বৌদ্ধ ধর্মে যে কোন জীব হত্যা মহাপাপ : ফের আরাকান রক্তাত্ব

Teknaf-pic-28.08.17-copy.jpg

মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বৌদ্ধ বলেছেন, যে কোন জীব হত্যা করা মহাপাপ হলেও বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী রাখাইন সম্প্রদায় মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে সংখ্যা গরিষ্ঠ রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় আরাকান রাজ্যে সহিংস ঘটনা ভয়াবহতা বৃদ্ধি পেয়েছে। মংডু থেকে ঢেকিবনিয়া পর্যন্ত গোটা আরাকান রাজ্য আজ রক্তে লাল রঞ্জিত। আরাকানের শিলখালী ও ঢেকিবুনিয়া থেকে হালিমা খাতুন ও আনু মোবাইল ফোনে জানায় মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ও সীমান্ত রক্ষী বিজিপি যৌথভাবে পাড়া পাড়ায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ঘরবাড়ীতে অগ্নিসংযোগসহ রোহিঙ্গা নারী, শিশু ও পুরুষের উপর নির্বিচারে পাখির মত গুলি চালিয়ে যাচ্ছে। বেশ কয়েকটি পাড়ায় পুরুষশুণ্য হয়ে গেছে। প্রাণভয়ে অনেকেই সে দেশের নাফ নদীর পাড়ে আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে ফাড়ি জমাতে। আরাকান রাজ্যে তুমব্র ও বালুখালী থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায় হাজার হাজার রাখাইন সামরিক জান্তা সেখানে অবস্থান নিয়েছে। তারা রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর নির্যাতন অব্যাহত রাখায় সেখানকার বসবাসরত কয়েক হাজার রোহিঙ্গা নারী পুরুষ তুমব্র সীমান্ত এলাকায় জড়ো হয়েছে। অপরদিকে ঢেকিবনিয়া এলাকার রাখাইন সামরিক জান্তা হেলিকপ্টার থেকে বোমাবর্ষণ করছে। প্রাণ ভয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় ৫ জন রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর গুলিবর্ষন করলে, এতে ৭/৮ জন রোহিঙ্গা গুলিবিদ্ধ হয়। আহত হয় ৩ জন। আরাকান রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে ১০টি পাড়ায় রনক্ষেত্র পরিনত পয়েছে। পাড়াগুলো হচ্ছে, ঢেকিবনিয়া, চাম্বাকাটা, কোয়াংচিবন, মেধী, বালুখালী, নাচিদং, কল্যা ভাংগা, নাহপির চেইন, তুমব্র, শিলখালী, সিকদার পাড়া, আশিক্যাপাড়া, পুনোদং, মাংগালা ও সোনাপাড়া। প্রাপ্ত সংবাদে আরো জানা গেছে, মিয়ানমারের রাখাইন সামরিক জান্তা হেলিকপ্টার যোগে অস্ত্র এনে ঢেকিবুনিয়া ও বালুখালী এলাকায় ঘাটি এবং অস্ত্র মওজুদ করছে। পুরুষশূণ্য পাড়াগুলোতে রোহিঙ্গা যুবতীদের নির্বিচারে সামরিক জান্তা ও সীমান্ত রক্ষী বিজিপি কর্তৃক গণহারে ধর্ষণ করার পর হত্যা করে তাদের গুম করা হচ্ছে। অমানুবিক ও বর্বর নির্যাতনে নির্যাতিদের আর্তনাদে গোটা আরাকান রাজ্যের আকাশ বাতাসভারী হয়ে উঠেছে। এমতাবস্থায় তারা যাবে কোথায় ? এ নিয়ে তারা গভীর উৎকন্ঠার মধ্যে ভোগছেন। এ পৃথিবীতে আশ্রয় নেয়ার মতো কোন ঠিকানা নেই। এজন্য তারা ধুকে ধুকে মরছে। একমাত্র আল্লাহর উপর ভরসা করে নির্যাতিতরা খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল হচ্ছে, আরাকানের গভীর অরন্য ছাড়া অন্য কোন ঠিকানা নেই। সেখানে ও হেলিকপ্টার থেকে ব্যাপক গুলি ও বোমাবর্ষন করছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম স্বচিত্র ছবি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, আরাকানের নাফ নদীর উপকূলবর্তী বেড়ীবাঁধে প্রায় ২৫ হাজার রোহিঙ্গা নারী, শিশু ও পুরুষ বাংলাদেমের অনুপ্রবেশ গঠতে জড়ো হয়েছে। এদিকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে টেকনাফ সীমান্তের ৫৩ কিলোমিটার সীমান্ত জোড়ে বিজিবি ও কোষ্টগার্ড বাহিনীসহ অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েক করেছে। ২৭ আগষ্ট বিজিবির মহাপরিচালক আবুল হোসেন উখিয়া বালুখালী তুমব্রু সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করে স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে না পারে সে জন্য বিজিবি অতন্দ্র প্রহরীরমত দেশ প্রেমিকের ন্যায় কাজ করে যাবে। এ পর্যন্ত ১৫৩ জন অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের ফেরত দিয়েছে। মংডু থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে মিয়ানমার সামরিক জান্তা একই ভাবে হেলিকপ্টার যোগে বোমা বর্ষণ করে প্রায় ৩ শতাধিক ঘর বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। সেখানে আগুনের লেলিহান দেখা যাচ্ছে। অপরদিকে মায়ানমারের রাখাইন ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গত ২৪শে আগষ্ট থেকে বাংলাদেশ মায়ানমার সীমান্ত বাণিজ্য কার্যক্রমের আওতায় মংডু থেকে আমদানী পণ্য টেকনাফ স্থল বন্দরে আসছে না। এব্যাপারে টেকনাফ স্থল বন্দরের কাস্টমস্ সুপারের সাথে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি এর সত্যতা স্বীকার করেন।