বঙ্গোপসাগরে ফিশিং ট্রলারে ডাকাতি ১০ মাঝি-মাল্লা সাগরে নিক্ষেপ, ৩ জেলে নিখোঁজ

trolar.jpg

আব্দুল মাবুদ, শাহপরীরদ্বীপ প্রতিনিধি :
টেকনাফ উপকূলের বঙ্গোপসাগরে ফিশিং ট্রলারে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসময় ডাকাতদল
৫টি ফিশিং ট্রলারে ডাকাতির পর একটি ফিশিং ট্রলারের ১০ মাঝি মাল্লাকে সাগরে ফেলে দিয়ে ট্রলারটি ডাকাতি করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় অন্য কয়েকটি ফিশিং ৭ জেলেকে সাগর থেকে ভাসমান অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করলেও এখনো ৩ জেলে নিখোঁজ রয়েছে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপের আনুমানিক ১০/১২ কিলোমিটার পশ্চিমে সাগের ডাকাতির এ ঘটনা সংগঠিত হয়েছে।
ডাকাতের কবলে পড়া একটি ফিশিং ট্রলারের মালিক শাহপরীরদ্বীপ ডেইল পাড়া এলাকার সুলতান আহমদ। তিনি জানান, মঙ্গলবার দুপুরে শাহপরীরদ্বীপ জেটি ঘাট থেকে তার মালিকানাধীন দুইটি ফিশিং ট্্রলার সাগরে মাছ শিকারে যায়। রাত ১১টার দিকে তার দুইটি ফিশিং ট্রলারসহ ৫টি ফিশিং ট্রলারে ডাকাতি সংগঠিত হয়। এসময় বড় একটি ট্রলারে আসা ডাকাত দল অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে ৫ টি ফিশিং ট্রলারে পালাক্রমে ডাকাতি করে। তারা ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল করে দিয়ে মাছ-জালসহ যাবতীয় মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তার মালিকানাধীন আমান উল্লাহ মাঝির চালিত ফিশিং ট্রলারের ১০ মাঝিমাল্লাকে সাগরে নিক্ষেপ করে ট্রলারটি নিয়ে যায়।
খবর পেয়ে রাতে ও সকালে ৭ মাঝিমাল্লাকে জীবিত উদ্ধার করলেও এখনো ৩ জেলে নিখোঁজ রয়েছে বলে জানান তিনি।
নিখোঁজ জেলেরা হচ্ছেন শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিম বাজার পাড়ার আমান উল্লাহ মাঝি, ডেইল পাড়া এলাকার মোঃ কাসিম ও মোঃ নুর।
উদ্ধার জেলেরা হচ্ছেন শাহপরীরদ্বীপের নোমান, সলিম উল্লাহ, সবি আলম, কালামিয়া, ফজল আহমদ, নুর খালেক, মোঃ আইয়ুব।
মোঃ হোসেন ও শুক্কুরের মালিকানাধীন ফিশিং ট্রলার ৭ মাঝি মাল্লাকে উদ্ধার করেন।
ডাকাতির কবলে পড়া ৫টি ফিশিং ট্রলারের মালিক হচ্ছেন শাহপরীরদ্বীপের শামসু, ছিদ্দিক, রহিমুল্লাহ ও সুলতান।
সাগরে নিক্ষিপ্ত হওয়া উদ্ধার জেলে সেলিম উল্লাহ জানান, ১৫ জনের মতো জলদস্যূ অস্ত্র ও কিরিচ নিয়ে তাদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। জলদস্যূরা মুখোশ পরিহিত ছিল বলে জানায় সে। সেলিম উল্লাহর ধারনা জলদস্যূদের ট্রলারটি কক্সবাজারের মহেষখালী এলাকার হতে পারে।
এ ঘটনায় ট্রলার মালিক সুলতান আহমদ বুধবার বিকালে টেকনাফ থানায় অভিযোগ প্রদান করেছেন।
বিজিবি শাহপরীরদ্বীপ বিওপির কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার আখতার সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
টেকনাফ থানার ওসি আব্দুল মজিদ জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।