পাকিস্তানেও যেভাবে পালিত হচ্ছে একুশে ফেব্রুয়ারি

pak_40140_1487651161.jpg

২০১৬ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন উপলক্ষে এই মিছিলটি করেন লাহোরের বাসিন্দারা যেখানে তারা পাঞ্জাবি ভাষাকে গুরুত্ব দেবার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।

জাতিসংঘের ঘোষণা অনুযায়ী পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ২১শে ফেব্রুয়ারি দিনটিকে পালন করা হচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে।

এর ব্যতিক্রম ঘটে না পাকিস্তানেও। প্রতিবছর দেশটিতে কাগজে কলমে ভালোভাবেই ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করা হয়। করাচি, ইসলামাবাদ ও লাহোরের মত শহরেও দিবসটি ঘটা করেই পালন করা হয়।

এদিন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাষা বিষয়ক সেমিনার হয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও আয়োজন করা হয় বিশেষ আলোচনার। থাকে প্রভাতফেরির আয়োজন। এবছর ফেব্রুয়ারির ১৮ ও ১৯ তারিখে সাহিত্য উৎসবও হয়েছে। খবর বিবিসি’র।

তবে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে কেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়, সে বিষয়ে সঠিক ইতিহাস জানে না পাকিস্তানের নতুন প্রজন্ম। ১৯৫২ সালের সেই দিনটিতে, পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের অন্যায় সিদ্ধান্ত ও ঘোষণার বিরুদ্ধে মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ফুঁসে উঠেছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ। বুকের তাজা রক্ত ঢেলে রাষ্ট্রভাষার দাবিকে বাস্তবায়ন করেন বাংলা ভাষাভাষি মানুষেরা। সে ব্যাপারে পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের এবং স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের স্বচ্ছ ধারণা দেয়া হয় না।

কেবল ১৯৫২ সালে উর্দুর মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা এবং একটি ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে কিছু ধারনা রয়েছে তাদের।

দেশটির পাঠ্যক্রমেও এ বিষয়ক পূর্ণ ইতিহাসের অনুপস্থিতি রয়েছে।

বহু জাতিগোষ্ঠীর দেশ পাকিস্তানে ৬৫ থেকে ৭২টির মতো বিভিন্ন ভাষার চর্চা রয়েছে। তবে এই সবগুলো ভাষার সঠিক চর্চা এবং সব গোষ্ঠীর মাতৃভাষায় লেখাপড়ার সুযোগ নেই।