টেকনাফে বিকাশ এজেন্টসহ গ্রেপ্তার ৮, অবৈধ সিম ও টাকা জব্দ

Bkash.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক |

বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) অনুসন্ধানে নেমেছে অবৈধ অর্থ লেনদেন ও সম্পদ অর্জনকারীদের বিরুদ্ধে। সোমবার রাত থেকে দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে তারা অনুসন্ধানের মাধ্যমে অভিযান শুরু করেছে। সিআইডির অনুসন্ধানের প্রথম রাতেই টেকনাফ সীমান্তের চিহ্নিত ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদক কারবারি ভুট্টুসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা সবাই অবৈধ অর্থ লেনদেনে জড়িত।

প্রসঙ্গত, গ্রেপ্তার হওয়া ইয়াবা কারবারি নুরুল হক ভুট্টু গেল বছর টেকনাফ সীমান্তে ইয়াবার সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া ৫ জন সংবাদ কর্মীকে বেদম মারধর করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় সংবাদকর্মী প্রহারের মামলা রয়েছে। তিনি মামলায় পলাতক রয়েছেন।

এর মধ্যে চারজন বিকাশের এজেন্ট রয়েছে। তাদের কাছ থেকে ২০ লাখ নগদ টাকা ও অবৈধ ব্যবহারের ১০০টির মতো মোবাইল সীমও জব্দ করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিআইডি’র ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের স্পেশাল তত্ত্বাবধায়ক মোল্লা নজরুল ইসলাম।

এদের মধ্যে পৌর এলাকা থেকে গ্রেফতার ৪ বিকাশ এজেন্ট ও তাদের কর্মচারী হচ্ছে মো: তৈয়ুব, আব্দুর রহমান, নুরুল মোস্তফা ও রাশেল।

সিআইডি কর্মকর্তা মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি ঢাকার ফতুল্লা থানায় দু’টি অবৈধ অর্থ লেনদেনের মামলা দায়ের হয়।

ওই মামলার সূত্র ধরে সিআইডি’র ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানের সূত্র ধরে সোমবার রাতেই চট্টগ্রামের চন্দনাইশ এলাকা থেকে টেকনাফ সীমান্তের ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদক কারবারি ও দেশের শীর্ষ অবৈধ অর্থ লেনদেনকারী নুরুল হক ভুট্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাকে গ্রেপ্তার করে রাতেই টেকনাফ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ওখানে রাতেই অভিযান শুরু হয়। অভিযানে ভুট্টুর সহযোগীসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। যার মধ্যে চারজন বিকাশের এজেন্ট। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা ও ১০০টির মতো অবৈধ মোবাইল সিম জব্দ করা হয়েছে। তাছাড়া তাদের কোটি কোটি টাকা বিকাশে লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এমনকি ব্যাংকের মাধ্যমেও তারা লেনদেন করেছে।

তিনি বলেন, সারা দেশে অবৈধ অর্থ লেনদেনে কয়েকটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। সিআইডি’র ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট এই প্রথম অনুসন্ধানের মাধ্যমে অভিযান শুরু করেছে। অবৈধ লেনদেনে জড়িতদের সম্পদের তথ্যানুসন্ধানও শুরু করা হয়েছে টেকনাফ থেকেই।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, অবৈধ কারবারের মাধ্যমে সম্পদশালী হয়ে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনে টেকনাফের প্রায় ১০ থেকে ২৫ ব্যক্তি শীর্ষ স্থানে রয়েছে। পর্যায়ক্রমে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। সারাদেশে তাদের নের্টওয়াক রয়েছে। তাদের সবাইকে ধরা হবে। এমনকি পাঁচটির বেশি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে সারাদেশের এই অবৈধ অর্থ লেনদেনকারী নেটওয়ার্কে জড়িতদের বিরুদ্ধে।

এদিকে অভিযানের বিষয়ে তিনি বলেন, গত সোমবার রাত থেকে অভিযান শুরম্ন হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দিনভরও অভিযান চলছে। গ্রেপ্তার আটজনকে মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের মাধ্যমে বুধবার আদালতে প্রেরণ করা হবে।