টেকনাফে মিষ্টি পানের কদর বাড়ছে

987.jpg

জসিম উদ্দিন টিপু, টেকনাফ::
সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে মিষ্টি পানের কদর দিন দিন বাড়ছে। কদর বাড়ার সাথে সাথেই চাষীরাও মিষ্টি পানের চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। উপজেলার শত শত পরিবার শুধু পান চাষ করেই জীবিকা নির্বাহ করছে। বছর দু‘য়েক আগে যে পান অন্য জেলা এবং উপজেলা থেকে এনে বেছাবিক্রি করত। সেই মিষ্টি পানের চাষ এখন টেকনাফজুড়েই হচ্ছে। এখানকার মাটি এবং পরিবেশ অনুকূল হওয়ায় মিষ্টি প্রজাতির পান চাষে সীমান্তের কৃষকরা সফলতার মুখ দেখছেন। দাম থাকায় কৃষকরাও বেশ লাভবান হচ্ছেন। স্থানীয়রা ঝাল পান খেয়ে অভ্যস্ত বলেই টেকনাফের চাষীরা সনাতন পদ্ধতিতে যুগ যুগ ধরে ঝাল পান বা গাছ পানের চাষ করে আসছে। পর্যটন এলাকা হওয়ায় বছরজুড়ে টেকনাফে বিভিন্ন জেলার মানুষ আসেন। পর্যটক বা অন্য জেলার বাসিন্দাদের কাছে মিষ্টি পান খুবই জনপ্রিয়। তাঁরা পান হিসেবে সাধারণত মিষ্টি পানই খেয়ে থাকেন। অনুকুল পরিবেশ এবং চাহিদা বাড়ায় এবছর মিষ্টি পানের চাষ করে সীমান্তের অনেক কৃষক লাখপতি হয়েছেন। কৃষকরা জানায়, ডগা রোপনের ৫০-৬০দিনে পরিপূর্ণ পানে পরিণত হয়। যা থেকে কৃষক সারা বছরই পান ছিঁড়ে বিক্রি করতে পারে। ঝাল পানের গাছ এক মৌসুমেই শেষ হয়ে যায়। কিন্তু মিষ্টি পানের গাছ কয়েক বছরই একই বরজে রাখা যায়। তবে চরাঞ্চলের চেয়ে পাহাড়ী এলাকায় মিষ্টি পানের গাছ বাঁচে দীর্ঘ মেয়াদী। সুবিধা হচ্ছে ঝাল পানের চেয়ে মিষ্টি পানের দাম একটু বেশী। সপ্তাহ পর পর সেচ এবং জৈব পদ্ধতিতে সহজে চাষ করা যাচ্ছে বলেই অন্য কৃষকরাও পান চাষের দিকে ধাবিত হচ্ছেন। কৃষি অফিস সুত্র জানায়, এবছর টেকনাফে প্রায় ৫৬০হেক্টর জমি পান চাষের আওতায় এসেছে। এক যুগের বেশী সময় ধরে পানের বরজ করা উপজেলার হ্নীলা রঙ্গিখালী এলাকার চাষী জাফর আলম দইল্ল্যা জানান, আগে আমরা ঝাল পানের বরজ করতাম। গেল মৌসুম থেকে মিষ্টি পানের বরজ করে বেশ লাভবান হচ্ছি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগীতা পেলে সীমান্তের অর্থকরী এই ফসল চাষে কৃষকরা আরো বেশী উদ্ধুদ্ধ হবে পাশাপাশি পানের চাহিদা পূরণে এখানকার কৃষকরা ভুমিকা রাখবেন বলে তিনি মনে করেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, পান টেকনাফের অর্থকরী ফসল। জৈব পদ্ধতিতে পান চাষে কৃষকদের আগ্রহী করা হচ্ছে। পানের বিভিন্ন রোগ ও পোকামাকড় সম্পর্কে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যেন তারা আশানুরুপ ফলন পান।