কালেরকণ্ঠে মিথ্যা প্রতিবেদন : নাইক্ষ্যংছড়িতে বরাদ্দ না এসেও ভাগাভাগির খবরে তোলপাড়

.jpg

শামীম ইকবাল চৌধুরী,নাইক্ষ্যংছড়িঞবান্দরবান)থেকে::
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে পাহাড় ধসের কোন বরাদ্দ না এলেও কালেরকণ্ঠ পত্রিকায় টাকা ভাগাভাগির খবর প্রকাশিত হওয়ায় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা বিষ্মিত এবং ক্ষুব্ধ হয়েছেন। গত ২০ আগষ্ট কালেরকণ্ঠ পত্রিকায় ওই প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘বান্দরবানে পাহাড় ধসের পর ত্রাণ মেলেনি, ৯০ লাখ টাকা ভাগাভাগি’। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে প্রাকৃতি দুর্যোগের সাহায্যের জন্য সরকার বান্দরবানের লামা, থানছি ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদকে ৩০ লাখ করে ৯০ লাখ টাকা অগ্রিম বরাদ্দ দিয়েছে। এ তথ্য গোপন রেখে প্রভাবশালী ৩০ ব্যাক্তি ওই টাকা ভাগ করে নিয়েছেন। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে ‘সরকারের বাধ্যবাধকতা থাকা স্বত্ত্বেও আমাকে না জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনওর যৌথ স্বাক্ষরে এই বরাদ্দ ব্যয় করেছেন। কিছু বলতে হলে তাঁরাই বলবেন।’ অথচ মঙ্গলবার রাতে মুঠোফোনে এ প্রতিদেককে শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ওই ধরনের কোন বক্তব্য তিনি কালেরকণ্ঠকে দেননি। কালেরকণ্ঠের প্রতিবেদক মিথ্যা বক্তব্য ছাপিয়ে আমাকে সমালোচিত করতে চেষ্টা করেছেন।’
নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, প্রতিবেদনে প্রকাশিত বক্তব্যটি তিনি দেননি। নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ইউপি) তসলিম ইকবাল চৌধুরী বলেন, ‘যেখানে বরাদ্দ আসেনি সেখানে ভাগ হওয়ার প্রশ্নই আসেনা। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টির লক্ষে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। তারই ধারাবাহিকতায় এ ধরণের মিথ্যা প্রতিবেদন জাতীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীল পত্রিকায় ছাপানো হচ্ছে। বিষয়টা খুবই দু:খজনক।’ বাইশারি ইউপি চেয়ারম্যান মো.আলম, দোছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান হাবিববুল্লাহ ও সোনাইনছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান বাহাইন মার্মাও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
জানতে চাইলে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম সরওয়ার কামাল বলেন, ‘কালেরকণ্ঠের প্রতিবেদনটি পড়ে আমরা হতবাক ও বিষ্মিত হয়েছি। উদ্দেশ্যমূলকভাবে সরকার ও সরকারি কর্মকর্তার সুনাম নষ্ট করতে প্রতিবেদনে অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।’ এ বিষয়ে কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।