ভূমি অফিসে চালু হচ্ছে ল্যান্ড ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম

Land-office-teknaf-copy.jpg

টেকনাফ ভূমি অফিস

কমবে হয়রানী, বাড়বে সেবা

ইমাম খাইর :
কক্সবাজারের ভূমি অফিসগুলোতে মানুষের হয়রানী দূর করে সেবা নিশ্চিত করতে চালু করা হচ্ছে এল.আই.এম.এস তথা ‘ল্যান্ড ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম।’ এ পদ্ধতি চালু হলে ভূমিসংক্রান্তে আবেদনকারীরা তাদের আবেদন দাখিলের পর থেকে অনুমোদন পর্যন্ত ৩ ধাপে এসএসএম পাবে। সহজেই জানতে পারবে তার কার্যক্রমের অগ্রগতি। এল.আই.এম.এস- পদ্ধতিতে সকল তথ্য ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে। দ্রুততমসময়ে সেবাপ্রার্থীরা সহিমূড়ি নকল পাবে। নিশ্চিত হবে নামজারী পদ্ধতির সত্যতা ও জবাবদিহিতা। এল.আই.এম.এস ব্যবস্থা চালু করার জন্য প্রথমেই কক্সবাজার সদর ভূমি অফিসকে মডেল হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে। এ পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে জনগণকে নামজারীসহ অন্যান্য সেবা অনলাইনে প্রদানের কার্যক্রম গ্রহণের জন্য বেছে নিয়েছে ভূমি সংস্কার বোর্ড।
এ বিষয়ে রবিবার (১২ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে কক্সবাজার সদর ভূমি অফিসে জেলার সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) নিয়ে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভূমি সংস্কারবোর্ডের চেয়ারম্যান ও সরকারের সচিব মো. মাহ্ফুজুর রহমান, উপ-ভূমি সংস্কার কমিশনার গোলাম মওলা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আনোয়ারুল নাসের, সহকারী ভূমি সংস্কার কমিশনার ওবায়েদ উল্লাহ, কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মাহ্ফুজুর রহমান কক্সবাজার সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) পঙ্কজ বড়–য়াকে দ্রুত সময়ের মধ্যে অনলাইনভিক্তিক ভূমিসেবা কার্যক্রম চালু করার অনুরোধ করেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন তিনি।
এদিকে কক্সবাজার সদর ভূমি অফিসকে হয়রানীমুক্ত করে জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) পংকজ বড়ুয়া। তিনি উমেদার, দালাল, মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের ব্যাপারে কঠোর নীতির কথা জানান।
পংকজ বড়ুয়া বলেন, মানুষ প্রয়োজনের তাগিদে ভূমি অফিসে আসে। সেবা প্রার্থীদের সেবা দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। কোন আবেদন মাসের পর মাস পড়ে থাকবেনা। সবার সেবা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে। তার প্রশ্ন, মানুষ সেবা নিতে এসে কেন হয়রানীর শিকার হবে? তা মেনে নেয়া যায়না।

সভাশেষে ভূমি সংস্কারবোর্ডের চেয়ারম্যান ও সরকারের সচিব মো. মাহ্ফুজুর রহমান, উপ-ভূমি সংস্কার কমিশনার গোলাম মওলা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আনোয়ারুল নাসের, সহকারী ভূমি সংস্কার কমিশনার ওবায়েদ উল্লাহ, কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) পঙ্কজ বড়ুয়াসহ বিভিন্ন উপজেলার সহকারী কমিশনারদের দেখা যাচ্ছে।

এসিল্যান্ড পংকজ বড়ুয়া বলেন, একজন সেবাপ্রার্থী অফিসে আসার পর তার সেবার ধরণ জেনে তাকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি সেবাপ্রার্থীর সাথে সরাসরি কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করছি। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এ বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া আছে। যার কাজ সে করবে। সবাইকে জবাবদিহীতার আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। সেবাপ্রার্থীকে হয়রানীর অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় তিনি অসাধূ পন্থায় খতিয়ান সৃজনসহ নিয়ম বহির্ভুত কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার কথা জানান।
কক্সবাজার সদরের এসিল্যান্ড পংকজ বড়ুয়া মানুষের সেবা ও কাজের গতিশীলতা আনতে কিছু কর্মপন্থা নিয়েছেন বলে প্রতিবেদককে জানান। তিনি জানিয়েছেন- অফিসের নিরাপত্ত্বা নিশ্চিত করতে আগামী একমাসের মধ্যে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ‘আইডি কার্ড’ ও সেবাদাতাদের ছবিসহ দপ্তরওয়ারী কর্মবণ্ঠন করে দেওয়া হবে। সেবাগ্রহীতাদের বসার জন্য আগামী জানুয়ারী নাগাদ ‘সেবাঘর’ নির্মাণের চিন্তা করা হচ্ছে। ‘ওয়ানস্টপ সার্ভিস’ এর মাধ্যমে মানুষকে খুব দ্রুত সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
তাছাড়া কক্সবাজার সদর ভূমি অফিসের নামে ফেসবুক পেজ খোলে তথ্য আদান প্রদান, অভিযোগ সংগ্রহ ও নিষ্পত্তিসহ জনগণের দূরগোড়ায় সরকারী সেবা পৌঁছে দেওয়ার কথাও জানান নবাগত এসিল্যান্ড পংকজ বড়ুয়া। তিনি গত ১০ নভেম্বর সদর সহকারী কমিশনার পদে যোগদান করেন। তার যোগদানের পর থেকে ভূমি অফিসে অনেক পরিবর্তন হয়। নড়েচড়ে বসে ভূমি অফিসে কর্মরতরা।
পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, ভূমি অফিসে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। শতভাগ সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। ‘ল্যান্ড ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ চালু হলে মানুষের সেবা অনেক দূর এগিয়ে যাবে। নিশ্চিত হবে জবাবদিহিতা। এ জন্য তিনি সকলের সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।