বাংলাদেশের ভুখণ্ডে কোন সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বরদাশত করবোনা – ঘুমধুম সীমান্তে বিজিবির মহাপরিচালক

BGB-DG-PIC.jpg

Exif_JPEG_420

শ.ম.গফুর, উখিয়া (কক্সবাজার) থেকেঃ
মিয়ানমারের সহিংসতায় সীমান্তে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বিজিবির মহা পরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন বলেছেন,বাংলাদেশ অভ্যান্তরে অনুপ্রবেশ কঠোর হস্তে দমন করা হবে।কোন রোহিঙ্গা যাতে বাংলাদেশ অভ্যান্তরে প্রবেশ করতে না পারে তার জন্য বিজিবি করণীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। কোন সীমান্ত অরক্ষিত থাকবেনা। সীমান্ত প্রহরায় আরো ১৫ হাজার বিজিবির নতুন সদস্য নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সীমান্ত পয়েন্টের সেন্ট্রি পোষ্ট গুলোর আধুনিকায়ন এবং টেকসই মজবুত করা হবে। বাংলাদেশের ভুখণ্ডে কোন সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চলতে দেওয়া হবেনা। আমরা ( বাংলাদেশের মানুষ) বীরের জাতি। আমরা যুদ্ধ করে এদেশ স্বাধীন করেছি। স্বাধীন দেশের ফসল আমরাই ভোগ করবো। কোন অপশক্তিকে এদেশের ভুখন্ড অনৈতিক ভাবে ব্যবহার করতে দেবোনা। যেকোন সন্ত্রাসীর অপকর্ম আমরা রুখে দিতে প্রস্তুত। নতুন আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে দিতে পররাষ্ট্র নীতির মাধ্যমে আলোচনা হচ্ছে। নতুন করে কোন রোহিঙ্গার অস্তিত্ব আমরা দেখতে চাইনা।গত রবিবার (২৭ আগস্ট) বিকাল ৪ টায় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুমধুম সীমান্তে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় অবস্থান নেয়া রোহিঙ্গা জটলা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিক এসব কথা বলেন বিজিবির মহা পরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন।এসময় বিজিবি কক্সবাজারস্থ সেক্টর কমান্ডার, বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দিলীপ বণিক, কক্সবাজারস্থ ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মনজুরুল হাসান খান, টেকনাফস্থ ২বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল এসএম আরিফুল ইসলাম, ৩১ বিজিবি নাইক্ষ্যংছড়িস্থ অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল আনোয়ারুল আজিম, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম সরওয়ার কামাল, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রাজা মিয়া, ঘুমধুম ইউপির চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ, সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের পদস্থ কর্মকর্তা, বিজিবির পদস্থ কমান্ডার গণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গতঃবাংলাদেশ -মিয়ানমার সীমান্তে সময় যত গড়াচ্ছে, ততই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ মুখী হয়ে পড়ছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবি বরাবরই সর্তক অবস্থানে রয়েছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ প্রবন সীমান্ত পয়েন্ট সমুহে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পদস্থ বিভিন্ন সংস্থার দায়ীত্বশীলরা পরিদর্শন করেছেন।
তৎমধ্যে নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্তের ঘুমধুম জলপাইতলী এলাকায় জড়ো হওয়া রোহিঙ্গাদের অবস্থান দেখেন। যত শ্রীঘ্রই জড়ো হওয়া রোহিঙ্গাদের পুশব্যাক করার কথা জানান। বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দিলীপ বণিক বলেছেন, সরকারের তরফ থেকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির পাশাপাশি অন্য সংস্থার আইনশৃঙ্খলার বাহিনীও তৎপর রয়েছে। ইতিমধ্যে সীমান্তে জড়ো হওয়া রোহিঙ্গাদের পুশব্যাক করা হবে বলে জানান। ইতিমধ্যে ঘুমধুম সীমান্তের তুমব্রু পশ্চিমকুল, বাইশফাঁড়ি, কোনার পাড়া, জলপাইতলীতে অন্তত ৪ /৫ রোহিঙ্গা অবস্থান নিয়েছে। এরা অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানান, ঘুমধুম ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন জানান। উখিয়ার পালংখালী ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোজাফফর আহমেদ বলেন, উখিয়ার রহমতের বিল সীমান্তের ওপারে প্রায় ৫ /৬ হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় আছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করাটা আমাদের জন্য আপদ। সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টিতে রোহিঙ্গারাই দায়ী বলে তিনি জানান।
প্রসঙ্গতঃ মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ ও নিপীড়ণ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশের উখিয়ার পার্শ্ববর্তী নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্তের ঘুমধুম, তুমব্রু, নোয়া পাড়া, উখিয়ার পালংখালীর ধামনখালী, রহমতের বিলের নাফ নদীর মিয়ানমারের ওপারে কাঁটাতারের পাশে এবং টেকনাফের নাইট্যংপাড়া, দমদমিয়া, কেরুনতলী, জাদীদ মোরা, লেদা, রংগীখালী, হৃীলা, মৌলভী বাজার, খারাংখালী, নয়াবাজার, কাঞ্জরপাড়া, ঝিমংখালী, লম্বাবিল, হোয়াইক্যং, উলুবনিয়া, কাটাখালী, আঞ্জুমান পাড়া, রহমতের বিল, ধানমন্ডি খালী, বালুখালী জমিদার পেরার বিপরীতে মিয়ানমারের ওপারের উত্তর, পুর্ব ও দক্ষিণে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে পৃথক -পৃথক ভাবে অবস্থান নেয়া রোহিঙ্গা নারী -পুরুষের দল। প্রতিটি দলে শত -শত রোহিঙ্গা রয়েছে। যেখানে বৃদ্ধ ছাড়াও শিশু কিশোর -কিশোরী ও রয়েছে। বিজিবি রয়েছে কড়া প্রহরায়।ওপারে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় থাকা রোহিঙ্গাদের কিছু -কিছু পাহাড়ে আশ্রয় নিয়েছে।
তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি। কক্সবাজারস্থ ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক মনজুরুল হাসান জানিয়েছেন, সকাল থেকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সর্তক প্রহরায় রয়েছে বিজিবি। যেকোন অনুপ্রবেশ রুখে দিতে প্রস্তুত বিজিবি এমনই জানান বিজিবির এ কর্মকর্তা। এদিকে
রবিবার সকাল ৭টার দিকে ঘুমধুমের তুমব্রু কোনার, ঢেকিবনিয়া, চাকমা কাটা, কুয়াংচিবং, রাইমংখালী ও মিয়ার পাড়ার উপর দিয়ে হেলিকপ্টার চক্কর পাড়ার উত্তর -পুর্বে মিয়ানমারের অভ্যান্তরে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার চক্কর দেয় এবং সেনাবাহিনী এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। ফলে এপারের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও আতংক লক্ষ্য করা গেছে। গুলিবর্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে ঘুমধুম ইউপির চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন মিয়ানমার অভ্যান্তরে গুলিবর্ষণের শব্দ শোনা গেছে, একটি হেলিকপ্টার চক্কর দিতে দেখেছি। বিজিবি সদস্যরা সার্বক্ষণিক সর্তক প্রহরায় রয়েছে। কোন অবস্থাতে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ করত দেওয়া হবেনা। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে গত শনিবার সকাল ১০টায় উখিয়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্দ্যোগে সচেতনতা জরুরী সভা করা হয়। এতে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেন বলেন, কোন অবস্থাতে রোহিঙ্গারা প্রবেশ করতে না পারে তার নির্দেশনা দেন এবং সকলকে সজাগ থাকার আহবান জানান।