সাহসী পুলিশ অফিসার এস আই আবু মুছার সৎ সাহসী ও সততার দৃষ্টান্তে ফের দায়িত্ব পেলেন নাইক্ষ্যংছড়িতে

Capture.jpg

শামীম ইকবাল চৌধুরী,নাইক্ষ্যংছড়ি(বান্দরবান)খেকেঃঃ
পুলিশ জনগণের বন্ধু। জানমালের নিরাপত্তা বিধান হিসেবে পালন করে আসতে হয় পুলিশের। তাই এ ক্ষেত্রে অনেক পুলিশ কর্মকর্তা কিংবা সদস্য দায়িত্বকে অবহেলা করে বাঁকা পথে হাঁটেন। আবার আমরা প্রায়ই শুনে থাকি বিভিন্ন পুলিশ অফিসারের সৎ ও সাহসিকতার কথাও। সাহসি ও সৎ পুলিশ অফিসারেরা দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনকে মূলনীতি হিসেবে অনুসরণ করে বছর কয়েক আগেও নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়নে এস,আই আনিসুর রহমান নামে এক পুলিশ অফিসারের সৎ সাহসী ও মহৎ মানবীয় দৃষ্টান্ত স্থাপনের কথা শুনিয়ে আসছিলাম এলাকার মানুষদের কাছ থেকে। এবার সেই এস আই আনিসুর রহমানের রেকর্ড ভেঙ্গে দিলেন আর এক সৎ, সাহসী ও মহৎ মানবীয় সততার দৃষ্টান্তে কতৃক্ষের আদেশে ফের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন পুলিশ অফিসার এস,আই মোঃ আবু মুছাকে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২০১৬ সালের আগষ্ট মাসের ১ম সপ্তাহে বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে যোগদান করেন বর্তমান ইনচার্জ উপপরিদর্শক আবু মুসা। বিগত একটি বছর উল্লেখযোগ্য তেমন কোন ঘটনার জন্ম হয় নাই। তবে এসআই মুসাকে অনেকে আবার ফায়ার মুসাও বলে থাকে। তিনি সন্ত্রাসীদের ধরতে গিয়ে প্রায় সময়ই ফায়ার করে থাকেন। তাছাড়া বিগত বছরে জেলায় সবচেয়ে বেশি ফায়ার করেছেন তিনি। যার কারণে ফায়ার মুসা হিসেবে খ্যাত।
এসআই মোঃ আবু মুসা যোগদানের তিন মাস আগে বাইশারী বাজারে শক্তিশালী বোমা বিষ্ফোরণ ঘটায় সন্ত্রাসীরা। এসময় এক পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়। এছাড়া পরপর ভান্তে হত্যা, আওয়ামীলীগ নেতা মংশৈলুং মার্মা হত্যা, অপহরণ, মুক্তিপন বানিজ্য সহ নানা অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল। একটার পর একটা ঘটনা লেগেই ছিল। কিন্তু বিগত ২০১৬ সালের আগষ্ট মাসে এসআই মুসা যোগদানের পর থেকে আস্তে আস্তে কমে যায় সন্ত্রাসীর কার্যক্রম। বন্ধ হয়ে যায় খুন-খারাবি, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও মুক্তিপন বানিজ্য।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, বিগত এক বছরে খুন, ডাকাতি, অপহরণের মত বড় ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি বলে স্থানীয়রা অভিমত ব্যক্ত করেন। তবে কিছু কিছু অনাকাঙ্খিত বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও বড় ধরনের ঘটনা থেকে রেহাই পেয়েছে বাইশারীবাসী। এছাড়া বিগত এক বছরে দু’একটি মামলা ছাড়া কোন ধরনের মামলা ও রেকর্ড হয়নি বলে স্থানীয়রা জানান।
বর্তমানে আবারো এসআই আবু মুসা এক বছরের জন্য ইনচার্জ হিসাবে দায়িত্ব পাওয়ার পর সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসছে। তবে সন্ত্রাসীরা রয়েছে আতংকে। দারোগা মুসা পুনরায় দায়িত্ব পাবার খবরটি মুহুর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে অনেক সন্ত্রাসীদের বলতে শোনা যায় আবারো অতংক।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সৎ-সাহসীকতা এবং নিষ্ঠাবান পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে আবু মুসা বাইশারীতে সহজাত পরিচিত। তিনি আগেও বাইশারী পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের প্রধান ছিলেন। অপরাধের শত্রু আর অপরাধীদের কাছে আতঙ্কের নাম। পেশার তাগিদে কারও সাথে কখনো আপোষ করেননি। অথচ বাইশারীতে তাঁর আগমনটা ছিলো কঠিন এক মুহুর্তে। গেল (২০১৬) বছরের ১৪ মে চাকপাড়ায় বৌদ্ধ ভিক্ষু উ গাইন্দ্যার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় ও ঘাড়ে কুপিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার রেশ কাটাতে না কাটতেই পুলিশ ৩০জুন রাতে বাইশারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মংশৈলুং মারমার মরদেহ উদ্ধার করে। বৌদ্ধ ভিক্ষুর আদলে একই কায়দায় ওই আওয়ামী লীগ নেতাকে হত্যা করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
