নবীগঞ্জের ছেলের সঙ্গে ব্রাজিলীয় নারীর প্রেম, অতঃপর…

564.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক |
ফেসবুকে পরিচয় সূত্রে প্রেমিকের টানে বাংলাদেশে আসা। অতঃপর বিয়ে। কিন্তু ভিসা জটিলতার কারণে স্বামীকে না নিয়েই বাংলাদেশ থেকে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন ব্রাজিলীয় নারী সেওমা ভিজেহা।

শনিবার ব্রাজিলে চলে যান সেওমা। শাহজালাল বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানান স্বামী আবদুর রকিব।

এর আগে গত ৩১ ডিসেম্বর নবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের হালিতলা (বারৈকান্দি) গ্রামে আসেন ব্রাজিলীয় নারী সেওমা। ৩ জানুয়ারি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে পরদিন কলেজছাত্র আবদুর রকিবের সঙ্গে বিয়ে হয় সেওমার।

শাহজালাল বিমানবন্দরে বিদায় বেলায়অল্প সময়েই নবীগঞ্জবাসীর হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। বিদায়বেলায় অনেকের চোখই জানান দিচ্ছিল তার প্রতি ভালবাসার কথা।

রকিবের সঙ্গে সেওমার পরিচয়
প্রায় নয় মাস আগে নবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের হালিতলা (বারৈকান্দি) গ্রামের আছকান উদ্দিনের ছেলে আবদুর রকিব। তিনি মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্রাজিলী নারী সেওমা ভিজেহার ফেসবুক আইডির প্রোফাইল ছবিতে লাইক দেন। জবাবে ব্রাজিলীয় ওই নারী রকিবের সব ছবিতে লাইক দেন। বিষয়টি মনে ধরে রাকিবের। তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে ম্যাসেজ দেন তিনি।

এক পর্যায়ে সম্পর্ক গভীর হয়। চলে ফোনালাপ। ভিডিও কলে নিজেদের নানা বিষয়ে পারস্পরিক চেনাজানা হয়। রকিব জানতে পারেন সেওমার সব বৃত্তান্ত।

কে এই সেওমা?
৪৭ বছর বয়সী সেওমা ভিজেহা একজন স্বামী পরিত্যক্তা নারী। তিনি ২ কন্যা ও ১ পুত্র সন্তানের জননী।

রকিবের সঙ্গে সেওমার ঘনিষ্টতা
অবিবাহিত কলেজছাত্র রকিব সব জানার পরও প্রেমের সম্পর্ক ধরে রাখে। প্রায় নয় মাস প্রেমের সম্পর্ক চলাকালে রকিবকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন সেওমা। বিষয়টি ইতিমধ্যেই রকিবের বন্ধুবান্ধব ও পরিবার জানতে পারে।

ব্রাজিলীয় নারীর সঙ্গে সম্পর্ক কতদূর গড়াবে তা নিয়ে সংশয় ছিল রকিবের মনে। পরিবারও বিশ্বাস করতো না এই মেয়ে বাংলাদেশে আসবে।

বাংলাদেশে মুগ্ধ সেওমা
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত বছরের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশে আসেন। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে প্রায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যাক নারী-পুরুষ ব্রাজিলিয়ান সেওমাকে এক নজর দেখার জন্য ভিড় করেন।

তবে সেওমা ভিজেহা বাংলায় কথা বলতে না পারায় এবং বাংলা ভাষা না বুঝার কারণে আগত উৎসুক লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে পারেননি।

মাঝে মাঝে তিনি ইংরেজিতে কথা বলতেন। তার কথা বাংলায় অনুবাদ করে দেশের লোকজনকে বুঝাতেন রকিব। ঠিক একইভাবে এলাকার লোকজনের অনুভূতির কথা ইংরেজিতে বুঝাতেন স্ত্রী সেওমাকে।

দীর্ঘ ২৯ দিনের মধ্যে মাধবকুন্ডসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটন স্থানে ঘুরে দেখেন সেওমা। এরই মাঝে স্বামীর আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতেও দাওয়াত খেয়েছেন তিনি।

ইসলাম গ্রহণ ও বিয়ে
গত ৩রা জানুয়ারি হবিগঞ্জের নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে হাজির হয়ে খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন সেওমা। পরে ৪ জানুয়ারি ইসলামী শরিয়া মোতাবেক ২ লাখ টাকা দেনমোহরের মাধ্যমে রকিব-সেওমার বিয়ে সম্পন্ন হয়।

রকিবকে ব্রাজিলে নিতে চান সেওমা
সেওমা তার প্রেমিক স্বামী রকিবকে তার সঙ্গে ব্রাজিল নিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশে অবস্থিত ব্রাজিলিয়ান দূতাবাসে নিয়ে যান। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে তার ভিসা হয়নি।

স্বামীকে রেখে চলে গেলেও তার দেশে পৌঁছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোর পর স্বামীকে ব্রাজিল নেয়ার সব কার্যক্রম করা হবে বলে সবাইকে জানিয়ে গেছেন সেওমা।

রকিব-সেওমার সম্পর্কের রসায়ন
সেওমা বলেন, জীবনের সব কিছু ভুলে গেলেও স্বামী রবিককে কখনও ভুলবেন না। এদিকে স্ত্রী সেওমা ব্রাজিল চলে যাওয়ায় স্বামী রকিবও ব্যকুল হয়ে উঠেছেন।

সেওমা প্রসঙ্গে যুগান্তরকে রকিব বলেন, ‘সে খুব ভাল মেয়ে। তাকে খুব মিস করছি। যে মেয়ে আমাকে ভালবেসে সুদূর ব্রাজিল থেকে আমার কাছে ছুটে আসে তাকে কখনও ভুলতে পারব না।’

রকিবের বাবা আছকান উদ্দিন যুগান্তরকে জানান, ‘তার পুত্রবধূ সেওমা খুবই ভদ্র ও ভালো মেয়ে। প্রায় ২৯ দিন বাড়িতে থাকায় খুব ভাল লেগেছে। চলে যাওয়ায় মনটা খারাপ লাগছে।’