ট্রাকে যোগান তৈরী করে ইয়াবা পাচারে জড়িত পরিবহন মালিক-শ্রমিক সিন্ডিকেট : বন্দরের পন্য বোঝাই ট্রাক দুটির মালিক উখিয়ার মনজুর আলম ও কোটবাজারের নুরু কোম্পানী

bondor_truck.tt-pic.jpg

শামসু উদ্দীন, টেকনাফ।
টেকনাফ স্থল বন্দরের পন্য পরিবহনের আড়ালে ইয়াবা পাচারে জড়িত রয়েছে কতিপয় ট্রাক মালিক ও শ্রমিক সিন্ডিকেট।
গত কয়েকদিনের মধ্যে মরিচ্যা যৌথ চেকপোষ্টে ট্রাকের যোগান থেকে বিপুল পরিমান ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় এ বিষয়টি পরিস্কার হয়ে উঠেছে।

দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি প্রশাসন সহ সকলে অনুধাবন করলেও এভাবে হাতেনাতে ধরা না পড়াই তা পরিস্কার হচ্্যিছল না। এছাড়া বন্দর কেন্দ্রিক অনেক পরিবহন শ্রমিকের হঠাৎ আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার মতো রাতারাতি গাড়ী বাড়ির মালিক বনে যাওয়ার রহস্য এখন পরিস্কার।

জানা যায়, টেকনাফ স্থল বন্দরের পণ্য বোঝাই ট্রাক থেকে ফের ২৯ হাজার ৬শ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করেছে মরিচ্যা যৌথ চেকপোস্টের জওয়ানরা। বৃহস্পতিবার দিনগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে বন্দর ছেড়ে যাওয়া আদা বোঝাই ট্রাক (চট্ট মেট্রো ট ১১-৫৭৩৬) তল্লাশী চালিয়ে থেকে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়। জব্দ ইয়াবার মূল্য প্রায় ৯০ লাখ টাকা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ট্রাকটির তেলের ট্যাংকের ভিতর বিশেষ কৌশলে লুকানো যোগান ( গাড়ীর যন্ত্রাংশের ভিতর বিশেষ কায়দায় তৈরী গোপন স্থান) থেকে ইয়াবা গুলো উদ্ধার করা হয়। তবে তল্লাশী চলাকালে চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
৩৪ বিজিবি ব্যাটালিয়ন মরিচ্যা যৌথ চেকপোষ্টের নায়েব সুবেদার নজরুল ইসলাম সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জব্দ ইয়াবা বিজিবি সদর দপ্তরে ও ট্রাকসহ মালামাল বালুখালী কাস্টমসে জমা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য দীর্ঘদিন ধরে টেকনাফ স্থল বন্দরের পন্য পরিবহনে নিয়োজিত পরিবহন শ্রমিকদের একটি অংশ মালিক-শ্রমিক সিন্ডিকেট করে ইয়াবা পাচার করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গতকাল ও তার আগের দিন পন্য বোঝাই ট্রাকের যন্ত্রাংশের ভিতর থেকে প্রায় ৫০ হাজার ইয়াবার চালান আটকের পর বিষয়টি অনেকটা পরিস্কার হয়ে গেলো।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার আটক হওয়া ট্রাকটি উখিয়া উপজেলার কোটবাজার এলাকার নুরু কোম্পানী নামে এক ব্যক্তির। জানা গেছে এই নুরুই ট্রাকটির চালক ছিল। অপরদিকে বুধবার আটক হওয়া ট্রাকটির মালিক ইয়াবার চালানের সাথে আটক হওয়া সিকদার বিল এলাকার মনজুরুল আলম নিজেই।

এছাড়া দুই মালিকের আরও বেশ কয়েকটি ট্রাক রয়েছে বলে জানা গেছে। উক্ত ট্রাক গুলিও দীর্ঘদিন যাবৎ ইয়াবা পাচার করে আসছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ইয়াবা পাচার ও ব্যবসায় জড়িত পরিবহন সেক্টরের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা চক্রটিকে খুঁজে বের করার দাবী উঠেছে সর্বমহলে।