হারিয়ে যাচ্ছে নানা প্রজাতির শালিক পাখি

ssss.jpg

গোলাম মওলা রামু ।
পাখিদের মধ্যে শালিকরা জনবসতির আশপাশে থাকতেই বেশি ভালবাসে। এ দেশের গ্রামবাংলার নানা প্রজাতির শালিক পাখিরাও পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার কারণে হারিয়ে যাচ্ছে। শালিক পাখি অনেক প্রজাতি রয়েছে এখন আর গ্রামগঞ্জে সব ধরণের প্রজাতির শালিক সহজে নজরে পড়েনা। ভাত শালিক আর গোবরে শালিকে দেখা মিললেও এই দুটি প্রজাতির সংখ্যাও অনেক কমে গেছে। বিরল প্রজাতির শালিকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বামন শালিক, চিতা শালিক, ঝুঁটি শালিক, গাঙ শালিক, ভাত শালিক, গোবরে শালিক, ময়না আর কাঠ শালিক। আমাদের গ্রামে ও শহর গুলোতে প্রায় সময় দেখা যায় ঝুঁটি শালিক, ভাত শালিক, গোবরে শালিক পাখি। ময়না শালিক ,বামন শালিক, চিতা শালিক, গাঙ শালিক, কাঠ শালিক আমাদের গ্রাম ও শহরে এখন আগের মত দেখা যায়না।পাখিশিকারীরা বন জঙ্গল থেকে ধরে বাজারে বিক্রি করতে আনলে এ পাখি গুলোর দেখা মেলে।
ঝুঁটি শালিকদের গ্রামের লোকেরা বলে(ঝুইট্টা পাইখ)। স্থানীয় প্রজাতির এই শালিক এখনও গ্রামেগঞ্জে দেখতে পাওয়া যায়, তবে খুব বেশি নয়। এরা লম্বায় সর্বোচ্চ ২৩ সেন্টিমিটার হয়। এদের ইংরেজি নাম হচ্ছে ঔঁহমষব গুহধ, আর বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে অপৎরফড়ঃযবৎবং ঋঁংপঁং. এদের ঠোঁট লাল টকটকে। চোখ দুটো গোলাকার উজ্জ্বল এবং চোখের পাশে গাঙ শালিক বা ভাত শালিকের মতো লাল-হলুদ আভা নেই। পাগুলো লালচে এবং পিঠ ও মুখের পালক কিছুটা কালচে। এছাড়া বুকের পালক ধূসর ও পাটকিলে মিশেল রংয়ের। ঠোঁটের ওপর এদের ছোট ঝুঁটি থাকে গাঙ শালিকের মতো। এরা ফল, ফুলের মধু, পোকামাকড় খেয়ে থাকে।
ভাত শালিকদের আমাদের এলাকায় বলে (ভাত্তোয়া পাইখ) । এই প্রজাতির শালিক এখনো সর্বত্রই দেখা যায়। তবে সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। এরা পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে পারছে বলে বিরূপ অবস্থাতেও টিকে আছে। ভাত শালিক সবকিছুই খায়। এরা মানুষের বসতবাড়ির আশপাশে থাকতেই ভালবাসে। মানুষের আহার্য ভাত, তরকারি, চাল, চিড়া, মুড়ি খেতে এরা অভ্যস্ত। এমনকি সুযোগ পেলে জানালা দিয়ে ঘরে ঢুকে খাবার খেয়ে পালিয়ে যায়। ২৩ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যরে ভাত শালিকের সঙ্গে গাঙ শালিকের যথেষ্ট মিল থাকলেও এদের ঝুঁটি নেই আর ঠোঁট ছোট এবং দুচোখের পাশে লম্বা টানা হলুদ রং। লেজের নিচের অংশের পালক সাদা আর ওপরে কালচে। এছাড়া গায়ের পালক উজ্জ্বল পাটকিলে এবং ঠোঁট থেকে গলা পর্যন্ত পালকের রং কালো। পায়ের রং হালকা হলুদ। এরা যত্রতত্র চিকন ডালপালা ও আঁশ দিয়ে গোলাকার বাসা বানায়।
গোবরে শালিকদের বলে (চনা পাইখ)। এই প্রজাতির শালিক সর্বত্র দেখা যায়। এদের গোশালিক নামেও ডাকা হয় কোথাও কোথাও। সর্বোচ্চ ২৩ সেন্টিমিটার লম্বা । এদের ঠোঁট লম্বা এবং হলুদ। কালো পুঁতির মতো দুটো চোখ এবং চোখের দুপাশে, দুডানার পাশে লম্বা রেখার মতো সাদা পালক এদের আকর্ষণীয় করে তোলে। এদের বুকের পালক সাদা, লেজটা কালো রংয়ের। পিঠ, মাথা, গলার পালকের রং কালো। যে কোনো গাছে খড় দিয়ে বানানো এদের অগোছাল বাসা সবার চোখেই পড়বে। এরা মূলত পোকামাকড় খেতেই বেশি ভালবাসে। এদের গোবরে শালিক নামকরণের অন্যতম কারণ এদের গরু ঘোড়াাসহ অন্যান্য পশুর গোবর খুঁটে খুঁটে পোকামাকড় খেতেই দেখা যায় বেশি।
ময়নাকে সাধারণত সবার কাছে একই নামে পরিচিত । পাখিদের মধ্যে শেখানো কথা বলতে পারদর্শিতার কারণে শালিক প্রজাতির ময়না অতি মূল্যবান একটি পাখি, যা এখন বিলুপ্ত হতে চলেছে। এদের মূলত পাহাড়ি বনাঞ্চলেই দেখতে পাওয়া যায়। তবে এখন সংখ্যায় অনেক কম। ২৫ সেন্টিমিটার লম্বা। এদের লম্বা হলুদ ঠোঁট এবং দুচোখের পাশে হলুদ দাগ ছাড়া শরীরের পালক চকচকে নীল রংয়ের। এরা ফুল, ফল, মধু এবং পোকামাকড় খেতে অভ্যস্ত। গাছের কোটরে বাসা বানায়। এক বাসায় জুটি বেঁধে থাকে অনেক দিন।
শালিকের স্বরতন্ত্রী বেশ জটিল হওয়া এদের ডাক বিচিত্র ও বিভিন্ন সবরে ওঠানামা করে। এরা খুব সহজেই আশেপাশের আওয়াজ আর মানুষের কথা অনুকরণ করতে পারে। এরা মানুষের গলার স্বর শুনে নির্দিষ্ট কাউকে চিনতে সক্ষম এবং বর্তমানে এরা মানব ভাষা বিষয়ক গবেষণার বিষয় বস্তুুতে পরিণত হয়েছে। d