আজ যুগান্তরের ১৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী

jugantor-2_38308_1485923376.jpg

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :
পাঠক নন্দিত জাতীয় দৈনিক যুগান্তর ১৮ তম বর্ষে পদার্পণ করেছে আজ (পহেলা ফেব্র“য়ারি)। ঢাকার সাথে সামঞ্জস্য রেখে কক্সবাজারেও জন্মবার্ষিকী পালন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষ্যে বুধবার বেলা ১০ টায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে এক শোভাযাত্রা বের করা হবে। শোভাযাত্রাটি প্রধান সড়ক হয়ে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হবে। সেখানে জন্মদিনের কেক কেটে ১৮ তম বর্ষ উদযাপন করা হবে। শোভাযাত্রায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত থাকবেন। এতে যোগ দিয়ে শোভাযাত্রা ও জন্মদিনের অনুষ্ঠানটি আলোকিত করতে শুভার্থীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন যুগান্তর কক্সবাজার প্রতিনিধি সায়ীদ আলমগীর।

আঠারো বছরে যুগান্তর : বিশিষ্টজনদের ভাবনা

তোফায়েল আহমেদ
বাণিজ্যমন্ত্রী, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

যুগান্তর ১৮ বছরে পদার্পণ করছে জেনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। দেশের প্রধান জাতীয় দৈনিকগুলোর একটি যুগান্তর। পত্রিকাটি অনেক পথ পাড়ি দিয়ে আজ এ জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে। শুরু থেকেই পত্রিকাটি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে আসছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করছে। এ পত্রিকার খবর ও বিশ্লেষণধর্মী লেখাগুলো প্রশংসার দাবি রাখে। নির্ভীক সাংবাদিকতা যুগান্তরের বৈশিষ্ট্য। আমি যুগান্তরের সার্বিক মঙ্গল কামনা করি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যুগান্তরের সব সাংবাদিক, লেখক, কর্মীসহ পত্রিকাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের প্রতি রইল আমার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)

জাতি আজ এক যুগসন্ধিক্ষণে। এ মুহূর্তে একটি ঐক্যবদ্ধ, সমৃদ্ধিশালী জাতি গঠনে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। দেশমাতৃকার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অর্থনৈতিক মুক্তি ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়তে সংবাদমাধ্যম যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে। মানুষের বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অপরিহার্য শর্ত হচ্ছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা। প্রকৃত গণতন্ত্র মানুষের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। বর্তমানে গণতন্ত্রহীনতার কারণেই বিরাজমান রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হয়েছে। আজ বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো ক্রমান্বয়ে কেড়ে নেয়া হচ্ছে। ফলে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যমান নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে দৈনিক যুগান্তর অনেক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখার জন্য কাজ করছে। অত্যন্ত দায়িত্বশীল, প্রতিভাবান এবং পেশাদার সাংবাদিকসহ দৈনিক যুগান্তরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি রইল আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। যুগান্তরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে আমি পত্রিকাটিতে কর্মরত সবার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু এবং পত্রিকাটির সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি।

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি

ইতিহাস এক যুগ থেকে আরেক যুগে পর্যায়ক্রমিকভাবে প্রবেশ করে অগ্রসর হয়। এ পথপরিক্রমায় পুরনোকে ফেলে নতুনকে আলিঙ্গন করার প্রয়াস অপরিহার্য হয়ে ওঠে। তখনই দেখা দেয় যুগান্তরের সাধনায় নিয়োজিত হওয়ার প্রয়োজন। দৈনিক যুগান্তর সেই চাহিদা পূরণ করে যুগ থেকে অন্য যুগে ধাবিত হতে থাকবে- এই প্রত্যাশায়।

আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক
উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

যুগান্তর ১৮ বছরে পদার্পণ করছে জেনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। যুগান্তর আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের তথ্য চাহিদা, বিনোদন চাহিদা, শিক্ষা চাহিদাসহ সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের চাহিদা পূরণে যেভাবে দায়িত্ব পালন করে চলেছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমি আশা করি আগামী দিনগুলোতেও যুগান্তর একইরকম বস্তুনিষ্ঠভাবে সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালনে এ দেশে গণমাধ্যমগুলোর নেতৃত্ব দেবে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যুগান্তরের সব পাঠক, শুভানুধ্যায়ী, বিজ্ঞাপনদাতা, সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিশেষ করে সম্পাদক ও প্রকাশককে জানাই আমার আন্তরিক অভিনন্দন।

এমাজউদ্দীন আহমদ
সাবেক উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

যুগান্তর ১৮ বছরে পা দিতে যাচ্ছে জেনে আমি খুবই আনন্দিত। যুগান্তরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আমার আন্তরিক অভিনন্দন। যুগান্তর এমন একটি পত্রিকা যা হাটে হারিয়ে যায় না। পত্রিকাটি একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে দীর্ঘদিন কার্যকর রয়েছে। আমি এর শ্রীবৃদ্ধি কামনা করি।

