযোগে চলে যাচ্ছে। একাদিক সূত্র অনুযায়ী গত ৭ দিনে টেকনাফে প্রায় ১লাখ ৭৫ হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটছে। একশ্রেণী দালাল, বোটের মাঝি অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে ১০ থেকে উর্ধে ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা খাদ্য ও মাথাগুজার ঠিকানা খুজে দিকবেদিক ঘুরে বেড়াচ্ছে।