ঘুমধুমের ১যুবক উখিয়ায় অপহৃত ৩ ঘন্টা পর পুলিশী অভিযানে উদ্ধার

full_1785249225_1417249310.jpg

শ.ম.গফুর,উখিয়া :

উখিয়ার পার্শ্ববর্তী ঘুমধুমের ১যুবক অপহরণের ৩ ঘন্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালিয়ে উখিয়ার গহীন জংগল থেকে
উদ্ধার করেছে উখিয়া থানা পুলিশ। অপহরণের ঘটনায় উখিয়া থানায় এজাহার দায়ের করেছে অপহৃতের পরিবার। থানায় দায়ের করা এজাহার ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, উখিয়ার পার্শ্ববর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের বাইশ ফাঁড়ি এলাকার মৃত কবির আহমদের পুত্র ক্ষুদ্র মুদির দোকানী রফিক আলম (২৫) নিয়মিত উখিয়া থেকে নিজ দোকানের জন্য সদায় করতেন। তারই ধারাবাহিকতায় গত ৩১জানুয়ারী দিবাগত রাত ৭টার সময় সদায় করে কয়েকজন নিকটতম আত্মীয় সহ উখিয়া থেকে সিএনজি গাড়ী যোগে বাড়ি ফেরার পথিমধ্যে উখিয়ার টি এন্ড টি নামক স্থান থেকে রফিক আলমকে মুখোশ পরিহিত ৫/৬ অজ্ঞাত দুবৃর্ত্তরা অপহরণ করে উখিয়ার দরগাহ্ বিলের জংগলাকীর্ণ স্থানে নিয়ে যায়। এসময় গাড়ীতে থাকা সিএনজি চালক ও রফিক আলমের আপন শশুর আবছার কামাল অপরাপর যাত্রীদের নিয়ে তাৎক্ষণিক উখিয়া থানায় অবহিত করেন। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশে এস আই মাইন উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অপহরণের ঘটনাস্থল থেকে শুরু করে সম্ভাব্য একাধিক স্পর্শকাতর স্থানে দীর্ঘ ৩ ঘন্টার রুদ্ধশ্বাস তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে উখিয়ার দরগাহ্ বিল নামক জায়গার জংগলাকীর্ণ নির্জন স্থান থেকে অপহৃত রফিক আলমকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এসময় অপহরণের শিকার রফিক আলম জানান,তাকে দরগাহ্ বিল এলাকার মোঃ হোছন ডিলারের পুত্র ছৈয়দ আলমের নেতৃত্বে অপহরণ পুর্বক ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে ব্যাপক মারধর করা হয়। চাঁদা দিতে অপারগ হওয়ায় রফিক আলমকে শাসিয়ে বলে জায়গা – জমি ছেড়ে দিতে হবে। তার জন্য রফিক আলমের নিকট থেকে একাধিক নন জুডিশিয়াল খালী স্ট্যাম্পে সাক্ষর আদায় করা হয় বলে পুলিশ ও রাজাপালং ইউপির সদস্য ইকবালের সামনে অভিযোগ করে বলেন। রফিক আলম আরো জানান,অপহরণের মুলহোতা ছৈয়দ আলম তার নিকটতম আত্মীয়। তাদের সাথে পুর্ব থেকে জায়গা – জমির বিরোধ রয়েছে। তা নিয়ে ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ সহ স্থানীয়ভাবে একাধিকবার শালিস -বিচারও হয়। এসব ঘটনার জের ধরে ছৈয়দ আলম গং আরো কয়েকবার রফিক আলমকে হামলা চালিয়ে হত্যার চেষ্টাও চালায়। ধারাবাহিকতায় এ অপহরণের ঘটনা ঘটিয়েছে ছৈয়দ আলম গং। এ বিষয়ে ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান (ইউপি) একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ জানান,আমি ইতিপূর্বে রফিক আলম ও ছৈয়দ আলম গং এর জায়গা-জমির বিরোদের বহুবার শালিস – দরবার করেছি। তাতে রফিক আলমকে বিনা ওজরে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার পাঁয়তারা জানতে পারি। এবিষয়ে ছৈয়দ আলম গংরা জড়িত!
অপহৃত রফিক আলমকে উদ্ধার অভিযানে যাওয়া উখিয়া থানার উপ – পরিদর্শক মোঃ মাইন উদ্দিন জানান,অপহরণের ঘটনায় অপহৃত রফিক আলমের শশুর বাদী হয়ে ছৈয়দ আলম সহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫/৬জনকে আসামী করে এজাহার দায়ের করেছে। দীর্ঘ অভিযান চালিয়ে অপহৃতকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। তদন্ত পুর্বক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভিকটিমকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আবুল খায়েঁর জানান,অভিযোগ পেয়েছি। অপহৃতকে উদ্ধার করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হইবে।