ফলোআপ : জামাল মেম্বারের সুবিধাভোগীরা তৎপর : অনাকাংখিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে স্ত্রীকে দিয়ে থানা ঘেরাও, আটক-৪

Teknaf-pic_2-2222334545.jpg

নিজস্ব প্রতিনিধি : ইয়াবার টাকায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়া হ্নীলা ৭ নং ওয়ার্ড মেম্বার জামাল হোসাইন গ্রেফতার হলেও তার সহযোগীরা তৎপর রয়েছে।
সহযোগী সিন্ডিকেটের তৎপরতায় তার স্ত্রীর নেতৃত্বে দিয়ে কয়েকশ নারী পুরুষকে দিয়ে শনিবার টেকনাফ থানা ঘেরাও করে। পরে পুলিশের লাটিচার্জে তারা ছত্রভঙ্গ হয়। এসময় ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৭ টার দিকে টেকনাফ থানার উপ-পরিদর্শক বোরহান উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে হ্নীলা বাস ষ্টেশন থেকে তাকে আটক করেন। পরে রাত আড়াইটার দিকে পুলিশ ধৃত ইউপি সদস্যকে অভিযান চালিয়ে আলী খালী এলাকায় তার বাড়ির পাশে লুকিয়ে রাখা ১৫ হাজার ইয়াবা, একটি দেশীয় তৈরী এলজি ও ৪ রাউন্ড কার্টুজ উদ্ধার করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী জামাল হোসেন(৪৫)। সে হ্নীলা ইউনিয়নের আলীখালী এলাকার মৃত হায়দার আলীর ছেলে।

পুলিশ শনিবার ভোর রাতে ধৃত ব্যক্তিকে নিয়ে অভিযানে গিয়ে আলীখালী এলাকায় তার বাড়ির পাশ থেকে ১৫ হাজার ইয়াবা, ১টি এলজি ও ৪ রাউন্ড কার্টুজ উদ্ধার করে। এদিকে ধৃত ইউপি সদস্যের সমর্থকরা শনিবার দুপুরে টেকনাফ থানা ঘেরাও করে। পরে পুলিশ লাটিচার্জ করে তাদেরকে সরিয়ে দেয়। এসময় পুলিশ ৪ জনকে আটক করে।
টেকনাফ থানার ইনস্পেক্টর (তদন্ত) শেখ আশরাফুজ্জামান সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ধৃত ব্যক্তি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তালিকাভুক্ত ও তার বিরুদ্ধে মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। উক্ত মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার স্বীকারুক্তি অনুযায়ী আলীখালী এলাকায় তার বাড়ির পাশ থেকে ১৫ হাজার ইয়াবা, ১টি দেশীয় তৈরী এলজি ও ৪ রাউন্ড কার্টুজ উদ্ধার করা হয়। সংশ্লিষ্ট মামলায় তাকে আদালতে প্রেরন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
জানা যায়,
এদিকে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে আটক ইউপি সদস্যের সমর্থক কয়েকশ নারী পুরুষ টেকনাফ থানা ঘেরাও করে। এসময় তার সমর্থকরা প্রায় ঘন্টাব্যাপী থানা ফটকে অবস্থান করে তার মুক্তির দাবীতে শ্লোগান দিতে থাকে। পুলিশ তাদেরকে সরে যেতে নির্দেশ দিলেও তারা না সরায় লাঠিচার্জ করে তাদেরকে সরিয়ে দেয় ও ৪ জনকে আটক করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইয়াবা ব্যবসায়ী জামাল হোসন মেম্বার নির্বাচিত হওয়ার পর তার ৪ ছেলে ও ভাইয়েরা এলাকাটিকে আতংকের জনপদে পরিণত করেছে। এরা নিজস্ব বাহিনী গঠন করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছে। গত ১৪ জুলাইও রাতে রাস্তায় জোরে মোটর সাইকেল চালানোকে কেন্দ্র করে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে রঙ্গিখালী লামার পাড়া এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে তার ছেলে শাহ আজম, শাহ নেওয়াজ ও শাহজালাল গংরা ১২/১৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল বলে রঙ্গিখালী লামার পাড়া এলাকার শত শত প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন জানিয়েছেন।
এছাড়াও গত ২৬ জুলাই রঙ্গিখালী এলাকার মকবুল আহমদের ছেলে অটো রিক্সাচালক আবদুল গফুরকে ধরে নিয়ে গিয়ে বেদড়ক মারধর করেছিল তার ছেলেরা। এভাবে একের পর এক এলাকায় অস্ত্রবাজি করে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করলেও তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস করে না।
তার পুত্র-কন্যা ও ভাইদের বিরুদ্ধেও ডজন খানেক ইয়াবা মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, জামাল মেম্বারের অর্থে পালিত স্থানীয় একটি চক্র তার আটকের পর থেকে পুলিশের আটকাভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নানা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তারই অংশ হিসাবে থানা ঘেরাও কর্মসূচী দেয় যাতে অনাকাংখিত কোন পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটিয়ে ধৃত ইয়াবা ব্যবসায়ীকে মুক্ত করা যায়।