উন্নয়নে বদলে যাচ্ছে টেকনাফের চেহারা

jollardweep-pic.jpg

মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :

বাংলাদেশে যে ক’টি পর্যটকদের আকর্ষণীয় স্পট রয়েছে, তার মধ্যে টেকনাফ হচ্ছে সবার শীর্ষে। পৃথিবীর দীর্ঘতম সমূদ্র সৈকত হচ্ছে কক্সবাজার। আর কক্সবাজারের টেকনাফ হচ্ছে, দেশী ও বিদেশী পর্যটকদের জন্য রয়েছে আল্লাহ প্রদত্ত নানা প্রকৃতির ‘এক’ আকর্ষণীয় স্পট। যে স্পটগুলো দেখলে পর্যটকেরা অভিভূত হয়ে পূণরায় আসতে মনে করে। সুষ্ট পরিকল্পনা, স্বদিচ্ছা এবং অর্থাভাবে অতীতে টেকনাফের পর্যটন স্পটগুলো বেহাল অবস্থায় ছিল। বর্তমান সরকার পর পর দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার সুবাদে গ্রহণ করে টেকনাফের ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা। এতে অগ্রাধিকার ভিক্তিতে যুক্ত হচ্ছে অপার পর্যটন সমৃদ্ধ টেকনাফ উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা চীন জাপানসহ উন্নত দেশ ও অর্থনৈতিক সংস্থাগুলো উন্নয়ন শুরু করেছে। এগিয়ে আসছে টেকনাফের পর্যটক ব্যবস্থা উন্নয়নে জাইকাসহ দেশী ও বিদেশী অনেক উন্নয়ন সংস্থা।

দেশী বিদেশী বিনিয়োগে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ হাতে নিয়েছে এবং বিগত ৮ বছরে বাংলাদেশ মিয়ানমার ট্রানজিট জেটি, ফায়ার বিগ্রেড, টেকনাফ মডেল থানা ভবন ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্রীজ, কালভার্ট,আভ্যন্তরিন সড়ক, শিক্ষা ভবণসহ বিভিন্ন সংস্কার মূলক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সাধিত হবার পর জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ উম্মোক্ত হয়েছে। সেই সাথে সৃষ্টি হয়েছে চিকিৎসা খাতেও।

সরকার টেকনাফ সীমান্ত এলাকাকে পর্যটনমূখী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। দেশী ও বিদেশী পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে ইতিপূর্বে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সরেজমিন পরীক্ষা নীরিক্ষা করে যাচাই বাছাই করেছে। দেশ ও বিদেশী বিনোয়কারীরা সাবরাং ইউনিয়নের কাটাবনিয়াকে অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষানা করা হয়েছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল (বেজা) সাবরাং মৌজায় প্রায় ১ হাজার ১৪৭ একর জমিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলেছেন এর সুবিধার্থে মেরিন ড্রাইব সড়ক সম্প্রসারণ করে পর্যটকদের আগমনের পথ আরো সুগম করে দিয়েছে।

এছাড়া টেকনাফ জালিয়াদ্বীপে গড়ে তুলা হচ্ছে নাফ ট্যুারিজম পার্ক। ২৭১ একর জমি ইতিমধ্যে বেজার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্থলবন্দর পাশ দিয়ে উচু পাহাড় থেকে প্রায় ১শত কোটি টাকা ব্যায়ে একটি অত্যাধুনিক ঝুলন্ত সেতু ও জেটি নির্মাণ করা হবে। এতে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বিশ্বমানের বিভিন্ন স্থাপনা নিমার্ণের পরিকল্পনা রয়েছে।

হোয়াইক্যাং এ সোলার বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনা করা হচ্ছে। ২২০ মেগাওয়াট সোলার পার্ক স্থাপনে প্রায় ৬শত একর জমি অধিগ্রহণ করার লক্ষ্যে জমি বায়নামূলে ক্রয় করছেন।

শাহপরীরদ্বীপ রক্ষার্থে মানসম্মত টেকসই বেড়ীবাঁধ নির্মাণের জন্য সরকার ১শত ৬ কোটি টাকা বরাদ্ধ দিয়েছে। জাতীয় অর্থ নৈতিক পরিষদ (একনেক) এ অর্থ বরাদ্ধ পাশ করে। এছাড়া ১৬ কোটি টাকা ব্যায়ে টেকনাফ শাহপরীরদ্বীপ সড়ক নিমার্ণ কাজ পুরোদমে চলছে।

উক্ত গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে টেকনাফের চেঁহারা বদলে যাবে বলে অভিজ্ঞ মহলের অভিমত। কক্সবাজার জিরো পয়েন্ট থেকে টেকনাফ শাহপরীরদ্বীপ পর্যন্ত ১২০ কিঃ মেরিন ড্রাইব সড়ক নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
আগামী এপ্রিল মাসে এর উদ্বোধন হবার কথা। মেরিন ড্রাইব সড়ক চালু হলে সমুদ্র উপকূলীয় এলাকা হয়ে যাবে পর্যটকদের মিলন মেলা এবং কমে যাবে সড়ক দুরত্ব। স্বল্প সময়ে কক্সবাজার টেকনাফ পৌছা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে অনেকের প্রশ্ন শাহপরীরদ্বীপ রক্ষার্থে মজবুত বেড়ীবাঁধ নির্মাণের গুরুত্ব না দিলে সরকারের গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো ম্লান হয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এর প্রতি গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন বলে ওরা দৃঢ়তার সাথে জানায়।