খুতবায় মাদকবিরোধী বক্তব্য, ইমামকে পিটিয়ে জখম

photo-1503591600.jpg

অনলাইন ডেস্ক |

মসজিদের ইমাম মাওলানা শরীফুল ইসলামকে রড দিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়। তিনি বর্তমানে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ছবি : এনটিভি
প্রতি জুমায় খুতবায় মাদকবিরোধী কথা বলতেন ইমাম মাওলানা শরীফুল ইসলাম (৪৮)। মাদক থেকে দূরে থাকার জন্য তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করতেন। শরীয়তপুরের বালুচড়া জামে মসজিদের ওই ইমামকে রড দিয়ে পিটিয়েছে এক দুর্বৃত্ত।

আজ বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর অবস্থায় মাওলানা শরীফুলকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাদকবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার কারণে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক গ্রহণের সঙ্গে জড়িত যুবকরা ওই ইমামের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। এই যুবকদেরই একজন এ ঘটনা ঘটিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অভিযুক্ত যুবকের নাম সলেমান সরদার।

ঘটনার খবর পেয়ে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং হাসপাতালে গিয়ে আহত শরীফুল ইসলামের খোঁজখবর নেন। তিনি জানান, অপরাধীকে ধরার চেষ্টা চলছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে এই হামলার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে দুপুরে শরীয়তপুর শহরে ইমাম পরিষদের উদ্যোগে তাৎক্ষণিক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে ইমাম পরিষদের নেতারা দ্রুত বখাটে সলেমান সরদারকে আটক করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

মাওলনা শরীফুল ইসলাম প্রায় তিন বছর ধরে শরীয়তপুর পৌরসভার বালুচড়া গ্রামের আলী ভেন্ডার বাড়ির জামে মসজিদে ইমামতি করছেন। তিনি নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানার চান্দের গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় চার বছর ধরে শরীয়তপুর পৌরসভার খেলসী এলাকায় স্থায়ীভাবে বাড়ি করে পরিবার নিয়ে বাস করেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকার কিছু উঠতি বয়সী যুবক ও তরুণ সমাজ মাদকের নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ায় মাওলানা শরীফুল ইসলাম বিভিন্ন সময় জুমার নামাজের খুতবায় মাদকবিরোধী বক্তব্য দিতেন। এতে কিছু মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী তাঁর প্রতি নাখোশ ছিল।

মাওলানা শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘গত শুক্রবার জুমার নামাজের খুতবায় মাদকবিরোধী বক্তব্য দেওয়ায় এলাকার বখাটে মাদকসেবী সলেমান সরদার আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। এর পর থেকে সে আমাকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকিধমকি দিয়ে আসছিল। আজ (বৃহস্পতিবার) ফজরের নামাজের পর আমি মসজিদের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। সকাল ৭টার দিকে সলেমান সরদার এসে আমাকে ঘুম থেকে ডেকে বলে তুই খুতবার আলোচনায় বেশি বাড়াবাড়ি করছ। তুই আজকে এই এলাকা থেকে চলে যাবি, নইলে তোর খবর আছে। তখন আমি তাকে বলি, আমি তো আপনার চাকরি করি না, আপনার কথায় কেন এলাকা ছেড়ে চলে যাব। এ কথা বলার সাথে সাথে সলেমান সরদার ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে ঘুষি-লাথি মারতে থাকে। লাথি ঘুষি খেয়ে আমি তখন চোখে কিছু দেখতেছিলাম না। পরে লোহার রড দিয়ে আমাকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। আমি এর বিচার চাই।’

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। আমি হাসপাতালে গিয়ে ইমাম সাহেবের খোঁজখবর নিয়েছি। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে। অপরাধীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’