এ কে আজাদ চৌধুরী
সাবেক উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

যুগান্তরের ১৮ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে এর সঙ্গে যুক্ত সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন। একটি নিরপেক্ষ পত্রিকা হিসেবে যুগান্তর অনেক দিন ধরে জাতির সেবা করে আসছে। এজন্য আমরা গর্বিত। পত্রিকাটির কোনো পার্টিজান ভিউ নেই। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে চলেছে। আদর্শিক অবস্থান থেকেও এই পত্রিকার অবস্থান উঁচুতে, জাতির স্বার্থ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করছে। অনাগত দিনে এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলেই আমার বিশ্বাস।

মুহম্মদ জাফর ইকবাল
অধ্যাপক ও লেখক

যুগান্তরের ১৭ বছর পূর্তিতে তাদের জন্য অভিনন্দন। আমাদের দেশের সংবাদপত্র খুব বড় ভূমিকা রাখতে পারে। আমি আশা করব যুগান্তর যেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে বাংলাদেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তাদের সব শক্তি নিয়োগ করে।

মইনুল হোসেন
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি, দি নিউ নেশন

দৈনিক যুগান্তরের ১৮ বছরে পদার্পণকে আমি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনার অপরিহার্য অঙ্গ হচ্ছে স্বাধীন সংবাদপত্র ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা। তাই কোথাও গণতন্ত্রের ঘাটতি থাকার অর্থ গণঅধিকারের অভাব থাকা। যার সহজ অর্থ হচ্ছে সাংবাদিকদের অধিকার ও স্বাধীনতা সংকোচন। আর যেখানে সরকারি চাপ থাকে, সেখানে সৃজনশীল সাংবাদিকতার বিকাশ ঘটে না। সংবাদপত্রের কাছে পাঠকের প্রত্যাশা থাকে খবরের পেছনের খবর পাঠ করার। সে প্রত্যাশা পূরণ না হলে পাঠক সংবাদপত্রবিমুখ হয়ে পড়ে অথবা পত্রিকায় হালকা, চটুল খবর খোঁজে। তখন সমাজ ও রাষ্ট্রের চিন্তাভাবনা এবং নীতিনির্ধারণে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকদের আর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে না। ফলে সরকার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ মতামত থেকে বঞ্চিত হয়। এরকম বাস্তবতায় অনাকাক্সিক্ষত চাপ এবং শংকামুক্ত সাংবাদিকতার জন্য সাংবাদিকদের লড়তে হয়। দলীয়করণের প্রভাব বলয়ের বাইরে সাংবাদিকদের অবস্থান নিতে হয়। আশার কথা, অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দৈনিক যুগান্তর জনস্বার্থ রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে। সাংবাদিকতা পেশার গুরুত্ব ও মহত্ত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকার জন্য এই পত্রিকাটির বিভিন্ন স্তরের সাংবাদিক ও অন্যান্য বিভাগের কর্মীদের আমি শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। তাদের সাহস, আন্তরিকতা এবং জনগণের প্রতি মমত্ববোধকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে পত্রিকাটির উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর ভবিষ্যৎ কামনা করছি।

ড. মাহ্বুব উল্লাহ
সাবেক অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

যুগান্তর আমার প্রিয় পত্রিকা। যুগান্তরের ১৮ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে এর সব সাংবাদিক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও উদ্যোক্তাকে অভিনন্দন। যুগান্তর বলিষ্ঠতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ, ফিচার এবং সম্পাদকীয় বিশ্লেষণ প্রকাশ করে চলেছে। পত্রিকাটির এই বস্তুনিষ্ঠতা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে যুগান্তর আরও লাখো পাঠকের মন জয় করবে। বাংলাদেশে সাংবাদিকতা পেশা ঝুঁকিমুক্ত নয়। তা সত্ত্বেও যুগান্তর সুশাসনের অনুপস্থিতি, দুর্নীতি এবং বিভিন্ন সরকারি দফতরের নিয়মবহির্ভূত কার্যকলাপের তথ্য উদঘাটন করে চলেছে। পত্রিকাটির এ সাফল্য একনিষ্ঠ কর্মীদের পেশাদারিত্বের কারণেই সম্ভব হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, যুগান্তর এতদিন যে ধারায় চলেছে, আগামী দিনে সেই ধারা আরও প্রাঞ্জল ও শক্তিশালী হবে। আমি যুগান্তরের অব্যাহত সাফল্য কামনা করি।

