মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর ফের সহিংসতা

Shahid-Ukhiya-Pic-25-08-2017-1.jpg

শহিদুল ইসলাম, উখিয়া (কক্সবাজার) :
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় ফের বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে রোহিঙ্গারা। বৃহস্পতিবার রাতে রাখাইন রাজ্যে কয়েকটি পুলিশ চেকপোস্টে হামলার পর বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা বেড়েছে।
গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে ভোররাত পর্যন্ত নাফ নদী পার হয়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত রোহিঙ্গা নাগরিকরা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবি সদস্যরা ১৪৬ জন নারী, পুরুষ ও শিশুদের আটক করে মানবিক সহায়তায় পুনরায় স্বদেশে ফেরত পাঠায়। ফেরত পাঠানো রোহিঙ্গাদের মধ্যে কোনও যুবক নেই। শুধু বৃদ্ধ পুরুষ, নারী ও শিশুরা রয়েছে। বিজিবির এই কর্মকর্তা ফেরত পাঠানো রোহিঙ্গাদের বরাত দিয়ে বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার রাতে রাখাইন রাজ্যে সেদেশের সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের গোলাগুলি হয়েছে। এতে ১৮টি সেনাবাহিনীর চৌকিতে হামলা করা হয়েছে। এ কারণে এসব রোহিঙ্গারা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয়ের জন্য ছুটে আসছে।’ গতকাল শূক্রবার সকাল থেকে বিকেল সাড়ে ৫ টা পর্যন্ত উখিয়ার সীমান্তবর্তী পালংখালী ইউনিয়নের ধামনখালী, আঞ্জুমান পাড়া, রহমতের বিল ও ঘুমধুম ও তুমব্র“ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১০ হাজারের অধিক নারী, শিশু এদেশে ঢুকার অপেক্ষায় রয়েছে। তাদেরকে স্থানীয় গ্রামবাসীরা কোন সহযোগীতা করতে পারছেনা। স্থানীয় গ্রামবাসীরা বলছেন, এসব রোহিঙ্গার কারণে এখানকার এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। ধামনখালী গ্রামের আবদুল্লাহ বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে আল-ইয়াকিন নামের একটি সন্ত্রাসী সংগঠন মিয়ানমারের নাসাকার ৪টি চৌকি দখল করে নিয়েছে। গতকাল শূক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে ৭/৮ রাউন্ড গুলি বর্ষনের খবর শুনেছি। বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন বিজিবির পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের সেদেশে ফেরৎ পাঠানোর জন্য তৎপরতা শুরু করেন। পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোজাফ্ফর আহমদ বলেন, স্থানীয় চৌকিদার, ইউপি সদস্য ও গ্রামবাসীর সহযোগীতায় সীমান্ত এলাকায় সার্বক্ষনিক পুলিশ এবং বিজিবিকে সহযোগীতা করছি। কোন অবস্থাতেই রোহিঙ্গাদের এদেশে ঢুকতে দেওয়া হবেনা। ইউপি সদস্য নুরুল আমিন ও জয়নাল আবেদীন বলেন, রোহিঙ্গারা এদেশে এসে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই করছে। কিছু কতিপয় দালালদের কারণে রোহিঙ্গারা এদেশে আসার সুযোগ পাচ্ছে। তারাও স্থানীয় তরুন যুবকদের নিয়ে রাতভর সীমান্ত এলাকায় বিজিবির সাথে থাকবেন। ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল মঞ্জুরুল হাসান খান বলেন, সীমান্তে ব্যাপক জোরদার করা হয়েছে। কোন অবস্থাতেই রোহিঙ্গাদের এদেশে অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হবেনা। উখিয়া থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের পাঠানো হয়েছে। কক্সবাজার পুলিশ সুপার ড. একেএম ইকবালের নির্দেশে সন্ধার পর থেকে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের যাত্রীবাহী বাস সহ বিভিন্ন যানবাহনে পুলিশ সদস্যরা তল্লাশী চালাচ্ছে। সীমান্ত এলাকার লোকজনের মাঝে অজানা আতংক বিরাজ করছে। এ রিপোর্ট লেখাকালীন পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ এলাকায় সন্ত্রাসীদের সমন্বিত হামলায় ৯ পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার পর তার দায় চাপানো হয় রোহিঙ্গাদের ওপর। এ ঘটনায় ঘরহারা হয় ৩০ হাজার মানুষ। পালাতে গিয়েও গুলি খেয়ে মৃত্যু হয়েছে তাদের। মৃত্যুর ভয়ে বাংলাদেশে নতুন করে আশ্রয় নিয়েছে ৭০ হাজার রোহিঙ্গা। এসব রোহিঙ্গারা এখনো টেকনাফের লেদা, নয়াপাড়া, শামলাপুর ও উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালীর বস্তিতে অবস্থান করছে।