টেকনাফের সাবরাংয়ে বিরোধীয় জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভাংচুর

Hamla.jpg


নিজস্ব প্রতিনিধি, টেকনাফ :::
টেকনাফের সাবরাংয়ে বিরোধীয় জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বাদী পক্ষ খুঁটি ও ঘেরা ভাংচুর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২ জুলাই দুপুরে সাবরাংয়ের সিকদার পাড়ায় বি, এস ১৮৩০ নং খতিয়ানের বি, এস ৭৬৪০ দাগের জমিতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, সাবরাংয়ের সিকদার পাড়ার সাছিরাম শীলের পুত্র রজনী কুমার শীল বিগত ০৯/০৭/১৯৭৭ ইং তারিখ শ্রী বলরাম শীল থেকে কক্সবাজার অফিসের ৫১৬৪ নং দলিলের ৬০ শতক জমি আদালতে ডিক্রিমুলে প্রাপ্ত হন। একই খতিয়ানের জমি উক্ত দলিল গোপন করে গত ১৯/১২/১৯৭৮ ইং তারিখে ৮৬১৯ নং ও ২০/১২/১৯৭৮ ইং তারিখ ৮৬৪২ নং দলিলদ্বয় মুলে সোনা রাম শীল ক্রয় করেন। উক্ত দলিলদ্বয় মুলে তিনি ১.৫২ একর জমি ৪৭৬৮ নং নামজারী খতিয়ান সৃজন করে উক্ত জমিতে দখলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে মামলার বিবাদী মৃত রজনী কুমার শীলের পুত্র তরুনী কুমার শর্মা গং বাধা দেন এবং কক্সবাজার আদালতে ৩৭২ নং রিভিশন মামলা করে। যা এখনো চলমান।
এছাড়াও সোনা রাম শীল ও সতিন্দ্র শীল ৬ জন ওয়ারিশের স্থলে ৪ জন দেখিয়ে বিভিন্ন জনকে ওয়ারীশি প্রাপ্ত জমি গোপনে বিক্রি করে দেয়। জমি বিক্রির বিষয়টি জানতে পেরে তরুনী কুমার শর্মা গং জানতে স্থানীয় ভাবে চেয়ারম্যানসহ গন্যমান্য ব্যক্তিদের অবগত করলে সোনা রাম শীল বাদী হয়ে গত ২৫/০৭/২০১৭ সনের ৫৩৭ নং এম আর মামলা দায়ের করে। বিজ্ঞ আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে বিরোধীয় জমিতে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ইং তারিখ পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করে টেকনাফ থানাকে শান্তি শৃংখলা বজায় রাখতে নির্দেশ প্রদান করে।
আদালতের এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ২ জুলাই সতিন্দ্র কুমার শীলের স্ত্রী ছায়া রানী শর্মা, সোনা রাম শীল, সতীন্দ্র কুমার শীল ও সোনা রাম শীলের স্ত্রী সদিকা রানী বিরোধীয় জমির খুঁটি ও ঘেরা ভাংচুর করে দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। বিষয়টি তাৎক্ষনিক ভাবে টেকনাফ থানাকে অবগত করেছেন এবং মামলার বাদীরা বিভিন্ন ভাবে হাঁকাবকাসহ বেশী বাড়াবাড়ি করলে নারী নির্যাতন মামলা দিয়ে ফাঁসানো হবে বলে হুমকী ধমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মামলার বিবাদী গং। তবে মামলার বাদী সোনা রাম শীল খুঁটি ও ঘেরা ভাংচুরের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বিরোধীয় জমি সংক্রান্ত বিষয়ে কোন ধরনের হাঁকাবকা বা ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে উক্ত বিরোধীয় জমিকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যে কোন মুহুর্তে অনাকাংখিত ঘটনা সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।
এব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার এএসআই তাপস কান্তি দাস বলেন, বিরোধীয় জমিতে বাদী পক্ষরা খুঁটি ও ঘেরা উপড়ে ফেলার বিষয়ে বিবাদী পক্ষ মোবাইলে জানিয়েছেন। এবিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।