মোফাজ্জল করিম
কবি ও সাবেক সচিব

১৮ বছরে পদার্পণের শুভলগ্নে যুগান্তরকে অশেষ শুভেচ্ছা। চারপাশের অনেক অসুরের বেড়াজাল ডিঙিয়ে যুগান্তর এগিয়ে চলুক দৃপ্ত পদভারে, স্বমহিমায়। আমরা সৎ রাজনীতি, সৎ সাংবাদিকতা, সৎ প্রশাসন ইত্যাদি অনেক কিছুতেই সততার অপরিহার্য উপস্থিতি দাবি করি। কিন্তু নিজেরা কতটা সৎ, তা ভেবে দেখি না। আমি আশা করি, যুগান্তর এ ব্যাপারে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী ভূমিকা পালন করবে।

বদিউর রহমান
সাবেক সচিব, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান

যুগান্তরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী একটি আনন্দের বিষয়। গত ১৭ বছরে যুগান্তর একটি মননশীল পত্রিকা হিসেবে সর্বশ্রেণীর পাঠকের চাহিদা মেটাতে যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। অর্থনীতি থেকে শুরু করে রাজনীতি এবং সামাজিক সমস্যার বিশ্লেষণে যুগান্তর প্রতিনিয়ত শীর্ষে ওঠার প্রয়াস অক্ষুণ্ণ রেখেছে। প্রতি বছর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যুগান্তরে একটি নতুন বার্তা ও সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। যুগান্তরের একজন নিয়মিত পাঠক হিসেবে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। আমি যুগান্তরের উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি ও সাফল্য কামনা করি।

ড. তারেক শামসুর রেহমান
অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

দৈনিক যুগান্তর ১৮ বছরে পা দিল আজ। ফেলে আসা ১৭ বছর একেবারে কম সময় নয়। কৈশোর পেরিয়েছে যুগান্তর। কিন্তু যেতে হবে অনেক দূর। যাত্রাপথটা যে মসৃণ তা বলা যাবে না। যুগান্তরের মোটো হচ্ছে ‘সত্যের সন্ধানে নির্ভীক’। ১৭ বছর ধরে যুগান্তর সেই ‘সত্য’টাই প্রকাশ করে এসেছে। এতটুকু পিছপা হয়নি। থেমে থাকেনি তার সত্য অনুসন্ধানের স্পৃহা। থেমে থাকেনি তার সত্য বলার সাহস। গত ১৭ বছরের প্রতিটি দিন যুগান্তরের পাশে ছিলাম, থাকতে চাই আরও ১৭ বছর। যুগান্তরের জন্মদিনে সবার জন্য শুভ কামনা ও ভালোবাসা- Be Intentional, Be Humble, Be Brave, Be Accountable Ges Progress, if not Perfection.

আবদুল লতিফ মন্ডল
সাবেক সচিব, কলাম লেখক

‘সত্যের সন্ধানে নির্ভীক’ দৈনিক যুগান্তর ‘১৭ বছর পেরিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি গৌরবময় ১৮-তে পা দিচ্ছে’ জেনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। বর্তমানে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা দেশের দু-তিনটি জাতীয় পত্রিকার একটি দৈনিক যুগান্তর। ২০১১ সালের শুরু থেকে আমি পত্রিকাটিতে কলাম লিখছি। দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদকীয় স্বাধীনতায় (Editorial Independence) আমি মুগ্ধ এবং এটিই আমাকে পত্রিকাটিতে কলাম লেখা অব্যাহত রাখতে প্রেরণা জুগিয়ে আসছে। তাছাড়া গত ছয় বছরে পত্রিকাটির সঙ্গে আমার অনেকটা পারিবারিক বন্ধন স্থাপিত হয়েছে। আমি দৈনিক যুগান্তরের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।

ব্রি. জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন
সাবেক নির্বাচন কমিশনার

যুগান্তরের ১৮ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা। যুগান্তর অনেক পথ পাড়ি দিয়ে বর্তমান জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে। এই পত্রিকার খবর ও বিশ্লেষণধর্মী লেখা প্রশংসার দাবি রাখে। নির্ভীক সাংবাদিকতা যুগান্তরের বৈশিষ্ট্য। আশা করি আগামীতেও গণতন্ত্র ও অগ্রগতির স্বার্থে যুগান্তর তার বলিষ্ঠ ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।

ড. আর এম দেবনাথ
অর্থনীতি বিশ্লেষক, সাবেক শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

দৈনিক যুগান্তরের ১৮ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে এর সব সংবাদকর্মী ও কর্মচারীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আমি যুগান্তরের নিয়মিত পাঠক হিসেবে দেখতে পাচ্ছি কাগজটির রিপোর্ট বস্তুনিষ্ঠ, কলামগুলো সমৃদ্ধ। আমি যুগান্তরের উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি কামনা করি।

ড. সা’দত হুসাইন
সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব, পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান

যুগান্তরের ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। বস্তুনিষ্ঠ ও আপসহীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে যুগান্তরের সাহসী ভূমিকা অটুট থাকুক- এটাই প্রত্যাশা।

