আরাকানে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিশ্বের মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার পাঁয়তারা

Rohingha-tt-pic.jpg

আশেক উল্লাহ ফারুকী ::

পৃথিবীতে যত জাতি বসবাস করছে, তার মধ্যে “রোহিঙ্গা” নামক একটি জাতি অন্যতম। কিন্তু জাতী হলে কি হবে, তাদের স্থায়ী কোন ঠিকানা নেই। ঠিকানাবিহীন এ জাতি ফুটবলের ন্যায় মুসলমানেরা জন্মগতভাবে মিয়ানমারের নাগরিক হলে ও মিয়ানমার রাখাইন সরকার তাদেরকে মেনে নিতে চাচ্ছেন না। কেননা তারা জাতীগতভাবে মুসলমান। তাদের একমাত্র অপরাধ; কেন তারা মিয়ানমারে মুসলমান হয়ে জন্মগ্রহণ করলেন। এজন্য সংখ্যালগু রোহিঙ্গা মুসলমানেরা রাখাইন সম্প্রদায়ের জন্য একটি বিষফুড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ধরে নিলাম রোহিঙ্গা মুসলমানেরা মিয়ানমারের নাগরিক নন, কিন্তু তাইলে কি, তারা গায়েবী এসেছে? আজ এসব প্রশ্ন বিশ্ব মুসলমানদের।

মিয়ানমারে ১৪৪ বিভিন্ন জাতী বসবাস করছে। তার মধ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানেরা হচ্ছে সংখ্যালগু একটি জাতি। এ জাতি শত শত বছর ধরে মিয়ানমারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসবাস করে আসছে তার মধ্যে বেশীভাগ রোহিঙ্গাদের বসবাস আরাকান রাজ্যে। এ রাজ্যটি মিয়ানমারের উত্তর পশ্চিম এবং বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণ সীমান্ত এলাকায় অবস্থান। বেশীরভাগ নাফ-নদী ও সাগর উপকূলীয় এবং পূর্বে বিস্তীর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে আরাকানের অবস্থান। শত ৮০% শতাংশ রোহিঙ্গা মুসলমানেরা বসবাস করে আসছে। এর আয়তন ১৫ হাজার বর্গকিলোমিটার। এতে অন্যান্য জাতী জন্মগতভাবে বসবাস করলে ও তারা কিন্তু নির্যাতনের শিকার হচ্ছেনা। হচ্ছে শুধু রোহিঙ্গা মুসলমানেরা। রোহিঙ্গা মুসলমানেরা নাগরিক অধিকার পাবার দুরের কথা, ধর্মীয় অধিকার থেকেও তারা বঞ্চিত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে গোটা আরাকানে মসজিদ থেকে আজান শুনা যাচ্ছেনা। মসজিদ ও মাদ্রাসা দীর্ঘদিন যাবৎ বন্ধ। তারা ধর্মীয় স্বাধীনতা চিরতরে বঞ্চিত। তাদেরকে আজ মিয়ানমার রাখাইন সম্প্রদায় ও সরকার মোরগের খাচার ন্যায় আবন্ধ করে রেখেছে। বিশ্ব মুসলমান আজ নীরব। আরাকানের স্বাধীকার আন্দোলনে অতীতে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের সামরিক জান্তার নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছিল। এ নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে অনেক রোহিঙ্গা পাশ্ববর্তী দেশ বাংলাদেশে পালিয়ে এসে বসবাস করছে এবং যারা বিত্তশালী শহরে এবং মধ্যপাচ্যে অবস্থান করছে। যারা নেহায়েৎ গবীর দেশ প্রেমিক ও ব্যবসায়ী তারা আরাকানে রমবাস করছে। আরাকানবাসী তথা রোহিঙ্গারা আশা করেছিল, ভবিষ্যতে আরাকানে নতুন দিগন্ত সূচিত হবে। এমন বুকভরা আশা নিয়ে তারা বসবাস করে আসছিল। কিন্তু সে আশা এখন নিরাশা পরিনত হলো। বিশেষ করে রোহিঙ্গা মুসলমানেরা রাখাইন নেত্রী নোবেল পুরুস্কার প্রাপ্ত অং সান সূচী ক্ষমতায় আসলে রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন ও নিপীড়ন অবসান ঘটবে এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা লাভ করবে। কিন্তু হিতে বিপরীত হলো।

অং সান সূচী ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবার পর রোহিঙ্গাদের স্বপ্ন ধুলিস্ব্যাত হলো। গত ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর আরাকান রাজ্যের সীমান্ত চৌকিতে সন্ত্রাসী হামলায় মিয়ানমারের ৯ জন বিজিপি সদস্য নিহত হওয়ার জের ধরে দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা, বাড়ীঘরে অগ্নিসংযোগ ও নারীদের উপর চলে গণধর্ষণ মাত্রা। এছাড়া জায়গা জমি থেকে উচ্ছেদ করে, রোহিঙ্গাদের কর্পোরেটের হাতে তুলে দিচ্ছে।

এক সমীক্ষায় জানা যায়, সে দেশের সেনাবাহিনীর অভিযান চলাকালে রোহিঙ্গা উচ্ছেদের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। রোহিঙ্গাদের উচ্ছেদ করে ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা ওদের হাতে ন্যাস্ত করা হচ্ছে। সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে রোহিঙ্গাদের মালিকানাধীন ১২ লাখ ৬৮ হাজার ৭৭ হেক্টর (৩১) লাখ একের জমি কর্পোরেটদের বরাদ্ধ দিয়েছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের শতাধিক ভবণ ইতিমধ্যে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। এমনকি আরো ৮১৯টি ভবন গুড়িয়ে দেয়ার জন্য নির্দেশ জারী করেছে সে দেশের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)। বিশ্বের মানচিত্র থেকে আরাকান মুছে ফেলে তার স্থরে রাখাইন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে, রাখাইনদের একমাত্র উদ্দেশ্য।

অথচ বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বৌদ্ধ বলেন, “জীব হত্যা করা মহা পাপ এবং অহিংসা পরম ধর্ম” রাখাইন সম্প্রদায় এ ধর্ম অমান্য করে নির্বিচারে জীব হত্যা করেই যাচ্ছে। তারা মুসলিম অধ্যুশিত আরাকান রাজ্যকে রাখাইন রাজ্য পরিনত করার পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে। আজ বিশ্ব মুসলিম নিরব।