নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে হাট স্থাপনের প্রস্তাবে দু-দেশের মানুষের হৃদয়ের সম্পর্ক আরো উন্নত হবে

89.jpg

পার্বত্য প্রতিমন্ত্রি বীর বাহাদুর কথা আর কাজে সমান তাল

শামীম ইকবাল চৌধুরী,নাইক্ষ্যংছড়ি :
পার্বত্য এলাকার নাইক্ষ্যংছড়ির চাক্ঢালা সীমান্ত বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে আধুনিক বর্ডার হাট স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথা পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রির বীর বাহাদুর স্থানীয় প্রেস ক্লাবের কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে আলোচনায় তুলে ধরায় খবর ছড়িয়ে পড়লে এখন নাইক্ষ্যংছড়ি সীমন্তের চাক্ঢালায় জনসাধারনের কাছে সবুজ সংকেতে পরিণত হয়েছে। গত শনিবার ৪ ফেব্রোয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় নাইক্ষ্যংছড়ি ডাক বাংলোর ভিআইপি হল রুমে নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাবের কর্মরত সাংবাদিকরা পার্বত্য প্রতিমন্ত্রি বীর বাহাদুরকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রি বলেন, এই নাইক্ষ্যংছড়ির চাক্ঢালা সীমান্ত দু-দেশের অর্থনীতিসহ মানুষের হৃদয়ের সম্পর্ক আরো উন্নত হবে। এই সীমান্তে হাট স্থাপনের মাধ্যমে নতুন করে মিয়ানমার-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সমস্যা সমাধানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এই বাজার হবে মাদক ও নেশা মুক্ত । এই বাজারে নতুন পথে দু,দেশের উৎপাদিত পন্য ক্রয়-বিক্রির মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য আরো বেশি দুরে এগিয়ে নিয়ে যাবে। সীমান্তে বসবাসকারী মানুষদের ব্যবসায়িক লেনদেন ও যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি, চোরাচালান কমানোর ক্ষেত্রে এ প্রস্থাবিত সীমান্ত চাক্ ঢালার হাটটি বড় ভূমিকা পালন করতে পারবে বলে মনে করাছেন প্রতিমন্ত্রি৷
স্থানীয়দের মতে চাকঢালা এলাকায় বাণিজ্যিক ট্রানজিট পয়েন্ট স্থাপন হলে দু’দেশের মধ্যে গভীর বন্ধুত্বের পাশাপাশি দু’দেশের প্রয়োজন মাফিক আমদানী-রপ্তানির নতুন এক দীগন্ত উম্মোচিত হবে। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী সরকারের সীদ্ধান্ত ও সুদূর পসারী পরিকল্পনার ভিত্তিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের চাকঢালা চেরারমাঠে একটি বানিজ্যিক ট্রানজিট স্থাপনে দাবী জানিয়েছেন। সম্ভাব্য বর্ডার হাট ও ঘুমধুম পয়েন্টে স্থল বন্দর স্থাপন কর্যকর করা হলে পার্বত্য এলাকার জনসাধারণ যেকোন একটি ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে উপকৃত হবে।