আলী ইমাম মজুমদার
সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব

যুগান্তরের ১৮ বছরে পদার্পণ নিঃসন্দেহে গৌরবজনক। আমি এ পত্রিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে এবং তা সমাধানের উপায় খোঁজার যে নিরন্তর প্রয়াস যুগান্তরের, তা অব্যাহত থাকবে- এটাই প্রত্যাশা।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
সিনিয়র ফেলো, সিপিডি

যুগান্তরের ১৮ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। যুগান্তর আরও স্বাধীন, বাস্তবধর্মী, বস্তুনিষ্ঠ ও জনমনস্ক সাংবাদিকতার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠুক।

মাহফুজ উল্লাহ
শিক্ষক ও সাংবাদিক

বাংলাদেশের গণমাধ্যমের জগতে যুগান্তর এক উজ্জ্বল সংযোজন। এই উজ্জ্বলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে পত্রিকাটির খবর পরিবেশনা ও বিভিন্ন মতপ্রকাশের মাধ্যমে। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই, যুগান্তর হাতেগোনা কয়েকটি নেতৃস্থানীয় জাতীয় দৈনিকের অন্যতম, যারা সব মতকে লালন করার চেষ্টা করে। মতামতের এই বৈচিত্র্য প্রকাশ করার ক্ষেত্রে যুগান্তরের ভূমিকা অনেক বেশি আকর্ষণীয়। পত্রিকাটির সীমাবদ্ধতা কোনো কোনো ক্ষেত্রে জাতীয় পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট; কিন্তু সংবাদ পরিবেশনে যুগান্তরের যে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও ঢং, তা পাঠককে আকৃষ্ট করে। একই সঙ্গে প্রায়ই পত্রিকাটি এমন খবর প্রকাশ করে, যা পাঠক হিসেবে আমরা অন্য পত্রিকায় পাই না। যুগান্তরের সবাইকে শুভেচ্ছা।

ড. বদিউল আলম মজুমদার
সম্পাদক, সুজন- সুশাসনের জন্য নাগরিক

প্রতিষ্ঠার ১৭ বছর পূর্তিতে যুগান্তরের সম্পাদক, প্রতিবেদকসহ সব কলাকুশলীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে একটি জাতীয় দৈনিক হিসেবে যুগান্তর নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ উপস্থাপন এবং বিশ্লেষণের মাধ্যমে আমাদের গণমাধ্যমকে গণমুখী করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে বলে আমি মনে করি। আমার বিশ্বাস, যুগান্তর ভবিষ্যতেও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ উপস্থাপন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে স্বপ্ন তৈরি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

আয়শা খানম
সভানেত্রী, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ

১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যুগান্তরকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি এর শিক্ষা ও সংস্কৃতি। জীবন ও দৃষ্টিভঙ্গি। এই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, রুচি ও মূল্যবোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সংবাদপত্রের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এ উপমহাদেশের নবজাগরণের ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা এই শিক্ষা পাই যে, কী করে একটি সংবাদপত্র, এমনকি একটি মাসিক সাময়িকী একটি অঞ্চলের একটি সময়ের ইতিহাসকে গড়ে তোলে। সমাজ মানুষকে শিক্ষিত সচেতন করে তোলে। আর আজকের এই একুশ শতকে বিশ্বায়নের এই দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ-গোত্র, অর্থনৈতিক অবস্থান, নৃতাত্ত্বিক সংকট- এ সবকিছুর ভেতর দিয়ে মানব সম্পর্ক গড়ে উঠছে এবং পরিবর্তন ঘটছে। আত্মপরিচয়ের সন্ধানে মানবজাতি বারবার নিত্যনতুন সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে।

এ উপমহাদেশে আমাদেরও জাতিরাষ্ট্রের উদ্ভব ও প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় আমরাও জাতি হিসেবে বারবার এই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছি, এখনও হচ্ছি। আমাদের গণতন্ত্রের নির্মাণ প্রচেষ্টায়, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তোলায় বিশেষ ভূমিকা রাখছে দৈনিক যুগান্তর। আশা করি, পত্রিকাটি এই ঐতিহাসিক সংগ্রামে সুনির্দিষ্ট ভূমিকা রাখবে। আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য, নারী-পুরুষের সমতা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতি গড়ে তোলায় আরও জোরালো ভূমিকা রাখবে। নারী আন্দোলনের পক্ষে এটাই আমার প্রত্যাশা।

রাজ্জাক
চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব

যুগান্তর ১৮ বছরে পদার্পণ করছে। এটা অবশ্যই একটা পত্রিকার জন্য সুখবর। আমাদের মিডিয়া সর্বোপরি দেশের জন্য মঙ্গলকর। কারণ একটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন টিকে থাকা মানে হচ্ছে তার সততা ও স্বচ্ছতার প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠা। যুগান্তর সততার সঙ্গে কাজ করেছে বলেই দেড় যুগে পা রাখছে। প্রথমে পত্রিকাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমার অভিনন্দন। আমি দেশের প্রথম সারির বেশ কয়েকটি পত্রিকা পড়ার চেষ্টা করি প্রতিদিন। তার মধ্যে যুগান্তরও রয়েছে। আমি যেহেতু মিডিয়ার মানুষ, তাই স্বভাবতই মিডিয়া রিলেটেড বিষয়গুলোর দিকে চোখ একটু বেশিই যায়।

