কচ্ছপের পিঠে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার

bagerhat-1_38798_1486384823.jpg

কচ্ছপের পিঠে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটাররবিবার দুপুরে দুইটি কচ্ছপের পিঠে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসিয়ে বঙ্গোপসাগরের মোহনার আদাচাই এলাকায় অবমুক্ত করা হয়।
পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত প্রায় ‘বাটাগুর বাসকা’ প্রজাতির কচ্ছপ সংরক্ষণ ও প্রজননের মাধ্যমে এর বংশ বিস্তারের জন্য দুইটি কচ্ছপের পিঠে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসিয়ে বঙ্গোপসাগরে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

রবিবার দুপুরে সুন্দরবন সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের মোহনার আদাচাই এলাকায় কচ্ছপ দুটি অবমুক্ত করা হয়।

এদিন মংলার ফুয়েল জেটিতে বন বিভাগ, টারটেল সারভাইভাল এলায়েন্স (আমেরিকা), ভিয়েনা জু (অস্ট্রিয়া) ও প্রকৃতি জীবন ফাউন্ডেশনের যৌথ আয়োজনে এ কার্যক্রম শুরু হয়। এর ফলে কচ্ছপের জীবনাচরণের তথ্য ও পরিবেশগত ছবি সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।

এ গবেষণার মধ্য দিয়ে জানা যাবে- এ প্রজাতির কচ্ছপের স্বভাব, খাদ্য সংগ্রহ, বিচরণ, পরিবেশসহ বঙ্গোপসাগরের গভীর ও না অগভীর পানিতে থাকতে পছন্দ করে কচ্ছপ। এছাড়া এ কচ্ছপ বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ অংশ ছেড়ে ভারত ও শ্রীলংকা অংশে যায় কিনা জানা যাবে তাও। এখন থেকে আগামী এক বছর ধরে কচ্ছপটির গতিবিধি পর্যালোচনা করা হবে। পর্যালোচনা ও গবেষণা শেষে সুন্দরবন এবং বঙ্গোপসাগরে এ প্রজাতির কচ্ছপের আরো বাচ্চা অবমুক্ত করা হবে।

এ লক্ষ্যে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন এলাকায় ২০১৪ সালে গড়ে তোলা হয় ‘বাটাগুর বাসকা’ কচ্ছপ প্রজনন কেন্দ্র। এ কেন্দ্র থেকে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে কচ্ছপের ডিম থেকে বাচ্চা হওয়ার পর সেগুলো প্রাপ্ত বয়স্ক হলে সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরে অবমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন এ প্রকল্পের বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, এর মাধ্যমে বিলুপ্ত প্রায় এ কচ্ছপ প্রজাতিকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। করমজল কচ্ছপ প্রজনন কেন্দ্রে বর্তমানে ১শ ১৭ ছোট ও ১০টি বড় বাটাগুর বাসক প্রজাতির কচ্ছপ রয়েছে। এর মধ্যে বড় বড় ৪টি পুরুষ ও ৪টি নারী কচ্ছপ রয়েছে। এ কচ্ছপ ৮টি চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে ডিম দেবে। এরপর ডিম থেকে হওয়া বাচ্চাগুলো প্রাপ্ত বয়স্ক হলে সুন্দরবন ও সাগরে অবমুক্ত করা হবে। করমজল প্রজনন কেন্দ্রের এ কচ্ছপগুলো দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়।

প্রসঙ্গত, পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতের সুন্দরবন এলাকায় ‘বাটাগুর বাসকা’ প্রজাতির কচ্ছপ রয়েছে মাত্র ১’শটির মতো।

কচ্ছপ অবমুক্ত করার সময়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চল খুলনার বন সংরক্ষক জাহিদুল কবির, অস্ট্রিয়ার টাটাল আইল্যান্ড’র প্রধান বিজ্ঞানী ড. পিটার প্রাসাগ, পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো: সাইদুল ইসলাম, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু প্রমুখ।

এ সময় বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চল খুলনার বন সংরক্ষক জাহিদুল কবির বলেন, দেশের সংকটাপন্ন এ প্রাণী বাংলাদেশ ও ভারতের অংশে মাত্র ১’শ টির মতো রয়েছে। বিলুপ্ত প্রায় এ প্রাণীকে আমাদেরকেই রক্ষা করতে হবে। এ জন্যই মূলত এ আয়োজন ।

তিনি আরো বলেন, বিলুপ্তপ্রায় এ প্রাণী রক্ষায় ২০০৮ সালে উদ্যোগ নেয়া হয়। এরপর ২০১৪ সালে করমজলে এ প্রজাতির কচ্ছপ প্রজনন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। মূলত এ প্রাণীটির স্বভাব, খাদ্য সংগ্রহ, বিচরণ, পরিবেশসহ বঙ্গোপসাগরের গভীর ও অগভীর পানিতে থাকতে পছন্দ করে সে সব বিষয়ে জানার জন্য নিউজিল্যান্ডভিত্তিক স্যাটেলাই ট্রান্সমিটার সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জেলে-বাওয়ালীদের জালে যদি কখনও এ কচ্ছপ দুইটি আটকা পড়ে তাহলে তারা যেন আমাদেরকে খবর দেয়। তা না হলে তারা যেন দ্রুত জাল থেকে অবমুক্ত করে দেয়। এ জন্য জেলে-বাওয়ালী, র‌্যাব, কোস্টগার্ড, পুলিশ ও নৌ বাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজন। সকলের প্রচেষ্টা ছাড়া কোনভাবেই এ প্রাণীটিকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না।