ইদ্রিছ আহমদ ও ছিদ্দিক আহমদ কর্তৃক প্রচার করা কক্সবাজার ট্রাক মিনিট্রাক পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়নের অবৈধ নির্বাচনের ভিত্তি নেই

Chakaria-Coxs-Picture-11-08-2017.jpg

এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া :
কক্সবাজার ট্রাক মিনিট্রাক পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজি: ১০৮৫) ব্যানারে ইদ্রিছ আহমদ ও ছিদ্দিক আহমদ ওরফে পান ছিদ্দিক কর্তৃক অনুষ্টিতব্য অবৈধ নির্বাচন বয়কট করতে সংগঠনের সকলস্তরের সদস্যদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন কক্সবাজার ট্রাক মিনিট্রাক পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজি: ১০৮৫) বৈধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুফিজুর রহমান। গতকাল ১১ আগষ্ট বিকালে কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুফিজুর রহমান বলেন, কক্সবাজার ট্রাক মিনিট্রাক পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজি: ১০৮৫) ব্যানারে কক্সবাজার জেলায় (ইদ্রিছ ও ছিদ্দিক আহমদ গংয়ের) কোন ধরণের নির্বাচন করার বৈধতা নেই। সংগঠনের গঠনতন্ত্র মোতাবেক তাঁরা নির্বাচন করতে পারবে চট্রগ্রাম জেলায়। তিনি বলেন, ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর তারিখে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনার মাধ্যমে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে কক্সবাজার ট্রাক মিনিট্রাক পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজি: ১০৮৫) নির্বাচন অনুষ্টিত হয়েছে। অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচন এবং সাধারণ সভায় কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ফেডারেশনের কর্মকর্তা, কক্সবাজার জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি এডভোকেট হাবিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শফিউল্লাহ আনছারী ও সংগঠনের হাজার হাজার সদস্য উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনে সংগঠনের সদস্যরা সরাসরি ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে সংগঠনের সভাপতি পদে ফজলুল করিম সাঈদী ও সাধারণ সম্পাদক পদে আমাকে (মুফিজুর রহমানকে) সহ কমিটির অপরাপর পদে নেতৃবৃন্দকে নির্বাচিত করেন। নির্বাচনের ফলাফলের কপি ওইসময় চট্রগ্রাম শ্রম অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে।
কক্সবাজার ট্রাক মিনিট্রাক পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুফিজুর রহমান বলেন, ২০১০ সালে অনুষ্টিত নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার পর থেকে ছিদ্দিক আহমদ ও পান ছিদ্দিক আমাদের সংগঠনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে একের পর এক মিথ্যা মামলা করে আসছে। তাঁরা পরাজয়ের গ্লানি থেকে প্রতিশোধ পরায়ন করে এসব করে যাচ্ছে। আমরা সংগঠনের সদস্যদের ভোটে বারবার নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সংগঠনের সদস্যদের মাঝে মৃত্যফান্ড, বয়স্ক ভাতা বিতরণ করি। এছাড়া সংগঠনের অধীনে নতুন শাখা স্থাপন, সদস্য নবায়নসহ সংগঠনের উন্নয়নে সকল ধরনের কার্যক্রম বেগবান করি। মুলত সংগঠনের আগের নেতা আছহাব মিয়া চট্টগ্রামে ও কেরানীহাটের মুছা বান্দরবানে অন্য সংগঠনে চলে যায়। নির্বাচনের পর থেকে ইদ্রিছ আহমদ সংগঠন থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে বাস গাড়ির চাকুরীতে চলে যায়। অপরদিকে ছিদ্দিক আহমদ ওরফে পান ছিদ্দিকও একইভাবে সংগঠনের দায়-দায়িত্ব থেকে সরে যায়। বলতে গেলে তাঁরা ২০১০ সালের নির্বাচনের পর থেকে সংগঠনের সদস্যদের বিপদে আপদে কোন ধরণের কাজে আসেনি।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুফিজুর রহমান বলেন, আমরা অনেক কাঠগড় পুড়িয়ে সংগঠনকে আজ পর্যন্ত টিকিয়ে রেখেছি। পক্ষান্তরে ইদ্রিছ আহমদ ও ছিদ্দিক আহমদ ওরফে পান ছিদ্দিক সংগঠনকে মামলায় জড়িয়ে আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছে। যা সংগঠনের সাধারণ সদস্যদের সাথে বিশ^াম ঘাতকার শামিল। আমরা আগামী কোরবানি ঈদের পর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই গঠনতন্ত্র মোতাবেক সংগঠনের নির্বাচনের প্রস্ততি নিচ্ছি। সেখানে ইদ্রিছ আহমদ ও ছিদ্দিক আহমদ ওরফে পান ছিদ্দিক কর্তৃক ইতোমধ্যে প্রচার করা অবৈধ নির্বাচনের কোন ধরনের ভিত্তি নেই। তাঁরা কোনভাবেই কক্সবাজার জেলার ভেতর নির্বাচন করতে পারেনা। কারন সংগঠনের গঠনতন্ত্রে তাঁর কোন ধরণের বৈধতা নেই। তাঁরা নির্বাচনের পোস্টার ছাপালেও তাতে কোন তারিখ নির্বাচন হচ্ছে তা উল্লেখ্য নেই। মুলত ইদ্রিছ আহমদ ও ছিদ্দিক আহমদ ওরফে পান ছিদ্দিক আগে থেকে জানে তাদের এই নির্বাচন সম্পুর্ণভাবে অবৈধ। এই কারনে প্রার্থীদের পোষ্টারে নির্বাচনের তারিখ উল্লেখ নেই। পরিশেষে আমরা কক্সবাজার ট্রাক মিনিট্রাক পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজি: ১০৮৫) সম্মানিত সকল সদস্যদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে তথা কথিত অবৈধ নির্বাচন বয়কট করুন। আগামীতে সকলের অংশ গ্রহনে কক্সবাজার ট্রাক মিনিট্রাক পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়নের একটি সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠানে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।