বিশ্ব সম্প্রদায় রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে পথ খুঁজছেন ….মার্শিয়া বার্নিকেট

Teknaf-pic2_31.01.17.jpg

রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কাছে নির্যাতনের বর্ণনা শুনেছেন

নুরুল করিম রাসেল, টেকনাফ :

মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকেট বলেছেন রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকার ধন্যবাদ পাওয়ার দাবীদার।

বাংলাদেশে আগত রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে কিভাবে সমাধানে পৌঁছা যায় সে ব্যাপারে আমাদের চিন্তা করা দরকার। যেহেতু সীমান্ত এলাকায় দুদেশের মধ্যে এভাবে অনুপ্রবেশ ঘটলে অশান্তি সৃষ্টি হয়ে দুদেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও আর্থ সামাজিক বিশৃংখলার উদ্ভব হতে পারে।

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আগমনের ব্যাপারে আমাদের সরকার পূর্ব থেকে নজর রেখেছে।

রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের ব্যাপারে গঠিত সাবেক জাতিসংঘ মহাসচিব কফি আনান কমিশন ইতিপূর্বে মিয়ানমার সফর করে সেদেশের সরকারের সাথে আলোচনা করেছেন এবং এব্যাপারে সমাধানের জন্য একটা সিদ্ধান্ত খুঁজতেছেন।

বিশ্বের মানবাধিকার সম্প্রদায় বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ব্যাপারে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

৩১ জানুয়ারী মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

এসময় তিনি ক্যাম্প পরিদর্শন করে রোহিঙ্গাদের জীবন যাত্রা পর্যবেক্ষন করেন ও সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা বেশ কিছু নির্যাতিত রোহিঙ্গার সাথে কথা বলেন।
এর আগে তিনি আইএমও পরিচালিত হাসপাতাল ও ক্যাম্পের অভ্যন্তরের একটি মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন।
এসময় মাদ্রাসা শিক্ষক মৌলভী সুলতান মাহমুদের সাথে বার্নিকেট কথা বলেন। বার্নিকেট তাকে জানিয়েছেন রোহিঙ্গাদের কষ্ট দেখে তিনি ব্যাতীত। ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের জন্য খাদ্য-বস্ত্রের ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এছাড়া সম্প্রতি পালিয়ে আসা আরো বেশ কয়েকজন নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সাথে তিনি কথা বলেছেন। তাদের উপর নির্যাতনের বর্ণনা শুনেছেন। রাখাইন রাজ্যের রাইম্যাবিল এলাকা থেকে পালিয়ে আসা সাকের আহমদ জানান বার্নিকেট রোহিঙ্গারা কেন পালিয়ে এসেছেন এবং সেখানে কিধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তা জানতে চেয়েছেন। নির্যাতিত রোহিঙ্গারা নির্যাতনের বর্ণনা শুনিয়েছেন তাকে।
Teknaf pic(5)_31.01.17
পরে তিনি দুপুর ১টার দিকে নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পে যান। সেখানে তিনি ক্যাম্প কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠক করেন। কিভাবে ক্যাম্পটি পরিচালিত হচ্ছে সেব্যাপারে অবগত হন। পরে বিকাল পৌনে ৪টার দিকে তিনি ক্যাম্প ত্যাগ করেন।
এসময় শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা এস এম রেজোয়ান আহমদ, আইএমও বাংলাদেশ প্রধান টেসি সিদ্দিক, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শফিউল আলম, সহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।