টেকনাফে আদালতের নির্দেশে দাফনের ১৬দিন পর কবর থেকে প্রবাসীর লাশ উত্তোলন

Teknaf-pic_07.02.17.jpg

নুরুল হোসাইন, টেকনাফ |
টেকনাফে দাফনের ১৬দিন পর কবর থেকে এক সৌদি প্রবাসীর লাশ উত্তোলন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারী) বেলা ১২ টায় টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) তুষার আহমদ এর উপস্থিতিতে সৌদিপ্রবাসী টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের বড়ডেইল এলাকার মাও. আনোয়ার হোছাইনের লাশ উত্তোলনের করা হয়। নিহতের বড় ভাই মোহাম্মদ হোছাইনের দায়ের করা মামলার (সিআর ৩৩/২০১৭)প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে মৃত্যুর কারন উদঘাটনে লাশ উত্তোলন করা হয়। কক্সবাজার সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালত (টেকনাফ) তামান্না ফারাহ এ নির্দেশ দেন।

মামলা তদন্ত কর্মকর্তা টেকনাফ মডেল থানার (ওসি) অপারেশন শফিউল আলম বলেন, কক্সবাজার বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর জানা যাবে এটি হত্যাকান্ড কিনা।

লাশ উত্তোলনকালে উপস্থিত থাকা টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর মেডিকেল অফিসার ডাঃ শোভন দাশ জানায়, লাশের মাথার পেছন দিক কানে, মুখমন্ডল, চোখের উপরে, কপালে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

জানা যায়, গত ২০ জানুয়ারী নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে মারা যান মাও. আনোয়ার হোছাইন। সেসময় নিহতের সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী বাড়ির লোকজনকে জানান, ঘুমানোর সময় খাঁট থেকে তার স্বামী পড়ে অজ্ঞান হয়ে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত টেকনাফ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন। সে সময় নিহতের স্ত্রীর কথা বিশ্বাস করে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
পরে নিহতের ছোটভাই শাহাদাত হোছাইন তার ভাবীর পরকীয়ার কারনে ভাইকে হত্যা করা হয়েছে বলে লোকমুখে প্রচার শুনে নিহতের রুমে তল্লাশী করে খাটের উপরে বালিশ ও তোষকে ভিকটিমের রক্তভেজা কাপড় ও খাটের মাথার অংশে তোষকের নিচে ধারালো ছোরা, একটি রক্তমাখা লোহার হাতল উদ্ধার করেন।
পরে সদ্যবিবাহিতা স্ত্রী ও অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামী করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ গত ২৬ জানুয়ারী নিহতের স্ত্রী সুফিয়া আফরিন লুৎফাকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরন করেন।
নিহত মাও. আনোয়ার হোসাইন (৩৫) দীর্ঘ ১৪ বছর যাবত সৌদি আরব অবস্থান করে কয়েক মাস আগে দেশে ফিরে গত ৮ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে স্ত্রী লুৎফার সাথে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়।