‘রাখাইন রাজ্যে ৮৬ জন হিন্দুকে হত্যা’

40344864_303.jpg

অনলাইন ডেস্ক |

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতায় ৮৬ জন হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশ গুপ্ত। তিনি আরও জানান, একইসঙ্গে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে হিন্দু রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর এবং লুট করা হয়েছে তাদের সব সম্পদ। আর এ কারণে রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় সাড়ে ৫শ হিন্দু রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু।

রবিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে আশ্রয় নেওয়া হিন্দু ধর্মাবলম্বী রোহিঙ্গাদের দেখতে যান রানা দাশ গুপ্ত। এসময় রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান।

রানা দাশ বলেন, ‘রাখাইনের মংডু চিকন ছড়ি নামক গ্রামে ৪৮৯ জন হিন্দু নারী, পুরুষ ও শিশু বসবাস করে আসছিল। কিন্তু হঠাৎ করে সেখানে সহিংসতা শুরু হয়। এসময় মুসলিমদের পাশাপাশি মংডু চিকন গ্রামের হিন্দুদের ওপরও আক্রমণ চালায় মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা। এসব সন্ত্রাসীরা এ পর্যন্ত ৮৬ জন হিন্দুকে হত্যা করেছে। একইসঙ্গে তারা হিন্দু রোহিঙ্গাদের সব সম্বল কেড়ে নিয়ে বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে।’

কুতুপালংয়ে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলছেন রানা দাশ গুপ্ত (ছবি- প্রতিনিধি)

রানা দাশ আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে ৫১৮ জন হিন্দু রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশু আশ্রয় নিয়েছে। এর মধ্যে কুতুপালংয়ে রয়েছে ৪৯৩ জন। গত ২৭ জুলাই থেকে হত্যা-নির্যাতন শুরু হয়। পালিয়ে আসা হিন্দু রোহিঙ্গারা জানিয়েছে, চিকন ছড়ি ছাড়াও ফকিরা বাজার, পুরান বাজার, সাহেব বাজার, লইট্টা পাড়ার হিন্দু রোহিঙ্গারা হামলার শিকার হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘গ্রাম বা পাড়া ছোট হলে তাতে হানা দেয় ৭০-৮০ জনের হামলাকারী দল। আর গ্রাম বা পাড়া বড় হলে ৩০০-৪০০ জনের হামলাকারী দল হানা দিয়ে থাকে। হামলাকারীদের গা কালো পোশাকে আবৃত থাকে, তাদের মুখ থাকে কালো মাস্কে ঢাকা। আর তাদের হাতে থাকে ছুরি, বন্দুক, চাপাতি, খন্তা, লোহা।’

তিনি বলেন, ‘হামলাকারীরা একটা বাড়িতে ঢুকেই ওই বাড়ির সদস্যদের পালানোর চেষ্টা না করতে বলে। পালানোর চেষ্টা করলে মেরে ফেলার ভয় দেখায়। পরে বাড়ির সদস্যদের হাত পেছনের দিকে নিয়ে বেঁধে ফেলে।’

এসময় রবনী শীল নামে এক হিন্দু রোহিঙ্গা এ প্রতিনিধিকে জানান, তিনি রাখাইনের মংডু চিকন গ্রামে বাস করতেন। কয়েক দিন আগে ২০ জনের মতো একদল মুখোশধারী তার গ্রামে হামলা করে। হামলাকারীরা এলোপাথারি কুপিয়ে গ্রামের অনেককে হত্যা করে, তারসহ আরও অনেকের বাড়িঘরে আগুন দেয়। এতে পরদিনই তিনি তার তিন ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে কুতুপালংয়ে পালিয়ে আসেন।

কালো শীল নামে প্রায় ৮০ বছর বয়স্ক অন্য এক রোহিঙ্গা জানান, তিনি রাখাইনের টেক বানিয়া গ্রামে থাকতেন। একদিন তার সামনে তিন হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তিনি তার ১৮ সদস্যের পরিবার নিয়ে পালিয়ে কুতুপালং আসেন।

এসময় রানা দাশ গুপ্ত ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি পরিমল কান্তি চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক তাপস হৌড়, কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক প্রিয়তোষ শর্মা চন্দন ও স্থানীয় ইউপি সদস্য বখতিয়ার আহমদসহ স্থানীয় নেতারা।

পরে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিনিধি দলটি তিনি হিন্দু রোহিঙ্গাদের মাঝে কাপড় ও খাদ্য বিতরণ করে।