ঈদগাঁও তে দিবালোকে যুবক খুন : গণধোলাইয়ে ঘাতকও নিহত

koon.jpg

আনোয়ার হোছাইন, ঈদগা্ঁও :
কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁওতে দিবালোকে ছুরিকাঘাতে শাহজালাল (২২) নামের এক যুবক খুন হয়েছে । এসময় ক্ষুদ্ধ জনতা খুনিকে গণধোলাই দিলে পরে তারও মৃত্যু হয় । এঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে ।

৩ জানুয়ারী শুক্রবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঈদগা্ওঁস্থ ইসলামপুর ইউনিয়নের মধ্য নাপিতখালী খেলার মাঠ সংলগ্ন গ্রামে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে ।

সরেজমিনে জানা যায়, উক্ত এলাকার আবুল কাশেম প্রকাশ রুব্বান কাশেমের ছেলে শাহজালাল কৃষি জমিতে সেচ দিতে য্ওায়ার পথে বাড়ী সংলগ্ন স্থানে পৌছতেই প্রতিবেশী মৃত আলী আকবরের ছেলে ওৎপেতে থাকা ডাকাত ও সন্ত্রাসী মহিউদ্দীন প্রকাশ ককটেল মহিউদ্দীন তার বুকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে য্ওায়ার চেষ্টা করে । আহত শাহজালাল খুনিকে ঝাপটে ধরে চিৎকার দিলে লোকজন এগিয়ে এসে আহতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয় । এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা ধৃত খুনিকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে । পুলিশ লাশের সুরতহাল করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় এবং আহত ঘাতককে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করে বলে নিশ্চিত করেন ঈদগা্ওঁ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক খায়রুজ্জমান ।

এদিকে ঘটনার পরপরই ক্ষুদ্ধ জনতা খুনির বাড়ি ঘরে হামলা চালায় বলে জানা গেছে । অপরদিকে খুনির মৃত্যুর সংবাদ শুনে এলাকাবাসী শস্তি প্রকাশ করলেও তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মামলা দিয়ে নিরিহ লোকজনকে হয়রানি করবে কিনা তা নিয়ে তাদের মধ্যে অজানা আতংক বিরাজ করছে । এনিয়ে তারা প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সহযোগিতা আশা করছেন ।

চেয়ারম্যান আবুল কালামের সাথে যোগাযোগ করা হলে সংঘটিত ঘটনায় যাতে নিরহ জনগণ হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হবে বলে জানান । এ ঘটনার কয়েকদিন পুর্বে খুনের শিকার শাহজালালের পিতাকেও সামান্য সীমানা বিরুধের জেরে ব্যাপক মারধর করেছিল বলে জানান এলাকাবাসী।

তদন্ত কেন্দ্র ইনচার্জ ও ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক খায়রুজ্জমান জানান, উত্তেজিত জনতা কতৃক ঘরে হামলার সংবাদ পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে এবং রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত লাশ দুটি ময়না তদন্তের জন্য মর্গে রয়েছে । উল্লেখ্য ঠান্ডা মাথার খুনি মহি উদ্দিনের বিরুদ্ধে ডাকাতি,ছিনতাই, খুনসহ ডজনাধিক মামলা রয়েছে । ইতিপুর্বে সে কয়েক বছর জেলও খেটেছে । বের হয়ে ফের একই অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছিল । প্রাণের ভয়ে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতনা । নিরবে সহ্য করে যাচ্ছিল তার সব অপকর্ম ।