রাখাইনে ৬ বৌদ্ধ নিহতের পর ফের রোহিঙ্গা ধরপাকড়

rakhaine_54240_1501865084.bmp

টেকনাফ টুডে ডেস্ক :
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের একটি পাহাড়ি এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার রাতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ছয় ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধারের পর রাজ্যটিতে সংখ্যালঘু মুসলমানরা নতুন করে ধরপাকড়ের মুখে পড়েছেন।

শুক্রবার সকালে রাজ্যটির রাতেদাউং এলাকায় সাধারণ রোহিঙ্গাদের ওপর গুলিবর্ষণ করে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী।

এ সময় তারা রোহিঙ্গা নারীদের নিপীড়ন করে এবং পুরুষদের ধরে ধরে গুলি করে ও আটক করে নিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে মালয়েশিয়া ভিত্তিক রোহিঙ্গা ভিশন টিভি জানিয়েছে, সকাল ৭টার দিকে রাতেদাউং টাউনশিপের অং নিয়া রা গ্রামে হানা দেয় ৫০ জন সেনা সদস্য।

সেখানে সেনা সদস্যরা রোহিঙ্গাদের আটক ও নারীদের যৌনপীড়ন শুরু করে। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা আটকদের ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে গুলিবর্ষণ শুরু করে সেনা সদস্যরা।

এতে করিম উল্লাহর ১৪ বছরের কিশোর ছেলে সায়েদ উল্লাহ হাটুতে গুলিবিদ্ধ হন। চিবুকে গুলিবিদ্ধ হন আবুল কাসিমের ১৭ বছরের ছেলে আবদু সুফিয়ান। এতে কিশোরটি মুখের সব দাঁত হারিয়েছে। মোহাম্মদ হাসানের ২০ বছরের ছেলে বশির আহমেদের কনুইতে, ৪০ বছরের আবদুর সবুরের পেটে গুলি লাগে। এছাড়া ২৬ বছরের ইউনুসও মারাত্মকভাবে জখম হন।

মিয়ানমারের সেনারা অনেক রোহিঙ্গাকে আটক করে নিয়ে গেলেও এর মধ্যে তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলে নে সা রুল্লাহ (৩০), রামো তুল্লাহ (৪০) এবং আমির হোসাইন (২০)।

এদিকে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রাখাইনের মাউংদাও শহরের কাছে একটি পাহাড়ি এলাকা থেকে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ছয় ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী।

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির কার্যালয় এক বিবৃতির বরাতে এ কথা জানায় রয়টার্স।

এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার মাউংদাও থেকে তিন নারী ও তিন পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।তাদের ধারাল অস্ত্রের আঘাতে এবং গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

নিহতরা স্থানীয় কাইগি গ্রামের বাসিন্দা ম্রো সম্প্রদায়ের সদস্য। তাদের উগ্রপন্থীরা হত্যা করেছে বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবরে বাংলাদেশ সংলগ্ন সীমান্ত সংলগ্ন রাখাইনের একটি চৌকিতে দেশটির নয়জন সীমান্ত পুলিশ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের হামলায় নিহত হয়।

এ ঘটনার জন্য রোহিঙ্গা ‘বিচ্ছিন্নতাবাদীদের’ অভিযুক্ত করে রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে অভিযানে নামে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী।

তারা রোহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যা, ধর্ষণ ও তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়। এ সময় জীবন বাঁচাতে প্রায় ৭৫ হাজার রোহিঙ্গ পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

এই নিপীড়নের অভিযোগ তদন্তে জাতিসংঘকে আন্তর্জাতিক তদন্ত দল পাঠাতে অনুমতি দেয়নি মিয়ানমার সরকার।

তবে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি করা এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘ জানায়, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর যে নিপীড়ন হয়েছে তা জাতিগত নিধন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।