হ্নীলায় ইয়াবা ব্যবসায়ীর নির্মমতায় কিশোর মৃত্যু পথের যাত্রী

6789.jpg

জসিম উদ্দিন টিপু, টেকনাফ::
টেকনাফ হ্নীলায় মাদক ব্যবসায়ীর নির্মম হামলায় দরিদ্র পরিবারের রাসেল নামের এক কিশোর এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। অভাবের তাড়নায় প্রলোভনে পড়ে ইয়াবা পাচার করতে গিয়েই ইয়াবা ব্যবসায়ীদের নির্মম অত্যাচার এবং হামলায় ঐ কিশোর এখন রীতিমত মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করছেন।

স্থানীয় সুত্র জানায়, হ্নীলা ইউনিয়নের দক্ষিণ আলীখালী গ্রামের কাদিরের পুত্র কামাল ও পানখালী এলাকার সোনালীর পুত্র মুজিব এবং কামালের জনৈক বোন জামাই সিন্ডিকেট করে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করে আসছে। সিন্ডিকেটটি স্থানীয় যুবক-যুবতিদের দিয়েই ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং নোয়াখালী এলাকায় ইয়াবা পাচার করেন।

গত মাসের শেষের দিকে কামাল ও মুজিব দক্ষিণ আলীখালী এলাকার মকতুল হোসন প্রকাশ লেইট্ট্রার পুত্র রাসেল(১৫) কে ১৪০০পিচ ইয়াবা দিয়ে নোয়াখালী পাঠায়। গন্তব্য এলাকায় পৌঁছে তারা রাসেলের পায়ুপথ থেকে ইয়াবা বের করেন। বহনের টাকা চাইলে তারা রাসেলকে বেদম মারধর করেন। এক পর্যায়ে রাসেলের নিকট অন্য চালান বাবদ ৩০হাজার টাকা দাবী করে হায়েনার মত নির্মম নির্যাতন চালিয়ে হাত-পা, মাথা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। এমনকি দাঁতের নীচের মাড়ি পর্যন্ত নষ্ঠ করে দেয়। দীর্ঘ ১০/১২দিন পর জিম্মিদশা থেকে পালিয়ে ভিক্ষা করে গাড়ী যোগে কোন মতে আলীখালী সড়কে পৌঁছেন।

খবর পেয়ে স্বজনরা আহত রাসেলকে বাড়ীতে নিয়ে যান। রাসেলের এমন পরিণতি দেখে স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। পরে রাসেল কেঁদে কেঁদে কামাল এবং মুজিবের সব কাহিনী খুলে বলেন। ৬ফেব্রুয়ারী রাতে তাঁকে টেকনাফ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা হাসপাতালে রেফার করেন।

রাসেলের বোন জুহুরা বলেন, আমার ভাই লবণের মাঠের শ্রমিক। কামাল এবং মুজিব লোভ ফেলে ইয়াবা দিয়ে এমনকি করেছে। তারা আমার ভাইকে একেবারে প্রাণে মারতে চেয়েছিল। স্থানীয় মেম্বার নুরুল হুদা লোকজন মারফত বিষয়টি শুনেছেন জানিয়ে ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবী জানিয়েছেন। জানতে চাইলে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ বলেন, বিষয়টি আমি শুনেনি। তবে অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুততার সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।