চকরিয়ায় ধান ক্ষেত থেকে উদ্ধার করা যুবক হত্যাকান্ডের ক্লু উদঘাটন, ছোট ভাই গ্রেপ্তার

Chakaria-Pic.-Arshad-29.08.17.jpg

বড় ভাই হত্যায় আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয়া ছোট ভাই

এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া :
কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের নাপিতখালী মাদ্র্রাসা পাড়ার আব্দুর রহমানের পুরো পরিবার অতিষ্ট ছিল নেশাগ্রস্ত বড় ছেলে আবু হেনার নানা যন্ত্রনায়। ঘরে মালামাল দেখলেই নিয়ে গিয়ে বিক্রয় করতো এবং ছোট ভাইয়ের আয়ের টাকা হাতিয়ে নিয়ে মাদক সেবন করতো আবু হেনা। টানা চার বছর এ যন্ত্রনা সয়ে যেতে হচ্ছিল পরিবারকে। এ অবস্থায় তার স্ত্রী চলে যায় বাপের বাড়ি। এরপরও আবু হেনা নিয়মিত মাদক সেবন করে বাড়িতে ফিরে মা-বাবাসহ পরিবার সদস্যদের মারধর করতো। এতে চরম অতিষ্ট হয়ে ছোট ভাই আইসক্রীম ব্যবসায়ী আরশাদ (১৫) পাথর দিয়ে মাথা ফাটিয়ে এবং ছোরা দিয়ে পায়ের রগ কেটে বড় ভাই আবু হেনাকে ঘরের উঠানে হত্যার পর টেনে নিয়ে চকরিয়ার শিয়া পাড়া অংশে ফেলে রাখে ১৯ আগষ্ট রাতে।
বড় ভাইকে হত্যার অভিযোগে গতকাল মঙ্গলবার ভোররাতে ছোই ভাই আরশাদকে আটক করার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে এভাবেই হত্যার বর্ণনা দেয় বলে নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো.কাজী মতিউল ইসলাম। এর আগে সোমবার রাতে নিহত আবু হেনার দু’বোনসহ পরিবারের ৫ সদস্যকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার ভোররাত দুইটার দিকে আরশাদ বড় ভাইকে হত্যার ঘটনা স্বীকার করে। তার স্বীকারোক্তি মতে ভোররাতেই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুকান্ত চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হত্যায় ব্যবহৃত পাথর ও ছোরাসহ হত্যার সময় রক্ত লাগায় লুকিয়ে রাখা শরীরের জামা-কাপড় উদ্ধার করে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, গতকাল দুপুরে গ্রেফতারকৃত আরশাদ উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হত্যার ঘটনায় দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২১ আগষ্ট সোমবার দুপুরে উপজেলা খুটাখালী ইউনিয়নের শিয়া পাড়া এলাকার ধান ক্ষেত থেকে পঁচন ধরা আবু হেনার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এঘটনায় অজ্ঞাত আসামী দেখিয়ে থানায় মামলা হয়। লাশ উদ্ধারের এক সপ্তাহ পর হত্যার ক্লু উদঘাটন ও হত্যাকারী ছোট ভাই আরশাদকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান থানার ওসি মো.বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান।###