বেপরোয়া দালাল চক্রের কারণে শাহপরীরদ্বীপে রোহিঙ্গাদের লাশের মিছিল : টেকনাফ-হ্নীলা, হোয়াইক্যং ও শাহপরীরদ্বীপে সক্রিয় দালাল সিন্ডিকেট

Rohingha-lash.jpg

নাফ নদীতে নিহত রোহিঙ্গাদের ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিনিধি :

দালাল চক্রের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে শাহপরীরদ্বীপে গত দুইদিনে ২৩ রোহিঙ্গার সলিল সমাধি হয়েছে বলে
জানান স্থানীয়রা। শাহপরীরদ্বীপের স্থানীয় লোকজন জানান, দালালরা রোহিঙ্গাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে মিয়ানমার সীমান্তে গিয়ে মোটা অংকের বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের নিয়ে আসছিল। বিশেষ করে মালয়েশিয়া ও সৌদিআরবে থাকা মিয়ানমারের বাসিন্দারা তাদের স্বজনদের বাংলাদেশে নিয়ে আসতে দালালদের শরনাপন্ন হন। এই সুযোগে দালাল চক্র জনপ্রতি ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকার কন্ট্রাকে রোহিঙ্গাদের নিয়ে আসছিল। কিন্তু দালালরা এতে সন্তুষ্ট ছিল না। তারা ১০ জন ধারন ক্ষমতার ছোট ফিশিং বোটে ৪০ থেকে ৫০ জন করে রোহিঙ্গাদের বহন করতে থাকে। আর এতেই দূর্ঘটনা কবলিত হয়ে গত দুইদিনে ২৩ রোহিঙ্গা নারী পুরুষের সলিল সমাধি হয়েছে সাগরে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এক সময়ের মালয়েশিয়া মানব পাচারকারী দালাল চক্র রোহিঙ্গা ইস্যূ নিয়ে হঠাৎ চাঙ্গা হয়ে উঠে। তারা পুরোনো সিন্ডিকেট নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে টুপাইস কামিয়ে নিতে। এছাড়া পূর্ব থেকে সক্রিয় রয়েছে শাহপরীরদ্বীপ, টেকনাফ ও জাদিমুড়া কেন্দ্রিক আদম ঘাটের দালালরা।

এই দালাল চক্রের মধ্যে রয়েছে টেকনাফ হাঙ্গার ডেইল নারিকেল বাগান এলাকার বাসিন্দা সাবেক মিয়ানমার নাগরিক জব্বরের পুত্র আবুল কালাম। এই আবুল কালামের বাড়িতে এখনো অনেক রোহিঙ্গা রয়েছে বলে জানা গেছে। এই রোহিঙ্গাদের আবার বিদেশে পাচার করার চক্রের সাথে তার যোগসাজস রয়েছে।

শাহপরীরদ্বীপে রয়েছে মিস্ত্রি পাড়া এলাকার হাসিমের ছেলে সেলিম প্রকাশ লম্বা সেলিম, মৃত বশির আহমদের ছেলে এনায়েত উল্লাহ, আনুর ছেলে ইলিয়াছ, ছলিমের জামাতা রশিদ আমিন, নুর হোসেন, নাজির হোসেন, শামসু, দক্ষিন পাড়া এলাকার কবিরা, রহমত উল্লাহ।

হ্নীলা জাদিমুড়া এলাকায় রয়েছে আব্দু মোনাফের ছেলে আমীর হামজা ও ওসমান, জাদিমুড়া নয়াপাড়া এলাকায় সেলিম, বিএনপি আব্দুল আমিন প্রমুখ।

এই দালালদের আইনের আওতায় আনা গেলে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রনে আনা যেত বলে ধারনা স্থানীয়দের।
টেকনাফ উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক জানান, দালালদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসন ও আইন শৃংখলা বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। বৃহস্পতিবার শাহপরীরদ্বীপ মাঝের পাড়া এলাকা থেকে নুরুল আমিন নামে এক দালালকে কয়েকজন রোহিঙ্গাসহ হাতে নাতে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ৬ মাসের সাজা প্রদান করে কারাগারে প্রেরনের জন্য থানায় সোপর্দ করেছেন। জানা গেছে, ধৃত দালাল রোহিঙ্গাদের জিম্মি করে রেখে স্বর্ন ও নগদ টাকা হাতিয়ে নেয়। এসময় তার কাছ থেকে দুই ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া হোয়াইকং, হ্নীলা, বাহারছড়া ও সাবরাং এলাকায় অনুরোপ দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে শাহপরীরদ্বীিপে বিক্ষুদ্ধ জনতা দালালদের তিনটি ট্রলার আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে।