রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের চিত্র ভয়াবহ : মালয়েশিয়া মানব পাচারকারীরাই রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছে : বঙ্গোপসাগরে ভাসছে শত শত রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা

Teknaf-pic_2-R_tt-pic.jpg

সোমবার বিকালে সাবরাং খুরের মুখ এলাকা থেকে তোলা বঙ্গোপসাগরে রোহিঙ্গা বোঝাই ফিশিং বোটের দৃশ্য

নুরুল করিম রাসেল, টেকনাফ টুডে ডটকম |
বঙ্গোপসাগরে ভাসছে নৌকা বোঝাই হাজার হাজার রোহিঙ্গা। অপরদিকে নাফ নদীর তীরবর্তী সীমান্তের দুই পারে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় আছে অন্তত লক্ষাধিক রোহিঙ্গা।

সোমবার বিকালে টেকনাফের বঙ্গোপসাগর উপকূলীয় সাবরাং খুরের মুখ পয়েন্ট থেকে শাহপরীরদ্বীপ পর্যন্ত সাগরে কয়েকশত রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা দেখতে পেয়েছেন স্থানীয়রা। এসব নৌকায় রোহিঙ্গারা রাখাইন থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। রাতের যে কোন সময় তারা সমুদ্র উপকূল দিয়ে অনুপ্রবেশ করতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা । আর যে নৌকা গুলো দেখা গেছে সেগুলো টেকনাফ সৈকত উপকূলের জেলে নৌকা। ধারনা করা হচ্ছে দালাল সিন্ডিকেট রাতের অন্ধকারে ফিশিং বোট গুলো নিয়ে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের বোঝাই করে নিয়ে আসে। মালয়েশিয়া মানব পাচারকারীরাই এখন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে মেতে উঠেছে বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের মাধ্যমে তারা কোটি টাকার বানিজ্য শেষ করেছে। সেই সাথে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে কয়েক মন সোনা।

আর এতে যেসব গডফাদারদের নাম জানা গেছে এরা হচ্ছে কুখ্যাত মালয়েশিয়া মানব পাচারকারী মিয়ানমার নাগরিক টেকনাফ শীলবুনিয়া পাড়ার বাসিন্দা কুখ্যাত হেফজ মাঝি, তার ভাই মহিবুল্লাহ মাঝি, একই এলাকার জব্বরের পুত্র অাবুল কালাম মাঝি, মো: মাঝি, শাহপরীরদ্বীপ ডেইল পাড়ার দুদু মিয়ার পুত্র শুক্কুর, পশ্চিম পাড়ার মো: শফির পুত্র নজির আহমদ, কবির আহমদ, মাঝের পাড়ার সিরাজের পুত্র কলিমুল্লাহ, ঘোলার পাড়ার জমির উদ্দিনের পুত্র কবিরা, পূর্ব উত্তর পাড়ার মৃত নজির আহমদের পুত্র জিয়াবুল, জালিয়া পাড়ার শামীম, পশ্চিম পাড়ার কালা ফকিরের পুত্র মো: জালাল, মিস্ত্রি পাড়ার হাসিমের ছেলে লম্বা সেলিম, মৃত বশির আহমদের ছেলে এনায়েত উল্লাহ, দক্ষিণ পাড়ার মোহাম্মদ উল্লাহ মাঝির ছেলে কাউছার, আনুর ছেলে ইলিয়াছ, ছলিমের জামাতা রশিদ আমিন, নুর হোসেন, শামসু, রহমত উল্লাহ, সাবরাং মুন্ডার ডেইল এলাকার মৃত ইউছুপ আলীর পুত্র ফজল মাঝি, কালু ফকিরের পুত্র আব্দুল আমিন প্রকাশ লালু মাঝি, টেকনাফ মহেষখালীয়া পাড়ার রফিক মাঝি, সৈয়দুল আমিন মাঝি হ্নীলা জাদিমুড়া এলাকায় রয়েছে আব্দু মোনাফের ছেলে আমীর হামজা ও ওসমান, জাদিমুড়া নয়াপাড়া এলাকায় সেলিম, বিএনপি আব্দুল আমিন প্রমুখ।

এদের মধ্যে ডেইল পাড়ার শুক্কুরের মালিকানাধীন ট্রলার ও মাঝিমাল্লাকে কোস্টগার্ড আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতে সাজা প্রদান করলেও শুক্কুর বহাল তবিয়তে রয়েছে।

এছাড়া হোয়াইকং, হ্নীলা, বাহারছড়া ও সাবরাং এলাকায় অনুরোপ দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে টেকনাফ পৌরসভার অলিয়াবাদ এলাকার ব্যবসায়ী জাফর আলম জানান, সোমবার বিকালে সাগর পাড়ে ভ্রমণে গিয়ে হতবাক হয়ে যান তিনি। সাগরে দেখতে পান শত শত রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা। তীরের কাছাকাছি
হওয়ায় শত শত রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা গুলি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। তিনি ধারনা করেন অন্তত ৫ শতাধিক নৌকা হতে পারে সেখানে।

অপরদিকে মঙ্গলবার নাফ নদী উপকূলের হোয়াইক্যং কাঞ্জর পাড়া ও রাখাইনের শীলখালী এলাকায় জড়ো হয়েছে অন্তত ৫০ হাজার রোহিঙ্গা। তারা নৌকায় করে সুযোগ বুঝে বাংলাদেশ সীমান্তে ঢুকার অপেক্ষায় রয়েছে। সোমবার রাতে টেকনাফ সীমান্তের কাঞ্জর পাড়া পয়েন্ট দিয়ে ১০ হাজারের বেশী রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে নাফ নদীর প্যারাবনে লুকিয়ে আছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

ইউএনএইচসিআর এর মতে বাংলাদেশে ইতিমধ্যে আশ্রয় নিয়েছে ৭৩ হাজার রোহিঙ্গা অপরদিকে জাতিসংঘের হিসাব মতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা ৬০ হাজার। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারনা অন্তত ১ লাখের বেশী রোহিঙ্গা গত এক সপ্তায় সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করেছে।