সূত্র মতে, সম্ভাব্য তিনটি ট্রানজিট পয়েন্ট এর মধ্যে চাকঢালা ও আশারতলী দুটি পয়েন্ট উপজেলা সদরে অবস্থিত। অপরটি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নে। বর্তমানে চাকঢালা চেরারমাঠ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের জনবহুল ওয়ালিডং, ফকিরাবাজার হয়ে মংডু ও আকিয়াব শহরে সহজেই যাতায়ত সম্ভব। মাঝখানে বড় কোন নদীও নেই। গত কয়েক বছর পূর্বে থেকে মিয়ানমারের ওপারে সীমান্ত সড়ক গুলোও উন্নয়ন করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশ সীমান্তে ট্রানজিট পয়েন্ট স্থাপনে বড় ধরনের কোন বাজেটেরও প্রয়োজন নেই। কয়েকটি ব্রিজ, কার্লভাট ও সীমান্তের কিছুটা সড়ক সংস্কার করা হলে দেশের উন্নত একটি বাণিজ্যিক পয়েন্ট চাকঢালায় স্থাপন করার দাবী সচেতন মহলের।
ট্রানজিট ও বর্তমান অবস্থাঃ বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত পিলার ৪৩-৪৪ এর প্রায় তিন কি:মি মধ্যবর্তী সুবিধাজনক স্থানে বাংলাদেশ-মিয়ানমার স্থল পথে সীমান্ত বানিজ্যের এক নতুন ট্রানজিট পয়েন্ট হতে পারে এবং এটি এলাকার গনমানুষের দাবীতেও পরিণত হয়েছে। চাকঢালার বানিজ্যিক ট্রাণজিট পয়েন্ট হিসাবে সরকারীভাবে বানিজ্য চুক্তির মাধ্যমে অবকাঠামো গড়ে তোলা হলে এখানে টেকনাফের চেয়েও সহজ ও আধুনিক বানিজ্যিক ট্রানজিট পয়েন্ট গড়ে তোলা সম্ভব বলে অভিজ্ঞজনের অভিমত। অপরদিকে ঘুমধুম কিংবা আশারতলী এলাকায় বানিজ্যিক পয়েন্ট করা হলে এতে পার্বত্য এলাকার চেয়ে বেশি সুবিধা ভোগ করবে পার্শ্ববর্তী কক্সবাজার জেলার রামু, উখিয়া ও টেকনাফ এলাকার জনসাধারণ। এ জন্য সুধূর প্রসারী চিন্তার মাধ্যমে ট্রানজিট পয়েন্ট স্থাপনের জন্য সরকারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে পার্বত্য এলাকার মানুষ।
এ ব্যাপারে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম বলেন, পার্বত্য এলাকার মানুষের উন্নয়ন করতে হলে চাকঢালা চেরারমাঠ সড়ক দিয়েই ট্রানজিট পয়েন্ট স্থাপন করা প্রয়োজন। এ সড়ক দিয়ে ট্রানজিট পয়েন্ট স্থাপন হলে সরকারের রাজস্ব আদায়সহ সর্বপ্রকার সুবিধা হবে। অন্য পয়েন্ট হলে পুরো সুবিধা আদায় করবে পার্শ্ববর্তী কক্সবাজার জেলার জনসাধারণ বলে তিনি জানান।
নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীতি প্রার্থী তসলিম ইকবাল চৌধুরীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দরা জানিয়েছেন, ইতিপূর্বে বান্দরবান ৩০০ নং আসনের সংসদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রী) বীর বাহাদুর (উশৈচিং) নাইক্ষ্যংছড়ি সফরকালে চাকঢালা চেরারমাঠ এলাকায় সীমান্ত বাণিজ্যিক ট্রানজিট পয়েন্টে বর্ডার হাট স্থাপন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাই এটি স্বপ্ন নয় প্রতিমন্ত্রী স্থল বন্দর বাস্তবে রূপ দিবেন এমনটি মনে করেন তিনি।
উলে¬খ্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় প্রবাহমান নদী সমূহের সীমানা নির্ধারণ নাব্যতা হ্রাস এবং মিয়ানমার সীমান্তে স্থল বন্দর ও বর্ডার হাট স্থাপনের উদ্যেগ নিচ্ছে সরকার। এ সংক্রান্ত সম্ভাব্য করণীয় নির্ধারণে রবিবার (২৯ জানুয়ারি) নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ে এক সভা অনুষ্টিত হয়েছে। এদিকে পার্বত্য এলাকায় স্থল বন্দর ও সীমান্ত হাট বাজার স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে গুরুত্ব পেয়েছে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের চাকঢালা ও ঘুমধুম।