ভিক্ষু হত্যার ২২ দিন পর ৫জুন এবং অওয়ামী লীগ নেতা হত্যার পর দিন ১জুলাই জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) তাদের নিউজ ফিড আমাক নিউজ-এ দুটি হত্যার দায় স্বীকার করলে অতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। এর আগেও বাইশারীতে বোমা বিস্ফোরণসহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছিলো। বাইশারীতে অপহরণ এবং ডাকাতির ঘটনা ছিলো নৈত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। অনেকটা আতঙ্কের জনপদে ২০১৬ সনের আগষ্ট মাসের প্রথম তারিখে বাইশারী পুলিশ তদন্তকেন্দ্র প্রধান হিসাবে যোগদান করেন উপপরিদর্শক আবু মুসা। ২০১৬ সালে যোগদানের পর পরই এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বার, হেডম্যান, কারবারি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে পাড়া মহল্লা ও উপজাতীয় পল্লীতে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে সভা, সমাবেশ করেছিলেন এই দারোগা আবু মুছা। তাছাড়া সন্ত্রাসীদের কার্যক্রম বন্ধে পাড়ায় মহল্লায় পুলিশের পাশাপাশি এলাকাবাসীদের পালাক্রমে ডিউটির ব্যবস্থাও করেছেন। সব মিলিয়ে কিভাবে শান্তি ফিরিয়ে আসে সেই চেষ্টা চালিয়ে গেছেন এবং তিনি সফল ও হয়েছেন।
ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম বলেন, এসআই আবু মুসার বিচক্ষণতায় ও কলা কৌশলে অপরাধ প্রবণতা অনেকটা কমে গেছে। পুনরায় ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় বাইশারীবাসীর পক্ষ থেকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানান।
ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি ও বাইশারী বাজার সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বাহাদুর বলেন, পুনরায় ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার কথা তিনি শুনেছেন। বিগত এক বছরে তার কার্যক্রম সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আপোষহীন মনোভাব থাকায় এলাকার লোকজন শান্তিতে বসবাস করেছে, এবং এলাকায় শান্তির সুবাতাস বইছে। আবারো নতুনভাবে তিনি দায়িত্ব পাওয়ায় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন এবং ধন্যবাদ জানান।
এ বিষয়ে ওসি নাইক্ষ্যংছড়ি এসএসএম তৌহিদ কবির বলেন, তার কর্মদক্ষতা কারণে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আবারো স্বপদে বহাল রেখেছেন।
এ বিষয়ে এএসপি সার্কেল (লামা) আব্দুস সালাম জানান, বিগত এক বছরের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করায় আবারো ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। আশা করি এবারো তিনি ভাল করবেন।
উল্লেখ্য, কক্সবাজারের মহেশখালীর কৃতি সন্তান আবু মুসা ২০১৩ সনে বাংলাদেশ পুলিশ বাহীনিতে উপপরিদর্শক (এসআই) পদে যোগদান করেন। এর পর থেকে তিনি বান্দরবান জেলায় কর্মরত আছেন। ইতোপূর্বে ২০১৬ সালের ২২ মার্চ অনষ্ঠিত মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউপি নির্বাচনে গুলি চালিয়ে তাজিয়াকাটা ভোট কেন্দ্র রক্ষা করেছিলেন। এর পর তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউপি নির্বাচনের নারিচবুনিয়া ভোট কেন্দ্র রক্ষা করে পুলিশের ওপর মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

প্রসঙ্গত, বাইশারীতে যোগদানের পূর্বে আবু মুসা কর্মরত ছিলেন নাইক্ষ্যংছড়ি থানায়। এসময় ধুংরি হেডম্যানপাড়ার চাঞ্চল্যকর অপহরণ মামলার ভিকটিম চিং খেইমা মার্মাকে একই বছরের ১৮জুন উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখেছেন। পাশাপাশি থানার চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা হিসাবে উপজেলার সর্বমহলে তিনি ছিলেন আলোচিত। তাঁর নানা কর্মকান্ডে অনেকটা মুগ্ধ হয়ে সেই সময় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান মো.কামাল উদ্দিন, সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক তসলিম ইকবাল চৌধুরীসহ অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ভূয়সী প্রশাংসা করেন।