যুগান্তর দেশীয় সংস্কৃতি অঙ্গনকে বেশি প্রাধান্য দেয়, এটা অবশ্যই প্রশংসনীয়। রাজনৈতিক বিষয়গুলোও বেশ গোছানো থাকে। আশা করি এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

যুগান্তর ১৮ বছরে পদার্পণ করছে জেনে আমি আনন্দিত। আমি যুগান্তরের দীর্ঘদিনের পাঠক। পত্রিকাটি পড়ে আমার ভালো লাগে। বিশেষ করে সত্য প্রকাশে এর ভূমিকা, দুর্নীতি-অনিয়মের তথ্য তুলে ধরা, শিক্ষা ও সমাজঘনিষ্ঠ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেয়া ইত্যাদি। আগামীতেও যুগান্তর একক সচেতকের ভূমিকা পালন করে যাবে, যেমন জনগণকে সচেতন করা, সমাজ-সচেতন করা। শুধু একটি পত্রিকা নয়, জীবনযাপনের সমস্যা ও সম্ভাবনার পথ খুলে দেয়ার জন্য একটি সমাধান যুগান্তর। পত্রিকাটি নিয়মিত পড়ে আমার তা-ই মনে হয়। আগামীতে যুগান্তর শিক্ষা-সমাজঘনিষ্ঠ বিষয়, অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশাবাদী।

মে. জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বীরপ্রতীক

চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি

যুগান্তরের সঙ্গে সম্পর্ক- যুগান্তর যখন মাতৃগর্ভে তখন থেকে। যুগান্তর নামের শিশুটি ভূমিষ্ঠ হওয়া মাত্রই যেন সুন্দর পরিবেশে যত্নের মধ্য দিয়ে বলিষ্ঠ শিশু হিসেবে বেড়ে উঠতে পারে, সেই প্রচেষ্টায় সম্পৃক্ত ছিলাম। প্রথম ২ মাসের ৩০ দিনই আমার কলাম প্রকাশ হয়েছিল। এটা আমার জন্য অবশ্যই আনন্দের বিষয়। যুগান্তর এখন কৈশোরের শেষ প্রান্তে। যুগান্তর এখন বিশ্বব্যাপী পরিচিত। তার সুনাম ও পেশাগত উৎকর্ষের মধুর ঘ্রাণ আরও যেন ছড়িয়ে পড়ে, সেই কামনা রইল। সাংবাদিকরা হচ্ছেন পত্রিকার প্রাণ। যুগান্তরের জন্য শুভেচ্ছা এবং সাংবাদিকসহ এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রাণঢালা অভিনন্দন।

মে. জেনারেল মো. আবদুর রশীদ (অব.)
নিরাপত্তা বিশ্লেষক

যুগান্তরের সম্পাদকমণ্ডলী, সংবাদকর্মী ও কলাকুশলীদের জানাই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা। সত্য সংবাদ প্রকাশ ও নির্ভীক সাংবাদিকতায় যুগান্তরের ভূমিকা অনবদ্য। সংবাদ বিশ্লেষণ, সংস্কৃতি ও বিনোদনেও পাঠকের সন্তুষ্টি নিঃসন্দেহে বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে। আগামীতেও যুগান্তর গণমানুষের কাক্সিক্ষত সংবাদপত্র হয়ে বিরাজ করবে, এটাই প্রত্যাশা। সংবাদমাধ্যমে যুগান্তরের সাহসী পথচলায় থাকল নিরন্তর শুভ কামনা।

ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ
সাবেক সচিব, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান

যুগান্তরের ১৮ বছরে পদার্পণ নিঃসন্দেহে যুগান্তকারী ঘটনা। বিষয়বৈচিত্র্যে এবং নির্ভীকতায় পত্রিকাটি শুরু থেকেই পাঠক সমাজের আগ্রহ সৃষ্টিতে সক্ষম হয়েছে। নানান উৎসব-উপলক্ষে এবং আর্থ-প্রশাসনিক বিষয়াদি নিয়ে যুগান্তরে মাঝে-মধ্যে লিখছি ২০০৯ সাল থেকেই। দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা-বণিজ্য, বিনিয়োগ পরিস্থিতি, পরিবেশ নিয়ে যুগান্তরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বরাবরই সমৃদ্ধ। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যুগান্তর পরিবারকে অভিনন্দন জানাই। জয়তু যুগান্তর।

