ঘুমধুম সীমান্তে রোহিঙ্গা স্বামী -স্ত্রীর গুলিবিদ্ধ লাশ!

IMG_20170902_183933.jpg

শ.ম.গফুর, সীমান্ত থেকে ফিরেঃ

উখিয়ার পার্শ্ববর্তী ঘুমধুমের তুমব্রু পশ্চিমকুল সীমান্তের জিরো পয়েন্টের ওপারে গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গা স্বামী – স্ত্রীর লাশ পড়ে আছে এপারে। শনিবার বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে লাশ ২টি আত্মীয়সজনরা এপারে নিয়ে এসেছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিয়ানমারের তুমব্রু উত্তর পাড়া গ্রামের জহুর উল্লাহ (২৩), স্ত্রী আয়েশা বেগম (১৯) ও একমাত্র ১৩ মাসের শিশু সন্তান সহ গত ৩দিন আগে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতনের কারণে প্রাণ ভয়ে এপারে চলে আসে। তুমব্রু পশ্চিমকুল বাঁশ বাগানের জিরো পয়েন্টে ঝুপড়ি নির্মাণ করে বসত করছিলেন। শনিবার ঈদুল আযহার নামায আদায় করেন এপারে। বিকেলে ওপারে জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি নিজ বসত বাড়ি দেখতে যান স্বামী – স্ত্রী। সাথে একমাত্র শিশু সন্তানও ছিল। বিকেল ৫টার দিকে জহুর উল্লাহর ঘরে আকস্মিক মিয়ানমারের একদল সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) এসে হাজির। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই গুলি করে ঝাঁঝরা করে দেয় জহুর উল্লাহকে। স্ত্রী আয়েশার সামনে স্বামীকে হত্যার লোমহর্ষক চিত্র দেখে চিৎকার দিয়ে উঠলে তাকেও একই কায়দায় জানে মেরে মৃত্যু নিশ্চিত করে।সাথে থাকা ওই দম্পতির একমাত্র ১৩ মাসের শিশু সন্তান কে আছঁড়ে নিক্ষেপ করে চলে যায় মিয়ানমারের পুলিশ ও সেনাবাহিনী। স্বামী -স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পেয়ে এপার থেকে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে এপারে নিয়ে আসলেও ভাগ্যক্রমে একমাত্র শিশু সন্তানটি জানে বেচে গেলেও অবস্থা সংকটাপন্ন। স্বামী জহুর উল্লাহর বসতবাড়ি জিরো পয়েন্ট কাছাকাছি হলেও স্ত্রী আয়েশার পৈতৃক বাড়ি মেদাই গ্রামের ছৈয়দ আহমদের কন্যা বলে জানা গেছে। ঘুমধুম ইউপির চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, দুটি রোহিঙ্গার লাশ এপারে পড়ে আছে বলে শুনেছি। তুমব্রু বিওপির বিজিবির নায়েবে সুবেদার আবদুল হাকিম জানান, ওপার থেকে কিভাবে দুটি লাশ এপারে পড়ে থাকার কথা শুনেছি।