একটি মানবিক সাহায্যের আবেদন : মানুষ মানুষের জন্য…

20733194_838968636286041_554341303_n.jpg

: “ব্রেইন টিউমার”এ আক্রান্ত হয়েছে আবদুল্লাহর আব্বু। ডাক্তার বলেছেন অপারেশন করাতে হবে। অপারেশনের জন্য প্রয়োজন প্রায়ই চার লক্ষ টাকা।তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা খারাপ। কষ্ট করে সহায়-সম্বল যা আছে তা বিক্রয় করে, বন্ধক দিয়ে কোনোমতে অর্ধেক টাকা জোগাড় করেছে।কিন্তু অর্ধেক টাকায় কিছুই হচ্ছেনা,নিরুপায় হয়ে মোঃ আবদুল্লাহ্ সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন তাঁর সহপাঠীদের কাছে। বর্তমানে তারা চট্টগ্রাম ডেল্টা হেলথকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। তাদের পরিবারের এখন খুবই দুরবস্থা, মুখ খুলে কারো কাছে হাত পাততেও পারছে না।
উপরোক্ত কথাগুলোর বিবরণ শুনেছি মোঃ আবদুল্লাহর সহপাঠী টেকনাফ ডিগ্রী কলেজের স্নাতক ৩য় বর্ষের ছাত্র মোঃ শাহিন, সাইফুল ইসলাম, আবদুল মালেকের কাছথেকে। কথাগুলো প্রথমে শুনে কিছুটা মনঃক্ষুণ্ণ হয়েছে আমার, মনে মনে চিন্তা করেছি জানিনা কতোটা অসহায়ত্বে পড়েছে মোঃ আবদুল্লাহ্? হয়তো একেবারে নিরুপায় হয়ে তাঁর সহপাঠীদের কাছে আবদুল্লাহ্ তাঁর অসহায়ত্বের কথাগুলো বলেছে। কারন টেকনাফে এই ধরনের ঘটনা খুব একটা কম চোখে পড়েছে।
কিন্তু এতো টাকা তাঁর সহপাঠীরা কিভাবে জোগাড় করবে? কি করে আবদুল্লাহর পরিবারে হাসি ফুটানো যায় সেই চিন্তায় মগ্ন এখন আবদুল্লাহর সহপাঠীরা। কিন্তু থেমে নেই তাদের কর্মপ্রচেষ্টা, দিনরাত এক করে কলেজ – স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের ধারে ধারে যাচ্ছে তার সহপাঠীরা। যে করেই হোক টাকার ব্যবস্থা করতেই হবে, সেই চিন্তা এখন শুধু তাদের মাথায়।
আমি মোঃ আবদুল্লাহর সহপাঠীসহ টেকনাফ কলেজের কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রীদের মানবতা দেখে রীতিমতো মুগ্ধ হয়েছি। মোঃ আবদুল্লাহর সহপাঠীদের মধ্যে মোহাম্মদ শাহিন, সাইফুল ইসলাম, আবদুল মালেক, মোহাম্মদ হোসাইন, রুমি পাল,সৈয়দ মেহেদী হাসান এবং তাদের সাথে যুক্ত হয়েছে টেকনাফ ডিগ্রী কলেজের ছাত্র মাহমুদুল হক, মোরশেদ সিরাজ, সায়েদ আমিন নিশান, জাহাঙ্গীর আলম অভি, রাবেয়া সুলতানা রাব্বু ও তানজিদুল ফারুক প্রিয়ম। নাম উল্লেখ করা সবাইকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।জানি তোমাদের এই মহানুভবতার কাছে আমার কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ তোমাদের মহৎ কাজটিকে অবমূল্যায়ন করার মতো হচ্ছে।তবুও বলব এই তোমাদের মতো নিঃস্বার্থ বন্ধু-বান্ধব আছে বলেই এখনও মানুষ বন্ধুত্বের কাছে নিজেকে সবচেয়ে নিরাপদ মনে করে বিশ্বাস করে। কলেজের সকল ছাত্র-ছাত্রীদের ধারে ধারে গিয়ে আবদুল্লাহর হয়ে যেভাবে হাত বাড়াচ্ছ সাহায্যের জন্য সত্যিই অনেক বেশিই গর্ববোধ করি কারন তোমরাও সকলে টেকনাফ কলেজেরই ছাত্র-ছাত্রী। যাদেরকে কখনো কারো কাছে হাত পাতানো-ত দূরের কথা নিজের সামান্য দুর্বলতাকে কাউকে বুঝতেও দেয়নি তারাই কিন্তু শুধু কলেজে নয়, স্কুলের ছাত্র-ছত্রীদের কাছেও গিয়ে হাত বাড়িয়েছে। অনেক মহৎ কাজ করেছ তোমরা, অনেক বড় মহৎ কাজটি কিন্তু করতেছ তোমরা যা সকলে করতে পারেনা। চাইলেও কিন্তু সবার ভাগ্যে এই ধরনের মহৎ কাজগুলো করার সুযোগ আসেনা।অনেক অনেক আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই তোমাদের।তোমরাই সত্যিকারের মানবতার বন্ধু, আরো এগিয়ে যাও, যা কিছু ভালো তার সবগুলোতে যেন আল্লাহ্ তোমাদের সবাইকে অংশীদার হওয়ার তৌফিক দান করেন।

পরিশেষে সকলের কাছে বিনীত অনুরোধ যে যার অবস্থান থেকে টেকনাফ কলেজের ছাত্র মোহাম্মদ আবদুল্লাহর পরিবারের পাশে দ্বাড়ান। সবাকে অনুরোধ করব, প্রিয় ভাইয়েরা আসুন সবাই আবদুল্লাহর পিতার চিকিৎসার খরচের জন্য যে যা পারেন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। কেউ সাহায্য করতে চাইলে আবদুল্লাহর সহপাঠি টেকনাফ কলেজের ছাত্র মোহাম্মদ শাহিন, সাইফুল ইসলাম, আবদুল মালেক ও মোহাম্মদ হোসাইনের সাথে যোগাযোগ করুন।সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছিঃ-

আহবানেঃ-
আবদুল বাসেদ
যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ টেকনাফ উপজেলা শাখা।