এম হুমায়ুন কবীর
সাবেক রাষ্ট্রদূত

যুগান্তরের ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে অভিনন্দন জানাচ্ছি। ভালো মানের পত্রিকা হিসেবে যুগান্তর অনেকটা পথ অতিক্রম করেছে। আমি আশা করি, আগামী দিনেও সৎ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে যুগান্তর তার অনন্য বৈশিষ্ট্য বজায় রাখবে।

মহিউদ্দিন আহমেদ
সাবেক সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

লিবারেল ডেমোক্রেসির দেশগুলোয় কোনো নাগরিক যদি সরকার বা কর্তৃপক্ষের কোনো সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হন, তখন তিনি প্রতিকার চাইতে তার নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে অভিযোগটি তুলে ধরেন। নির্বাচিত প্রতিনিধিও তার নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধি হিসেবে বিষয়টি নিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতিকারের চেষ্টা করে থাকেন। বাংলাদেশে দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ ব্যবস্থাটি এত বছরেও গড়ে ওঠেনি। তাই দেশের সংক্ষুব্ধ নাগরিকরা নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে না গিয়ে প্রতিকার চাইতে একজন সাংবাদিকের খোঁজ করেন। যথাযথ মনে করলে সেই সাংবাদিক তখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, সচিব, কর্মকর্তা, এলাকার মস্তান ইত্যাদি- তিনি যেই হোন না কেন, তাকে অভিযোগটি সম্পর্কে প্রশ্ন করতে পারেন। এখানেই আমাদের সংবাদপত্র ও টেলিভিশন সম্পাদক-সাংবাদিকদের গুরুত্ব। আমাদের সাংবাদিকরা এখনও মানুষের আস্থা-বিশ্বাস ও প্রতিকারের জায়গা। দৈনিক যুগান্তরও ক্ষুব্ধ-বঞ্চিত-উপেক্ষিত ও অবহেলিত মানুষের একটি ভরসা। আমার বিশ্বাস, যুগান্তর তার এ ভূমিকা পালনে ভবিষ্যতে আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করবে; জনমানুষের ক্ষোভ-অভিযোগ তুলে ধরার ক্ষেত্রে আরও সোচ্চার হবে।

রাশেদা কে চৌধুরী
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা

যুগান্তর সগৌরবে এগিয়ে চলেছে, এটা আমাদের জন্য অবশ্যই আনন্দের বিষয়। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। যুগান্তর শুধু অর্থনীতি বা রাজনীতির কথা বলবে না, ফুটিয়ে তুলবে জনমানুষের সুখ-দুঃখ, হানি-কান্না, আনন্দ-বেদনার বাস্তব চিত্র। সেই সঙ্গে মানুষের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির কথাও তুলে ধরবে। বিশেষ করে আমি বলতে চাই- নারী, শিশু ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে যাবে। যুগান্তরের ১৮ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে সাংবাদিকসহ অন্য সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন।

ড. তাসনিম সিদ্দিকী
অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

যুগান্তর মুক্তচিন্তা বিকাশের ক্ষেত্রে প্রায় দেড় যুগ ধরে নিরলস ভূমিকা রেখে চলেছে। আমরা আশা করব, তার এ ভূমিকা অব্যাহত থাকবে এবং মানুষের চাওয়া-পাওয়াগুলো তুলে ধরার ক্ষেত্রে সরব ভূমিকা পালন করবে।

ড. সালেহউদ্দিন আহমদ
সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক

যুগান্তরে যেসব খবর ও নিবন্ধ প্রকাশিত হয় সেগুলো সময়োপযোগী এবং বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে, তথ্যবহুল ও বিশ্লেষণমূলক যেসব নিবন্ধ প্রকাশিত হয়, সেগুলো সমাজের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা বলে। আমি আশা করব, যুগান্তরের এ ভূমিকা ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে।

ড. তোফায়েল আহমেদ
অধ্যাপক ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ

যুগান্তর তার ১৭ বছরের যাত্রায় অনেক পাঠক, অনেক লেখককে সন্তুষ্ট করতে পেরেছে। এমনও দেখা গেছে, কতগুলো জাতীয় খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যুগান্তর অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে, জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনের সংবাদ পরিবেশনে যুগান্তর অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছে এবং এজন্য তারা পাঠকনন্দিত হয়েছে। যুগান্তরের অনেক তথ্যবহুল ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ বা নিবন্ধ আমরা গবেষণার কাজে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করছি। ১৭ বছর অনেক সময়। ১৮ বছরে ব্যক্তি মানুষের পরিণত বয়সে পদার্পণের একটি যুগসন্ধিক্ষণ। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে- ১৭ বছরের অভিজ্ঞতাকে উপজীব্য করে আগামী দিনে সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ এবং দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে যুগান্তর যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।

এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা

যুগান্তরের ১৮তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে এই পত্রিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভবিষ্যতেও পত্রিকাটি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে জাতির সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে, এটাই প্রত্যাশা।

