ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন রাখাইনের আকাশ

Tek-pic_629.08-Copy.jpg

টেকনাফ পৌরসভার ট্রানজিট জেটি থেকে রাখাইনের মংডুর বিভিন্ন গ্রামে অগ্নিকান্ডের দৃশ্য অবলোকন করছে সীমান্তের লোকজন

টেকনাফ টুডে ডটকম |
রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর হামলা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবারও রাখাইনে গ্রামের পর গ্রাম আগুন দিয়েছে সেনারা। ধোয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে রাখাইনের আকাশ।
স্থল পথে ট্যাংক ও সাজোয়া যান, অপরদিকে আকাশ থেকে হেলিকপ্টারে মর্টার ও মেশিনগানের গুলি ছুড়ে হত্যা করা হচ্ছে নিরীহ রোহিঙ্গাদের। হত্যাকান্ডের শিকার রোহিঙ্গাদের বেশীর ভাগ নারী ও শিশু। যুবকদের অনেককে সংঘর্ষ শুরুর আগেই ধরে নিয়ে গেছে বিজিপি বাকিরা সংঘর্ষ শুরু হলে পালিয়ে পাহাড়ে আশ্রয় নিয়েছে। ফলে গ্রামে থাকা নারী শিশুরা নির্বিচারে মারা পড়ছে সেনাবাহিনীর অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র সজ্জিত হামলায়। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা ও মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ও রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে পাওয়া ভিডিও চিত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এছাড়া মঙ্গলবার রাখাইনের পেরামপুরু, নয়াপাড়া, মংডু কাইন্দা পাড়া, টামবাগান, দারোগাপাড়া গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়ার দৃশ্য অবলোকন করেছে টেকনাফ পৌর এলাকার ট্রানজিট জেটি থেকে শত লোক।
এসময় জেটি এলাকায় ভীড় জমে যায় গ্রাম পুড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখতে।
টেকনাফে থানা এক রোহিঙ্গার সহায়তায় কোলাবিল এলাকার অপর রোহিঙ্গার সাথে কথা বলে জানা যায়, সেনারা ক্রমশ দক্ষিণ দিক থেকে গ্রাম জ্বালিয়ে ও হত্যাকান্ড চালাতে চালাতে উত্তর দিকে এগুচ্ছে।
পুড়িয়ে দেওয়া কয়েক গ্রামের লোক কোলাবিলে আশ্রয় নিলেও মঙ্গলবার সেই গ্রামের লোকজন উত্তর দিকে সরে যেতে শুরু করেছে। পলায়নপর রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের ঘুংধুম সীমান্ত। কোনরকমে পালিয়ে সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে পরে উখিয়ার কুতুপালং অথবা বালুখালী এলাকায় আশ্রয় নেবে এ উদ্দেশ্যেই তারা ছুটছে।
এছাড়া বিজিবির কড়াকড়ি সত্বেও টেকনাফ সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে রাতের অন্ধকারে কিছু কিছু রোহিঙ্গা ঢুকে পড়ছে সীমান্তের ভেতর। তাদের মধ্যে যারা ধরা পড়ছে বিজিবির হাতে তাদেরকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে ওপারে।