রোহিঙ্গা যুবতিরা জড়িয়ে পড়ছে যৌন বানিজ্যে

tt-pic_13.jpg

ফাইল ছবি

রফিক মাহমুদ, উখিয়া :
মিয়ানমারের আরকান রাজ্য থেকে সে দেশের সেনাবাহিনী ও রাখাইন সম্প্রদায়ের নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশের অবৈধ ভাবে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের উখিয়ার কুতুপালং, টেকনাফের লেদা এবং নতুন ভাবে গড়ে উঠা বালুখালী রোহিঙ্গা বস্তি থেকে যুবতি নারীদেরকে একপ্রকার অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে একটি দালাল চক্র কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেল, মোটেল গুলোতে রোহিঙ্গা যুবতিদের নিয়ে যৌন বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। অত্যাধিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে নানান ধরনের অপরাধ ও অপহরনের মত ঘটনা। প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন রোহিঙ্গা যুবতিদেরকে চলেবলে কৌশলে হোটেলে নিয়ে করানো হচ্ছে অবাধ যৌনচার। কারনে অকারনে রোহিঙ্গা যুবতিদের অর্থের প্রলোভনে ফেলে তাদের দিয়ে করানো হচ্ছে পতিতাবৃত্তির মত অসমাজিক কর্মকান্ড। কক্সবাজারে পর্যটক মৌসমকে কাজে লাগিয়ে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের দুঃখ দূরদর্শার সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণীর দালাল চক্র এই অসমাজিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছে।
অল্প টাকায় রোহিঙ্গা যুবতিদের হোটেলে ও বিভিন্ন ভাড়া-বাসা ও কটেজে নিয়ে এক প্রকার বাধ্য করে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খদ্দের মনোরঞ্জনের জন্য কম দামে তাই তারা মিয়ানমার থেকে এসে কুতুপালং অবস্থান করা রোহিঙ্গা যুবতীদের বেচে নিয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে রোহিঙ্গা শিবিরের এসব উঠতি বয়সের কিশোরীদের দিয়ে জোর করে যৌন কাজ করানোর ও অভিযোগ উঠেছে। রোহিঙ্গা শিবিরের এসব কিশোরীদের চাকুরী দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কক্সবাজার জেলা শহর ও দেশের বিভিন্ন স্থানের নামী-দামী হোটেলে দেহ ব্যবসা করা হচ্ছে বলে ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে।
এ পর্যন্ত ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন জেলা পুলিশের হাতে রোহিঙ্গা যুবতীকে পতিতাবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার করেছে একাধিক থানা পুলিশ। এদের সাথে গ্রেফতার করা হয় অনেক পাচারকারী চক্রের সদস্যদের। তাদের মধ্যে অনেকই কিশোরী ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক। এছাড়াও রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির ভিত্তিক একটি শক্তিশালী পাচারকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে। পাচারকারী চক্র গার্মেন্টসে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের কিশোরীদেরকে নিয়ে দেশের বিভিন্ন যৌনপল্লীতে বিক্রি করে দিচ্ছে।
এছাড়াও দেশের অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা বিভিন্ন স্থানে অবাধ বিচরনের ফলে আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের কিশোরীদেরকে উক্ত পাচারকারী চক্র বিক্রি করার সময় ২০ হাজার, ৪০ হাজার বা কোন কোন ক্ষেত্রে লাখ টাকায় দরদাম করে অপর সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেয়। এতে দরদাম নির্ধারিত হয় গায়ের রঙ, চেহারা ও বয়সের উপর ভিত্তি করে। শুধু তাই নয়, পাচারকারী চক্র ও স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির ও তার আশেপাশের এলাকায় শুধুমাত্র মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের একটি যৌন পল্লী বাঁনানোর চক্রান্ত চালাচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
তাছাড়া সম্প্রতি কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেল, মোটেল ও গেষ্টহাউস গুলোতে পর্যটক মৌসমকে ব্যাবহার করে পাচারকারী চক্র রোহিঙ্গা শিবিরের কিশোরী ও যুবতী সরবরাহ করতে ব্যাস্ত রয়েছে । রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও বহিরাগত রোহিঙ্গা টাল বস্তি থেকে প্রায় প্রতিদিনই বেশ কয়েকজন যুবতী, কিশোরী পাচারকারী দালালের সহযোগিতা ছাড়াও ক্যাম্প পুলিশকে ম্যানেজ করে কক্সবাজারের হোটেল,মোটেল ও গেষ্ট হাউস গুলোতে খদ্দরের মনোরজ্ঞন করে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুতুপালং এর এক ব্যক্তি জানান, ক্যাম্প ভিত্তিক অবৈধ অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের নিয়ে একটি কিশোরী পাচারকারী চক্র সক্রিয় থাকলেও সংশিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা রহস্যজনক বলে মনে হয়। তাদের অবাধ বিচরণ বন্ধ করা না গেলে এবং প্রত্যাবাসন করা না হলে বাংলাদেশের ধর্মীয় মূল্যবোধও নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
###
রফিক মাহমুদ
উখিয়া
০১৮১২-৪২৯২৬৮