ফারুক
চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব

যুগান্তরের সঙ্গে আমার অনেক দিনের সম্পর্ক। সংবাদপত্রে ইতিবাচক আর নেতিবাচক দু’ধরনের খবরই থাকে। যুগান্তরের সবচেয়ে বড় যে বৈশিষ্ট্যটি চোখে পড়ে সেটি হল, বেশ বলিষ্ঠ কণ্ঠ নিয়ে কথা বলা, যা অনেক পত্রিকার ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত। আমি চাইব আগামীতে যেন এ ধারা বজায় থাকে। তবে হ্যাঁ, সমালোচনা হবে তবে সেটি হতে হবে গঠনমূলক। বিশেষ সূত্রের বরাতে নয়।

সোহেল রানা
চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব

আমি যেহেতু সিনেমার লোক, তাই সিনেমার কথাটাই আগে বলব। ঢাকাই ছবির সুসময়ে আমাদের বিচরণ ছিল চলচ্চিত্রে। তাই সে সময় আমাদের ছবির খবর পত্রিকায় ছাপা হলে দারুণ অনুভূতি কাজ করত। দর্শকদের কাছে পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের মাধ্যমেই পৌঁছে যেতাম। তবে সেটি হুটহাট করে হতো না, ভালো কাজের সম্ভাবনা দেখার পরই সাংবাদিকরা আমাদের নিয়ে লিখতেন। কিন্তু এখন যাকে-তাকে তারকা বানিয়ে দিয়ে লিখছেন আমাদের সাংবাদিক ভাইয়েরা। যুগান্তরে বিষয়টি কমই নজরে পড়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক বিষয়গুলোও যথেষ্ট বিবেচনার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করে রিপোর্ট করা হয়। এ বিষয়টিও বেশ দৃষ্টিনন্দন। আশা করি যুগান্তর তার নামের প্রতি সুবিচার করে দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনের পাশে থাকবে।

কবরী সারোয়ার
চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব

আমি মূলত সিনেমার লোক। আর এখন হয়ে গেছি রাজনীতির। তাই দুটি বিষয়েই পর্যাপ্ত খোঁজখবর রাখার চেষ্টা করি। যুগান্তরের গঠনমূলক অনেক লেখাই আমার চোখে পড়ে। ভালো-মন্দ মিলিয়েই সবার পথচলা। আশা করব যুগান্তর বরাবরের মতো ভালোটাকেই সঙ্গী করে পথ চলবে।

আইয়ুব বাচ্চু
ব্যান্ড শিল্পী

আমি শুরুতেই বলতে চাই, যুগান্তর হচ্ছে এমন একটি সংবাদপত্র যা সত্যি যুগান্তকারী। পত্রিকাটি ১৭ বছর যেমন যুগান্তকারী হয়ে সবার মাঝে বেঁচে আছে, তেমনি ১৭শ’ বছর এভাবেই বেঁচে থাকবে এটা আশা করি। যুগান্তর শিল্পী-সংস্কৃতিকে সব সময় মূল্যায়ন করে এসেছে, সেটি নতুন করে বলার কিছু নেই। শিল্পীদের পাশে নিয়ে সব সময় কাজ করেছে। সেজন্য তাদের প্রতি প্রত্যাশা একটু বেশি। সামনের দিনগুলোতে যেন নতুন-পুরনো সবাইকে নিয়ে এভাবেই ভালোবেসে কাজ করে যায়। শুধু সামনে থাকা শিল্পী নয়, হাওরে থাকা শিল্পীদের নিয়েও যেন আরও ভালো মানের কাজ করতে পারে সেই প্রত্যাশা থাকল।

কাজী ফারুক আহমেদ
শিক্ষা ও শিক্ষক আন্দোলনের কর্মী; সদস্য, জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কমিটি

নিছক দলীয় মুখপত্র হিসেবে না থেকে কম-বেশি সব পক্ষের খবর ও মতামত প্রকাশ করে, দেশে পাঠকপ্রিয় এমন বাংলা জাতীয় দৈনিকের সংখ্যা গোটাকয়েক। এর সবগুলোতেই আমার লেখার অভিজ্ঞতা আছে। তবে সবচেয়ে বেশি লিখে আসছি যুগান্তরে। এর একটা বড় কারণ শিক্ষা ও শিক্ষক নিয়ে ভারসাম্য বজায় রেখে পত্রিকাটি নিয়মিত ও ধারাবাহিকভাবে খবর ছাপে, পক্ষে-বিপক্ষে মতামত প্রকাশ করে। তবে এর উন্নয়নের সুযোগ আছে। বয়স্ক পাঠকদের সুবিধার্থে পত্রিকাটি আরও এক পয়েন্ট বড় অক্ষরে ছাপলে ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের (প্রতিবন্ধী) জন্য সপ্তাহে একটি পাতা বরাদ্দ রাখলে ভালো হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যুগান্তরকে আন্তরিক অভিনন্দন। এর উত্তরোত্তর সাফল্য ও উৎকর্ষ কামনা করি।

