ঘুমধুম সীমান্তে ইয়াবা মহাজন ইমাম কামালের যত অপকর্ম

44445555666.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক, উখিয়া কক্সবাজার :
উখিয়ার পার্শ্ববতী নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের বহু অপকর্মের হোতা ইয়াবা মহাজন ইমাম হোসেন ও যুবলীগ নেতা নামধারী মেম্বার কামালের বহুমূখী অপকর্মে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে ঘুমধুম বাসী। ইয়াবা থেকে শুরু করে মহাজন, পরবর্তীতে অবৈধ পাহাড় কেটে পরিবেশ বিনষ্ট, পাহাড় ধ্বসে দুই শ্রমিকের মৃত্যু ও দুুই শ্রমিক চির পঙ্গুত্বের কাছে হার মানে। যার ফলে কামাল মেম্বার ও ইয়াবা মহাজান ইমাম ওরপে ইয়াবা ইমরানের নতুন খেতাব পাহাড় খেঁেকা।স্থানীয় নানা শ্রেনীর পেশার লোকজন অভিযোগ করে বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের জলপাইতলী গ্রামে ১৯৭৮ সাল পরবর্তী মিয়ানমার পালানো রোহিঙ্গা পরিবার মমতাজ মিয়া প্রকাশ লেইঙ্গা মমতাজ স্ব স্ত্রীক অবৈধ বসতি গড়ে তোলে। লেইঙ্গা মমতাজ পেশায় ছিল কুখ্যাত চোরাকারবারী। মিয়ানমার বংশোদ্ভুত হওয়ায় পিতার কু Ñকর্মের দিকে এগিয়ে যায় পুত্র ইমাম হোসেনও। মিয়ানমারের ঢেকিবনিয়ার জৈনক জামাল হোসেন ও ধলু হোসনের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে মিয়ানমার Ñ বাংলাদেশ উভয় মূখী সীমান্তে ইয়াবা পাচার থেকে শুরু করে নিয়ন্ত্রনে নেয় সকল চোরাই ব্যবসার। প্রশাসনের নজরদারী ফাঁকি দিয়ে ইয়াবা, মাদক ও বহুমূখী চোরাই পণ্যের চালান গন্তব্যস্থলে পৌছাতে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা , রাজনৈতিক দলের নেতা, জনপ্রতিনিধি ও সরকার দলের কতিপয় নেতার আশ্রয়ে গড়ে তোলে আলাদা একটি শক্তিশালী ইয়াবা সিন্ডিকেট। মিয়ানমার সীমান্তের ইয়াবা মহাজন জামাল হোসেন কামাল মেম্বারের ভাগিনা হয়। সে সুবাদে ইমাম হোসেন কামাল মেম্বারকে ভাগে নিয়ে ঘুমধুম সীমান্তে চালাতে থাকে হরদম চোরাচালান ব্যবসা। এপার বাংলার ঘুমধুম সীমান্তের ইমামÑ কামাল মেম্বার, মিয়ানমার সীমান্তের ঢেকিবনিয়ার জামাল হোসেন ও ধলু হোসেন ৪ জন মিলেই গড়ে তোলে একটি বৃহত্তর শক্তিশালী সিন্ডিকেট। কোটি কোটি টাকার ইয়াবা পাচার ও বিক্রিতে সিদ্ধহস্ত ইমাম হোসেন ও কামাল মেম্বার জামাল হোসনের আস্থাভাজন হয়ে যায়। ফলে কামাল মেম্বার ও ইমাম হোসনের নামে জামালের লগ্নিকৃত অর্থের ঘুমধুম তুমব্রুতে ক্রয় করে কয়েক কোটি টাকা, ভুÑ সম্পক্তি, গাড়ী, বাড়ি এবং দালান কোঠা। ঘুমধুম তুমব্রু সড়কের জলপাইতলীতে অনুমান ৫০ শতক জমি, দালান বাড়ী, পূর্ব পাড়ায় পাহাড় টিলায় টিন শেড বাড়ী সহ ভিটে জমি। বালুখালীতে রয়েছে বেনামে স্পেশাল মিনিবাস ও মিনি ট্রাক। ইয়াবা ব্যবসায় রাতারাতি কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদসহ বিপুল বিত্তÑবৈভবের মালিক হওয়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠে কামাল Ñ ইমাম সিন্ডিকেট। বিপুল কালো টাকা বিনিয়োগ করে নেমে পড়ে অবৈধ বালি বাণিজ্যে। দৈনিক অর্ধ লক্ষাধিক টাকা বালি বাণিজ্যে আয় করে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে কামাল Ñ ইমাম সিন্ডিকেট। তাদের হয়ে অবৈধ পাহাড় কাটতে গিয়ে অকালে প্রান হারান শ্রমিক জয়নাল আবেদীন(২২) ও খাইরুল আমিন (২০)। চিরপঙ্গুত্ব বরণ করে শ্রমিক মজিবুল হক (২০) ও গাড়ী চালক সমিরন বড়–য়া। ইয়াবা মহাজন থেকে পাহাড় খেঁেকা কামাল Ñ ইমাম আটকে যায় পাহাড় কেটে পরিবেশ বিনষ্ট ও শ্রমিক নিহতের ঘটনায় নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় দায়েরকৃত মামলায়। যার নংÑ ০৭/১৭ তারিখঃ ১৩/১/২০১৭ইং। এতে কামাল ও ইমাম হোসেন সহ ৭ জনকে এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাত নামা ৪/৫ জনকে আসামী করা হয়। কামাল যুবলীগের সভাপতি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং ইমাম হোসেন অগাধ কালো টাকার মালিক আর কথিত যুবলীগ নেতার পদ অর্জন করে কর্তৃক প্রকাশ্য দিবালোকে লোকজনকে কথায় কথায় মারধর ও সর্বশান্ত করা মামূলী ব্যাপার হয়ে দাড়ায়। বিগত ২০১৫ সালে কামাল বাহিনীর হাতে সর্ব শান্ত হয় প্রবাসী জাহেদ আলম। