উখিয়ার বালুখালি রোহিঙ্গা বস্তি পরিদর্শন করলেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত

8888-copy.jpg

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ধর্ষনের শিকার হওয়া মহিলাদের বর্ণনা শুনে হতভাগ

মুহাম্মদ হানিফ আজাদ, উখিয়া :
উখিয়ার বালুখালী নতুন রোহিঙ্গা বস্তি পরিদর্শন করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক মিয়ানমারের বিশেষ দূত ইয়াং হি লি। তিনি মঙ্গলবার দুপুর ১ টায় বালুখালী রোহিঙ্গা বস্তি এলাকায় গিয়ে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ধর্ষনের শিকার হওয়া মহিলাদের বর্ণনা শুনে হতভাগ হয়ে পড়েন। রোহিঙ্গারা জাতিসংঘের বিশেষ দূতকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নিপিড়ন নির্যাতন, অত্যাচার, জোর জুলুম, ঘর বাড়িতে আগুন নিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া, গণহত্যা, গণগ্রেফতার মহিলাদের সম্ভ্রমহানীর কথা বললে জাতি সংঘের দূত শিউরে উঠেন। এ সময় বালুখালী রোহিঙ্গা বস্তিটি ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সাথে কথাও বলেছেন। জাতিসংঘের বিশেষ দূত বালুখালী রোহিঙ্গা বস্তির লালু মাঝি, সাবের মাঝি, মোঃ হারুনের সাথে মিয়ানমারের চিত্রের কথা জানতে চাইলে তারা বলেন, মায়ের সামনে মেয়েকে ও মেয়ের সামনে মা কে ধর্ষন মা-বাবা আত্মীয় স্বজনদেরকে ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করেছেন। এছাড়াও তারা জাতিসংঘের বিশেষ দূতকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, মিয়ানমারে তাদের নাগরিকত্ব না দিলে এবং চলাচলের অবাধ সুযোগ সুবিধা না দিলে কখনো মিয়ানমারে ফিরে যাবেনা। জাতি সংঘের বিশেষ দূত বিকাল ৪ টায় বালুখালী বস্তি এলাকা ত্যাগ করেন। বর্তমানে উখিয়ার কুতুপালং বালুখালী বস্তিতে অর্ধ লক্ষাধিক নতুন রোহিঙ্গা বনভূমির জায়গা দখল করে ঝুপড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছে। সরকার তাদেরকে হাতিয়ার ঠেঙ্গার চরে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এলাকাবাসী স্বাগত জানালেও রোহিঙ্গা প্রীতি কতিপয় এনজিও এবং স্থানীয় প্রভাবশালীরা রোহিঙ্গাদের ঠেঙ্গার চরে না যাওয়ার জন্য যে উদ্যোগ নিয়ে তা বানচাল করার জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষ দূতের সাথে ছিলেন, আইএমও কান্ট্রি ডাইরেক্টর, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা তার সঙ্গে ছিলেন। চার দিনের সফরে সোমবার বাংলাদেশে আসেন জাতিসংঘের এই বিশেষ দূত। ওই দিনই রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। উখিয়া এবং টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়ে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মুখ থেকে নির্যাতনের বর্ণনাও শুনবেন তিনি।