হারুনুর রশিদ
প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, আবাহনী

যুগান্তর ১৮ বছরে পা দিয়েছে। এটা নিঃসন্দেহে গৌরবের ও অহংকারের। আমি প্রথম সংখ্যা থেকেই যুগান্তরের পাঠক। যুগান্তর পরিবারের সঙ্গে আমার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় ও গভীর। ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন গৌরবময় ঘটনার পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর প্রকাশ করে যুগান্তর ক্রীড়ামোদীদের হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান অধিকার করেছে বলে আমি মনে করি। যুগান্তর তথা এই পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করছি। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে ক্রীড়াঙ্গনের পাশাপাশি দেশের সার্বিক উন্নয়নে যুগান্তর গৌরবময় ভূমিকা পালন করবে বলে আমার প্রত্যাশা।

আরিফ খান জয়
যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী, জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার

আমার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে যুগান্তরের প্রকাশনাও শুরু। ফুটবলার হিসেবে আমরা মুখিয়ে থাকতাম ফুটবলের নানা ঘটনা, ম্যাচ রিপোর্ট, খেলোয়াড়দের প্রোফাইল পত্রিকার পাতায় দেখার জন্য। বললে অত্যুক্তি হবে না, শুরুর দিন থেকে আজ পর্যন্ত ক্রীড়ামোদীদের সব চাহিদাই পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে যুগান্তর। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া কিংবা রূপসা থেকে পাথুরিয়া বাংলাদেশের সব জেলার খেলার খবর আমরা যুগান্তরে দেখতে পাই। পত্রিকাটি বিদেশী সংবাদনির্ভর না হয়ে দেশীয় খেলাধুলার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে পাঠকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। শুধু খেলাধুলাই নয়, রাজনীতি, শিল্প-সাহিত্য, যুব সমাজ তথা দেশের আপামর জনগণের দর্পণ হিসেবে যুগান্তর যুগ যুগ ধরে টিকে থাকবে, এটাই আমার প্রত্যাশা।

রানী হামিদ
দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক মহিলা দাবাড়ু

আমি দাবা খেলছি বহু বছর ধরে। তবে দাবার আদ্যোপান্ত খোঁজখবর নিয়মিত যুগান্তরেই পাই। এটা আমাকে বিশেষ আনন্দ দেয়। প্রথম থেকেই আমি যুগান্তরের পাঠক। আমার বাসার ড্রইংরুমে যুগান্তরই শোভা পায়। আমার স্বামী ছিলেন এদেশের হ্যান্ডবল প্রসারের পথিকৃৎ। আমার ছেলেরা ফুটবল ও স্কোয়াশের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে আমি যুগান্তরের কাছে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ যে, এই পত্রিকাটি শুধু আমার ক্রীড়া পরিবারের সদস্যদেরই নয়, দেশীয় ক্রীড়াঙ্গনের সার্বিক চিত্র ফুটিয়ে তোলে। আমার ভালো লাগে বিদেশী খবরের ভিড় এড়িয়ে যুগান্তরে বাংলাদেশের খবর প্রাধান্য পায়। আমার প্রত্যাশা, যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন যুগান্তর থাকবে। বাংলাদেশের সঙ্গে যুগান্তর এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।

শফিকুল হক হীরা
জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক

১৮তম বছরে পা দিচ্ছে যুগান্তর। অনেক অনেক শুভেচ্ছা। যুগান্তর সব সময় খেলার ওপর বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। সত্য খবর খুঁজে বের করে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করে। যুগান্তরের খবর দেখে আমরা নির্ভরতা পাই, আস্থা পেয়ে থাকি। এভাবেই সামনের দিনগুলোতে আরও বস্তুনিষ্ঠ খবর নিয়ে এগিয়ে যাবে যুগান্তর।

রকিবুল হাসান
জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক

১৮ মানেই তো সাবালক। মানুষ পূর্ণ জীবনের লাইসেন্স পায় ১৮-তেই। তবে যুগান্তর আগে থেকেই নিজের পরিপূর্ণতা প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছে। এখন আরও বেশি সাধারণ মানুষের কথা বলবে। আরও বেশি গ্রহণযোগ্য করে তুলবে নিজেদের। আশা করি উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে যুগান্তর।

আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি
পরিচালক, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড

আমার কাছে মনে হয়েছে, যুগান্তরের স্পোর্টস বিভাগের মান অনেক উঁচুতে। বড় সংবাদপত্রের জন্য দায়িত্বটা আরও বেশি কঠিন। সেটার জন্য যুগান্তরে ভালো হাতই রয়েছে। সঠিক লোকের হাতেই রয়েছে। সময়ের সঙ্গে যুগান্তর আরও এগিয়ে যাক।