টেকনাফের ইয়াবা সাম্রাজ্যে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কে এই ফিরুজ !

Firoj_yaba_top_50-tt-pic-.jpg

খাঁন মাহমুদ আইউব, টেকনাফ :
উপজেলার স্থল বন্দর, বাংলাদেশ মিয়ানমার ইমিগ্রেশন ও ট্রানজিট ঘাট কেন্দ্রিক একটি শক্তিশালী মাদক ও চোরাকারবারী সিন্ডিকেটের প্রধান ফিরোজ। পৌরসভার পুরাতন পল্লানপাড়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হলেও একসময়ের ইয়াবা পার্টনার ডাকাত হাকিমের সাথে অর্থের লেনদেনের বিরুধে বর্তমানে এলাকা ছাড়া। বসবাস করেন লেঙ্গুরবিল রোডের একটি সুরক্ষিত ভাড়া বাসায়। কখনো বোট মালিক সমিতির সভাপতি আবার কখনো পুলিশের সোর্স পরিচয়ে নিজেকে জাহির করে কোটিপতি বনে গেছে দিব্বি। বর্তমানে ডজনের বেশী ক্যাডার পরিবেষ্টিত হয়ে চলাফেরা তার।

তার নিয়ন্ত্রনে জালিয়াপাড়া এলাকার মৃত কালামের স্ত্রী হালিমা নামের এক জন মহিলা কে প্রধান করে হিজড়া সহ মিলিয়ে একটি সিন্ডিকেট মিয়ানমার থেকে ইয়াবা আমদানী করে বলে তথ্য রয়েছে স্থানীয়দের মাঝে। এই সিন্ডিকেটে বেশ ক’জন হিজড়া ও রয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। সামান্য বোট মালিক সমিতির নির্বাচনে কয়েক লাখ টাকা খরচ করার কারন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে তার মাদক ও কালোবাজারী ব্যবসা নিয়ন্ত্রনই প্রধান কাজ। অপরদিকে বোট মালিক সমিতি নিয়ন্ত্রনের সুবাদে কালোবাজারীদের কন্ট্রাক মতো মাল আমদানী করে এপাড়ে সীমান্তে খালাস করে দেয়ার মতো তথ্য জানা গেলো স্থানীয় লোকজনের কাছে।

সম্প্রতি তার জামাতার লাইসেন্স বিহীন মোটর বাইক বাস স্টেশনে টাফিক পুলিশ কর্মকর্তা কর্তৃক আটক করার কারনে তাকে জনসম্মূখে ২৪ ঘন্টার মধ্যে বদলি করার হুমকি দিয়ে ছিল। ঘটনাস্থলে তার এই দাপট সম্পর্কে জন সমালোচনা হয়েছে।

অপরদিকে চলতি মাসে সীতাকুন্ড পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া তার আপন মামা গফুরের কাছ থেকে জব্দকৃত ইয়াবাগুলোর সাথে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে স্থানীয় ভাবে প্রচার রয়েছে বেশ।

ইয়াবা পাচারের সুবিধার জন্য তার অপর ভাই মনিরকে দিয়ে রিলাক্স নামক দূরপাল্লার একটি গাড়ী পরিচালনা করার দায়িত্ব পাইয়ে দিয়েছিলো।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি মাদক ও অস্ত্র মামলা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে এইসব চোরাচালানের কাজে তাকে সাহায্য করতো ইমিগ্রেশন কাস্টম ও ইমিগ্রেশন পুলিশের এক কর্মকর্তা ।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য মতে তার নামে বেনামে অন্তত কোটি টাকার স্পদের পাহাড় রয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, ফিরোজ টেকনাফ থানা পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ ৫০ ইয়াবা ব্যবসায়ীর একজন।

এদিকে উক্ত ফিরোজ মাঝ খানে রোহিঙ্গা ডাকাত আব্দুল হাকিমের সাথে মিলে ইয়াবা ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত ছিলো। স্থানীয়দের কাছে প্রচার রয়েছে ইয়াবার টাকার ভাগবাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে পরবর্তিতে উক্ত ডাকাত হাকিমের চক্ষুশূল হয়ে এলাকা ছাড়া হতে বাধ্য হয়। সেই থেকে উভয়ের মাঝে সাপে-নেওলে সম্পর্ক।

গত ১৪ আগষ্ট ডিবি পুলিশের হাতে আটক হয়েও অদৃশ্য কারনে কোস্টগার্ড কর্তৃক কেড়ে নিয়ে ছাড়া পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। যদিও কোস্ট গার্ড সুত্র বিষয়টি ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে। উক্ত ঘ্টনায় টেকনাফ মডেল থানায় জিডি রেকর্ড হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।

তার ইয়াবা সিন্ডিকেটের অপর সদস্য বাস স্টেশন হোটেল রাজ মহলের নিছে এক ফল বিক্রেতার তথ্য রয়েছে।

স্থানীয় সুশীল ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের মতে অভিযুক্ত চোরাকারবারী ফিরোজকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা গেলে স্থল বন্দর, ইমিগ্রেশন ও ট্রানজিট ঘাট কেন্দ্রীক ইয়াবা ও চোরাকারবারী সিন্ডিকেটের আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।

তাই এখন প্রশাসনের কাছে স্থানীয়দের প্রশ্ন আদৌ ইয়াবা কারবারী ফিরোজ আইনের আওতায় আসবে কি?