বাংলার পরিবেশবান্ধব পাখি কানাকোকা

kanakoka.jpg

গোলাম মওলা রামু ।
কানাকোকা পাখিটি দেখতে অনেকটা কাকের মত। তবে আকার কাকের থেকে একটু বড়। কানাকোকার চোখের মণি ও ডানা দুটি বাদামি। শরীরের নিচের বাকি অংশ কুচকুচে কালো।
কানাকোকা পাখিটি বনে জঙ্গলে এবং বাড়ির পাশে বাঁশের ঝোঁপজাড়ে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়।দিনের বেলায় পাখিটি গাছ বাগানে হেঁটে হেঁটে মাটিতে থাকা শুকনো পাতার নিচে লোকানো পোকা মাকড় ও সাপ,বিচ্ছুর ডিম খুঁজে বেড়ায়।পাখিটি দেখতে সুন্দর হলেও অন্য পাখিদের মত ওড়াল দিয়ে বেশি দুর যেতে পারেনা।একবার ওড়াল দিয়ে তিনশ মিটার পর্যন্ত গিয়ে অন্য গাছে বসে।কানাকোকা পাখিটি আমাদের গ্রামে আগে বেশি পরিমাণে দেখা গেলে ও এখন সংখ্যায় অনেক কমে গেছে।পাখিটি রাতে পুরুষ ও স্ত্রী মিলে তাদের আরো দলে থাকা সঙ্গি সাথিদের নিয়ে এক সাথে রাত যাপন করে। তবে দিনের বেলায় পাখিটি দল বেধে থাকে না একাকী শিকার খুঁজতে বের হয়।কবুতর আর পায়রার মত কানাকোকার একটি স্বভাব রয়েছে ঠিক মাজরাতে পাখি গুলো এক সাথে মনের আনন্দে প্রায়৫/১০ মিনিট মত তারা ডাকতে থাকে। একদল যখন ডাক দেয় কিছু দুরে থাকা অন্য পাখিগুলিও ডাকতে থাকে।আমরা রমজান মাসে যখন রোজা রাখার জন্য রাতে উঠি তখন এ কানাকোকা পাখির ডাক শুনতে পায়।আবার ফজরের আযানের আগে একবার সব পাখি মিলে ডাক দেয়। কানাকোকা সাপ, বেজি ও গুইসাপ দেখলে লেজে ঠোকর দিয়ে পালিয়ে যায়।আবার এসে সাপ,বেজির পিছু নেয়। কিছুদূর গিয়ে আবার ঠোকর দেয়। এভাবে প্রাণীগুলোকে বিরক্তকরে মজা পায় এই কানাকোকা । এই স্বভাবের কারণে কানাকোকাকে গ্রামের মানুষেরা রসিক পাখি নামে ডাকে অনেকে। তবে অন্য পাখির বাসায় হানা দিয়ে বাচ্চা ও ডিম খাওয়ার অভ্যাস থাকায় কেউ কেউ কানাকোকাকে ‘ডাকাত’ পাখি নামেও ডাকে। সাপ-ব্যাঙ ও কীটপতঙ্গের সংখ্যা বেড়ে গেলে তা খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য ঠিক করে বলে একে ‘পরিবেশবান্ধব পাখি’ও বলা হয়। কানাকোকা কে আমাদের আঞ্চলিক ভাষায় (হারিকোরি পাইখ) বলে।