গোপন পরমাণু শহর তৈরি করেছে ভারত

agni-3_39091_1486701798.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক :
পাকিস্তান অভিযোগ করেছে যে, ভারত গোপন একটি পরমাণু তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক এক ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের ফরেন অফিস (এফও) বলেছে, ভারত পরমাণু অস্ত্রের একটি বড় ধরনের মজুদ গড়ে তুলেছে। এটা এ অঞ্চলের কৌশলগত ক্ষমতার ভারসাম্যকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

ব্রিফিংয়ে এফও মুখপাত্র মাফিস জাকারিয়া এসব দাবি করেন। তিনি বলেন, ভারত অনেক দিন ধরে আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে আসছে। ভারতের এসব পদক্ষেপ অত্র অঞ্চলের বর্তমান ক্ষমতার ভারসাম্যের ওপর প্রভাব ফেলছে। জাকারিয়া বলেন, ‘ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ক্ষেত্রে পাকিস্তান প্রতিশ্রুতি বদ্ধ।’

গত বছর ইন্সটিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ইসলামাবাদের এক গবেষণায় ইঙ্গিত করা হয়, ৩৫৬ থেকে ৪৯২টি পর্যন্ত পরমাণু বোমা তৈরির জন্য পর্যাপ্ত ইউরোনিয়াম ও প্রযুক্তিগত ক্ষমতা ভারতের রয়েছে। বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচির সুরক্ষা ব্যাপারে আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি কমিশন যে নিয়ম-কানুন বেঁধে দিয়েছে তা মেনে চলার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের নিরস্ত্রীকরণ বিভাগের ডিজি কামরান আখতার শংকা প্রকাশ করে বলেন, আনবিক কমিশনের সুরক্ষা বিধি না মেনে ভারত তার রি-অ্যাক্টরগুলো প্লুটোনিয়ামসমৃদ্ধকরণের জন্য ব্যবহার করতে পারে।
পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান তৈরি করতে চায় মিয়ানমার: পাকিস্তানের জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বানানোর জন্য ইসলামাবাদের কাছ থেকে লাইসেন্স পাওয়ার চেষ্টা করছে মিয়ানমার। এ নিয়ে দু’দেশের সরকারের মধ্যে ‘আলোচনায় অগ্রগতি’ হয়েছে। আইএইচএস জেন্স নামের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাবিষয়ক সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন এ খবর দিয়েছে। মিয়ানমার বিমানবাহিনী ও ইয়াঙ্গুনের প্রতিরক্ষা শিল্পের বরাত দিয়ে ম্যাগাটিনটি জানায়, পাকিস্তানের সঙ্গে মিয়ানমার যদি ওই চুক্তিতে সম্মত হয়, তবে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পে তাৎপর্যপূর্ণভাবে এগিয়ে যাবে ইয়াঙ্গুন।

পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে অন্তত ৭০টি জেএফ-১৭ থান্ডার বিমান রয়েছে। এছাড়া আগামী বছরের মধ্যে আরও ২৫০টি বিমান অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা আছে পাকিস্তানের। ২০০৯ সালে সর্বপ্রথম পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে সর্বপ্রথম এ বিমান যোগ হয়। মিয়ানমার এরই মধ্যে পাকিস্তান থেকে জেএফ-১৭ বিমান কেনার জন্য ইসলামাবাদের সঙ্গে চুক্তি করেছে। ২০১৫ সালে এসব বিমান কেনার অর্ডার দেয়া হয়।

চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রথম চালানে ১৬টি জেএফ-১৭ বিমান মিয়ানমারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মিয়ানমারের বিমানবাহিনীতে চীনের তৈরি যুদ্ধবিমানই রয়েছে বেশি। তবে এ ব্যাপারে ডনের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পাকিস্তান বিমানবাহিনীর যোগাযোগ করলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভারতের নাগরিকত্ব চায় ১২০০ পাকিস্তানি : এক হাজার ২০০ পাকিস্তানি নাগরিক ভারতের নাগরিকত্ব চেয়ে আবেদন করেছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। এছাড়া আরও প্রায় ১৩ হাজার পাকিস্তানি নাগরিক দীর্ঘমেয়াদি ভারতীয় ভিসার জন্য আবেদন করেছেন। খবর পিটিআইয়ের।

বুধবার ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজু বলেছেন, ভারতের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন ১২০০ সংখ্যালঘু পাকিস্তানি। একই সঙ্গে পাকিস্তানের ১২ হাজার ৮০০ নাগরিক ভারতের দীর্ঘমেয়াদি ভিসার আবেদন করেছে। রাজ্যসভায় কিরেন রিজু বলেন, মন্ত্রণালয়ের অভিবাসন, ভিসা ও বিদেশীদের নিবন্ধনের তথ্য অনুযায়ী; ২০১৬ সালে ১২ হাজার ৮০০ জন দীর্ঘমেয়াদি ভিসার জন্য ও ১২শ’ সংখ্যালঘু পাকিস্তানি ভারতের নাগরিকত্ব চেয়ে অনলাইনে আবেদন করেছে।

মন্ত্রী বলেন, ভারতের নাগরিকত্ব ও ভিসার জন্য আবেদনের কার্যক্রমে গতি আনতে অনলাইনে আবেদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, পাকিস্তানি সংখ্যালঘু অভিবাসীদেরকে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেয়ার ক্ষমতা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের হাতে দেয়া হয়েছে। সাত রাজ্যের ১৬ জেলার ম্যাজিস্ট্রেটরা পাকিস্তানিদেরকে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবেন।