বিচারের বাণী নিরবে কাঁদে : টেকনাফে এক মেধাবী ছাত্রী অপহরণের ঘটনা তদন্তে কালক্ষেপনের অভিযোগ

Teknaf-pic-24.08.17.jpg

বিশেষ প্রতিনিধি, টেকনাফ :
টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের নয়াপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সম্ভাবনাময় ৫ম শ্রেণির (রোল নাম্বার ১) মেধাবী ছাত্রী এবং হতদরিদ্র পরিবারের মেয়ে ছমিরা আক্তার (১০) একই প্রতিষ্ঠানের কর্মরত প্যারা শিক্ষক মোঃ হরুন কর্তৃক অপহরনের শিকার হয়েছে। অপহৃতা ছমিরা আক্তারের খালা জমিলা খাতুন নীজে বাদী হয়ে মোঃ হারুনকে অভিযোক্ত করে টেকনাফ মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগে উল্লেখ করেন, সাবরাং ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের লাফারঘোনার কবির আহমদের মেয়ে ছমিরা আক্তার (১০) নয়াপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির একজন মেধাবী ছাত্রী এবং একই ইউনিয়নের কর্মরত কম্পিউটার প্যারা শিক্ষক মোঃ হারুন। ছমিরা আক্তার অল্প সময়ে তার শরীর গঠন প্রক্রিয়া বৃদ্ধি পেলে উক্ত শিক্ষকের কুনজরে পড়ে এবং এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেম নিবেদন চলে। এতে ছমিরা আক্তার অমত প্রকাশ করে। তবে তার জীবনে কামনা বাসনা এবং সে ভবিষ্যতে মেধা ধারণ করে একজন ভালো আদর্শ শিক্ষিকা হবে। এমন প্রত্যাশা তার ছিল। কিন্তু এ আশা নিরাশা ধুলিস্বৎ করে দিল ঐ নরপশু শিক্ষক নামে কথিত প্যারা শিক্ষক সেই হারুন। ছমিরা আক্তার তার এ সিদ্ধান্ত অটল থাকলে অবশেষে গত ৮ আগষ্ট/১৭ প্রতিষ্ঠানে আসার পথে ঐ শিক্ষক কর্তৃক অপহরনের শিকার হয়। ঐদিন তাকে একটি সিএনজি গাড়ীতে জোরপূর্বক উঠিয়ে নিয়ে যায় বলে, বাদী অভিযোগে উল্লেখ করেন। এরপর থেকে সে এলাকা থেকে নিখোজ হয়ে যায়। পরে খুজা খুজি করে জানতে পারা যায়, তারা চট্টগ্রামেই অবস্থান করছে। পরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিয়ের আশ্বাস দিলে তারা এলাকায় চলে আসে এবং অপহৃতা ছমিরা আক্তার বিয়ে করতে অসম্মতি প্রকাশ করে। পরে তাকে কৌশলে বাড়ীতে নিয়ে আসে। এর ক্ষোভে অপহরনকারী মোঃ হারুন এর প্রতিশোধ নিতে অপহৃতা ছমিরা আক্তার এবং তার আতœীয়স্বজনকে মারধরের হুমকি ও ধমকি দিয়ে আসছে। এদিকে শিক্ষক হারুন ফেইসবুকে ষ্ট্যাটার্স দিয়েছে যে, পৃথিবীতে যা প্রয়োজন তা জোর করে নিতে হয়। এর প্রতিকার চেয়ে মেয়ের খালা জমিলা খাতুন নিজে বাদী হয়ে মোঃ হারুনকে অভিযুক্ত করে টেকনাফ মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা এস,আই, মোঃ সাইফুল। গত ২৩ আগষ্ট বিকালে টেকনাফ মডেল থানা চত্তরে অপহৃতার বাদী জমিলা আক্তারের সাথে দেখা হলে, সে উক্ত ঘটনা ব্যক্ত করে বলেন, অভিযোগটি তদন্তের জন্য এস,আই মোঃ সাইফুলের কাছে দেয়া হয়। কিন্তু তিনি তদন্ত করতে আজ অথবা কাল করব মর্মে শুধু কালক্ষেপন করেই যাচ্ছে। আর এ নিয়ে বাদী এক অনিশ্চয়তার মধ্যে ভোগছেন। এ সংক্রান্ত বিষয়ে নয়াপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোক্তার আহমদের কাছে জানতে চাইলে বিষয়টি সত্য এবং ছমিরা আক্তার একজন মেধাবী ছাত্রী বলে তিনি জানান। তদন্তকারী কর্মকর্তা এস,আই সাইফুলের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে, তিনি অভিযোগ পেয়েছেন এবং তদন্তকাছ শিঘ্রী শুরু হবে বলে জানান। এদিকে বাদীকে অভিযোক্তকারী প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছে এবং বাড়িতে হামলা চালাচ্ছে বলে সংবাদ কর্মীদের কাছে অভিযোগ করেন।