ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে টেকনাফের নাইট্যং পাড়া ঘাট সরগরম : আসছে ইয়াবা ও স্বর্ণ

Hessarkhal.teknaf-pic-15.08.17.jpg

মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
ঈদুল আজহারকে সামনে রেখে, টেকনাফ পৌর শহরের আলোচিত নাইট্যং পাড়া চোরাইপয়েন্ট ইয়াবা ও মানবপাচার সরগরম হয়ে উঠেছে। নাফ নদী সংলগ্ম উত্তর নাইট্যং পাড়া এবং প্যারাবনের আড়ালে চলে ইয়াবা ও মানবপাচার রমরমা বাণিজ্য। এ চোরাপয়েন্টে সীমান্তরক্ষী বিজিবির দিবানিশি টহল জোরদার থাকলেও অনেক সময় তাদের ফাঁকী দিয়ে মিয়ানমার থেকে নৌকা যোগে ইয়াবা ও রোহিংগা অনুপ্রবেশ ঘটে। রাত ঘনিয়ে আসার সাথে চলে চোরাচালান বাণিজ্য। নাইট্যং পাড়া চোরাই পয়েন্ট ইয়াবা ও মানবপাচারের স্বার্থে দখলদারিত্ব নিয়ে ইতিপূর্বে প্রভাবশালীর মধ্যে আদিপত্য বিস্তার নিয়ে রশি টানাটানি শুরু হয়েছিল। উত্তর নাইট্যং পাড়ায় ২টি ঘাট নিয়ে মালিকানা এবং এর আড়ালে ইয়াবা ও মানবপাচার বাণিজ্য দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছে। প্রায় ৮ থেকে ১০ জন ইয়াবা সিন্ডিকেট এ ঘাট পরিচালনা করে নাইট্যং পাড়ার উক্ত সিন্ডিকেট এর হোতারা অল্প সময়ে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যায়। ইয়াবার বদৌলতে নাইট্যং পাড়ার দৃশ্যপট পাল্টে যাচ্ছে। নামে ঘাট মাত্র কামে চলে “ইয়াবার” রমরমা বাণিজ্য।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে প্রতি সপ্তাহে ৪ দিন নাইট্যং পাড়া ঘাট দিয়ে আসে মিয়ানমার থেকে রোহিংগা মানব ও সুন্দরী রমনীর আড়ালে চলে আসে লাখ লাখ ইয়াবার চালান। গভীর রাত হলেই এ দুইটি ঘাট সরগরম হয়ে উঠে। কোরবান যতই ঘনিয়ে আসছে মিয়ানমার থেকে নৌ-পথে ততই আলোচিত ঘাট দিয়ে ঢুকছে হস্তচালিত নৌকাযোগে আসছে ইয়াবা, স্বর্ণ রোহিঙ্গা মানব ও সুন্দরী রমনী। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বা পত্রিকায় নাইট্যংপাড়া ঘাট সংক্রান্ত বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে মধ্যে মধ্যে ঘাট বন্ধ হয়ে থাকে। পরে পরিস্থিতি বুঝে ফের খুলে দেয়া হয়। সম্প্রতি ঘাট নিয়ন্ত্রনকারী জনৈক ইসলাম ইয়াবাসহ আইন শৃংখলা বাহিনী কর্তৃক আটক হয়। এর পর নিয়ন্ত্রন করছেন তার স্ত্রী। এভাবে হাতবদল হয়ে চলে চোরাচালানী ঘাট। বিজিবি অতীতে প্রায় সময় এ ঘাট এলাকা থেকে ইয়াবার চালান জব্দ করে আসছে। কিন্তু নেপথ্যে এর সাথে জড়িত হোতারা থাকে নিরাপদে । গত ১২ আগষ্ট বিজিবি নাইট্যং পাড়া বরফ মিলের পার্শ্বে অভিযান চালিয়ে ১লাখ পিস ইয়াবার চালান জব্দ করে। এসময় বিজিবি কাউকে আটক করতে পারেননী। নাইট্যং পাড়া চোরাইপথ দিয়ে আসা বস্তা বস্তা ইয়াবা এবং স্বর্ণ বেশীরভাগ নাইট্যং পাড়া সংলগ্ম বাস টার্মিনালের যাত্রীবাহী বাস এবং পরিবহন ট্রাকের আড়ালে এবং আলেদা যোগান তৈরী করে ইয়াবা ও স্বর্ণের চালান পাচার হয়ে যায়। নাইট্যং পাড়ার যে ক’জন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের তালিকা ভূক্ত ইয়াবা কারবারী এবং পেশাদার চোরাকারবারীর যোগ সাজসে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা ও স্বর্ণের চালান সহজে আসার নেপথ্যে যে, বিষয়টি কাজ করছে দুদেশের সীমান্ত পর্যায়ে আত্মীয়তার বন্ধন। কেননা নাইট্যং পাড়ার প্রায় লোক মিয়ানমারের বংশদ্ভুত। তারা বাংলাদেশী নাগরিক সেজে এ ব্যবসা চালিয়ে জিরো থেকে অনেকে হিরো বনে গেছেন। আয়ের উৎস্য ছাড়াই ওরা কিভাবে এতো অর্থ ও বিত্তের মালিক বনে গেলেন, তাই বিষয়টি সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নাইট্যংপাড়ার কয়েকজন রিক্সাওয়ালা বলেন, শুধুমাত্র ইয়াবা ব্যবসায়ীকে দায়ী করলে হবেনা, এর চেয়ে বেশী দায়ী সীমান্ত রক্ষীরাও। চলবে……।