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কামালের বিরুদ্ধে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা ও বান্দরবান আদালতে একাধিক মামলাও বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক চাপের কারণে বহু ঘটনার দায় থেকে রক্ষা পায় কামাল Ñ ইমাম সিন্ডিকেট। ফলে বহুমূখী অপকর্মে অভিযুক্ত কামাল ও ইমাম বাহিনীর হাতে অব্যাহত হুমকির মূখে এখনো পালিয়ে বেড়াচ্ছে প্রবাসী সহ বহু নিরহ লোক। কামালÑ ইমামের নানা অপকর্মে খোদ দলের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে আওয়ামীলীগ সরকারের ভাবমূর্তি ঘুমধুমে প্রশ্ন বিদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের ঘুমধুম ইউনিয়ন সভাপতি ও মাত্র দুই আড়াই বছরের মেম্বারের দায়িত্ব পালনকালে সরকার দলের নাম ভাঙ্গিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জিরো থেকে হিরো হয়েছে কামাল Ñ ইমাম সিন্ডিকেট। দলের অশৃংখল কতিপয় নেতা-কর্মী ও আত্মীয় স্বজন নিয়ে ঘুমধুমে গড়ে তুলেছে আলাদা বাহিনী। ওই বাহিনীর প্রধান কামাল, সেকেন্ড ইন কমান্ড ইমামের নেতৃত্বে খাস জায়গা জমি দখল করে বিক্রি, ঘুমধুম-তুমব্রু সড়কের কয়েক লক্ষাধিক টাকার গাছ কেটে আত্মসাৎ, মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ইয়াবা ও মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ততা, বহুগামী নারীলিস্পুতা, বিচার শালিসের নামে অর্থ আদায়, ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক বরাদ্দ পাওয়া প্রকল্পের দায়সারা কাজ সম্পাদন করে অর্থ তছরুপ, নিরীহ, ফরিয়াদী লোকজনের উপর বিচারিক রায় চাপিয়ে দেওয়া অন্যথায় কথা-কথায় মারধর সহ বহুমুখী অপকর্মে ঘুমধুমের সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকজন কামাল ইমামের হাতে এক প্রকার জিম্মী হয়ে আছে ঘুমধুমের নিরহ কয়েক সহশ্রাধিক মানুষ। সরকার দলের নেতা, ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার , আলাদা-বাহিনী প্রধান কামাল, কালো টাকার মালিক ইমাম সবকিছু মিলিয়ে অঘোষিত সম্রাট কামাল ও ইমামের হাতে নানা ভাবে নিগৃহিত হয়েছে সাধারণ লোকজন থেকে শুরু করে কামালের আপন চাচা গোলাম সোবহান মেম্বার, চাচি খালেদা মেম্বার, চাচা আব্দুল আলিমসহ আরো অনেকেই।
সাম্প্রতিক সময়ে ঘুমধুম , জলপাইতলী বেতবনিয়া বাজার এলাকায় কামাল ও ইমাম বাহিনীর লোকজন বেপরোয়া হয়ে পড়ায় সাধারন জনগন শংকিত ছিল। কামাল ও ইমাম হোসেন গংরা পাহাড় কাটা ও শ্রমিক নিহতের ঘটনার দায়ে অভিযোক্ত হওয়ায় দায়েরকৃত মামলা মাথায় নিয়ে আতœগোপনে থাকলেও তাদের বাহিনীর অপরাপর সদস্যরা এলাকায় সক্রিয় থেকে ভীতি সঞ্চার করে যাচ্ছে। ঘটাচ্ছে নানা অপরাধ মূলক কর্মকান্ড। ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, কামাল ও ইমাম হোসনের বিষয়ে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রচলিত আইন ফায়ঁসালা করবে। ঘুমধুম তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ইনচার্জ উপÑ পরিদর্শক মোঃ এরশাদ উল্লাহ চ্যালেঞ্জ ছুঁেড় বলেন, কামাল মেম্বার, ইমাম হোসেন ও বার্মার কারান্তরীণ জামাল হোসেন কুখ্যাত ইয়াবা ব্যবসায়ী। তাদের বিষয়ে সরকারের আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে গোপন রিপোর্ট ও মোবাইল কথোপকতনে ৩ জনের ইয়াবা সংক্রান্ত ফোনলাপ রয়েছে। তাতে বার্মার জৈনক তৈয়ব কামাল মেম্বারের নিকট থেকে এখনো ৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছেন বলে জানতে পারি। কথিত যুবলীগ নেতা নামধারী কামাল নব্য আওয়ামীলীগ সেজে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। সাধারণ লোকজন তার হাতে বিভিন্ন সময় নিগৃহের শিকার হয়েছে। অথচ উক্ত কামাল মেম্বার গত ইউপি নির্বাচন ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দল মনোনীত প্রার্থীর বিপরীতে বিএনপি জামায়াত সমর্থিক প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছে। বিভিন্ন সময় বিএনপি জামায়াতের সাথে আতাঁত করে নিজের সুবিধা ভোগ অব্যাহত রেখে চলছেন। কামাল ও ইমাম বাহিনীর হাতে বিভিন্ন সময় নির্যাতন Ñ অত্যচারের শিকার বহু পরিবার বর্তমানেও হুমকির মূখে চরম নিরাপত্তাহীনতায় জীবন যাপন করছেন। তাই শান্তি প্রিয় ঘুমধুম বাসী মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি মহোদয়, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার ও উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের আশু সু-দৃষ্টি কামনা করছেন।