আরাকানে অরাজকতা : সদ্য ভূমিষ্ট সন্তান নিয়ে অনিশ্চয়তায় মোহছেনা

rohinga_56479_1503848590.jpg

সায়ীদ আলমগীর, কক্সবাজার |
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ঘুমধুম জলপাইতলী সীমান্ত পয়েন্ট। শূন্য রেখায় পলিথিনের তাবু টানিয়ে আতংকে বিচলিত হয়ে ক্ষণ গুনছেন সেখানে অবস্থান করা অসংখ্য রোহিঙ্গা।

সবার চোখে আরাকানে চলমান অরাজকতার আতংক দৃশ্যমান হলেও মোহছেনা বেগম (২০)’র অন্য অভিব্যক্তি।

এক সপ্তাহ পূর্বে পৃথিবীর আলো দেখানো কন্যা শিশুটিকে বাঁচানো যাবে কিনা এ নিয়েই বিচলিত সীমান্ত সংলগ্ন মিয়ানমারের মংডুর ঢেকিবনিয়ার রুহুল আমিনের স্ত্রী মোহছেনা।

তিনি জানান, মাত্র এক সপ্তাহ আগেই পৃথিবীর আলো দেখেছে তার কন্যা শিশু। সব কিছুই ঠিক ঠাক চলছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে আকস্মিক গোলাগুলি ও দূরের কিছু গ্রামের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়ার তথ্য আসে। এতেই চোখে ভাসে গত বছরের অক্টোবরের সেই পাশবিক নির্যাতনের চিত্র। তাই অসুস্থ শরীরে শিশু সন্তান কোলে অন্যদের সঙ্গে প্রাণ বাঁচাতে ছুটে আসা।

মোহছেনা বলেন, অমানবিক এক পরিস্থিতি পার করছি। পেছনে গুলি ও আগুনের লেলিহান শিখা-সামনে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রতিরোধ। অসহায় হয়ে খোলা আকাশেই পলিথিন টানিয়ে বসে অভুক্ত রাত-দিন পার করছি। নিজে মরি-বাঁচি এতে কোন অসুবিধা নেই। এখন বড় দুঃচিন্তা শিশুটিকে বাঁচাতে পারবো তো?

শুধু মোহছেনা নয়, একই পরিস্থিতিতে এলাকা ছেড়েছেন ৭০ বছরের বৃদ্ধ রশিদ আহমদও। তিনি জানান, আরকান রাজ্যের ঢেঁকিবনিয়া গ্রামে ৪ ছেলে ৬ মেয়ে নিয়ে তাদের পরিবার ছিল।

শুক্রবার দুই ছেলেকে ধরে নিয়ে গেছে সে দেশের সেনাবাহিনী।

তিনি নিশ্চিত, ধরে নিয়ে যাওয়া ছেলেরা আর জীবিত ফিরবে না। তাই বাকিদের নিয়ে প্রাণভয়ে বাংলাদেশের সীমানায় পালিয়ে এসেছেন তারা। মোহছেনা ও রশিদ আহমদের মতো কয়েক হাজার নারী-পুরুষ সীমান্তের জিরো পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে।

মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের রাখাইন রাজ্যে পুলিশ পোস্টে হামলার অজুহাতে নিরাপত্তা বাহিনী নিপীড়ন চালাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে পুলিশ পোস্টে হামলা এবং একটি সেনাঘাঁটিতে বিদ্রোহীরা ঢুকে পড়ার কথা বলে সেদেশের নিরাপত্তা বাহিনী।

এরপর শুক্রবার মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইনের বিভিন্ন গ্রামে ঢুকে গত বছরের মতো নির্বিচারে গুলি করে হত্যা ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া শুরু করে।